ভারত–পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সন্ত্রাস ও কাশ্মীর নিয়ে পাল্টাপাল্টি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভারত–পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সন্ত্রাস ও কাশ্মীর নিয়ে পাল্টাপাল্টি

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৬

ভারত–পাকিস্তান পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সন্ত্রাস ও কাশ্মীর নিয়ে পাল্টাপাল্টি

1a7251831c918413af81952cd0d50636-4222E3614CB111107C579687551808D7দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভালো করতে গেলে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে রাশ টানতেই হবে। ভারতের পাঞ্জাবের পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলার তদন্ত ও মুম্বাই হামলা মামলার যে অগ্রগতি হচ্ছে, প্রমাণ রাখতে হবে তারও। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরীকে গতকাল মঙ্গলবার এই কথা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্কর। অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আইজাজ আহমেদ চৌধুরী সম্পর্কের উন্নতির জন্য অন্যতম শর্ত করলেন কাশ্মীর ইস্যুকে।
হার্ট অব এশিয়া সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে এসেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব। নয়াদিল্লিতে মূল বৈঠকের বাইরে সাউথ ব্লকে দুই পররাষ্ট্রসচিবের মধ্যে পৌনে দুই ঘণ্টা দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেই আলোচনায় আইজাজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে গেলে জাতিসংঘের প্রস্তাব ও কাশ্মীরি জনগণের ইচ্ছার নিরিখে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।
ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে বারবার অন্তরায় সৃষ্টি করছে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের এই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠকেই ঠিক হওয়ার কথা ছিল, দুই দেশের যাবতীয় সমস্যা নিয়ে সার্বিক আলোচনা কীভাবে কবে কোথায় হবে। কিন্তু পাঠানকোট হামলা সেই পরিকল্পনা বানচাল করে দেয়। চার মাস পর গতকাল যে বৈঠকটা হলো, তা আগামী দিনে কীভাবে এগোবে সে বিষয়ে এখনই কোনো স্পষ্ট ধারণা কোনো পক্ষই দেয়নি। তবে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে খোলামেলা ও ইতিবাচক।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, গতকালের বৈঠকে দুই দেশই সেই বিষয়গুলোর ওপরই জোর দিয়েছে, যেগুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত। বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে এক বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে কাশ্মীর সমস্যার ‘ন্যায্য’ সমাধানের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বেলুচিস্তান ও করাচিতে ভারতীয় গোয়েন্দা শাখা ‘র’-এর কথিত যোগসাজশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ‘র’ এজেন্ট অভিযোগে ধৃত কুলভূষণ যাদবের প্রসঙ্গও তোলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব। তিনি বলেন, এ ধরনের কাজকর্ম সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে অন্তরায়। সমঝোতা এক্সপ্রেস বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার চেষ্টার খবরেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সেই ঘটনার বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়নি ভারত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের মধ্যে যোগাযোগের ফলে আস্থা বেড়েছে। এখন প্রয়োজন ঝুলে থাকা বিষয় নিয়ে সার্বিক সুসংহত আলোচনা। সেই আলোচনার জন্য এখন ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা।
পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মুহম্মদ নেতা মাসুদ আজহারকে জাতিসংঘে প্রস্তাব তুলেও চীনের বিরোধিতায় সন্ত্রাসী ঘোষণা করতে ভারত ব্যর্থ হয়েছে। গতকালের বৈঠকে আজহার প্রসঙ্গও ভারত তোলে। সচিব জয়শঙ্কর বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর সন্ত্রাসের প্রভাব ফেলার বিষয়টি পাকিস্তান বারবার অস্বীকার করতে পারে না।
কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্তারা দেখা করার অনুমতি চাইলেও পাকিস্তান এখনো তাতে রাজি হয়নি। জয়শঙ্কর গতকালের বৈঠকে প্রসঙ্গটির অবতারণা করলেও আইজাজ আহমেদ চৌধুরী কোনো আশ্বাস দেননি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র অনুযায়ী, আইজাজকে জয়শঙ্কর বলেছেন, কোনো গোয়েন্দা সংস্থাই তার এজেন্টকে নিজের পাসপোর্ট দিয়ে মাঠে রাখবে না। তার ওপর সেই পাসপোর্টে ভিসার ছাপ নেই।
দুই পররাষ্ট্রসচিবের এই বৈঠকের ইতিবাচক দিক এটাই যে, এত দিন যে আলোচনা বন্ধ ছিল, তা খোলার মতো পরিস্থিতি ফের শুরু হলো। দুই সচিবই এই ইতিবাচক বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছেন। কিন্তু এটাও ঠিক, দুই দেশ যখনই সম্পর্ক উন্নত করার পথে এগিয়েছে, তখনই কোনো না কোনো সন্ত্রাসী আক্রমণ সম্পর্কের পথে কাঁটা বিছিয়েছে।