ভাষার মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক শুভেচ্ছা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভাষার মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক শুভেচ্ছা

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

ভাষার মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক শুভেচ্ছা

ভাষার মাসে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ, সংশ্লিষ্টদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মুখে মুখে মাতৃভাষার চল থাকলেও লিখনে-পঠদানের সুযোগ পাচ্ছে না মৌলভীবাজারের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা। বেশির ভাগ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশু শিক্ষার্থীরা মাতৃভাষায় কথা বলতে পারলেও পড়তে-লিখতে পারে না। কয়েকটি জনগোষ্ঠীর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ে নিজস্ব ভাষার বই থাকলেও নেই নিজস্ব ভাষার শিক্ষক।

ফলে ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ৩১টি সম্প্রদায়ের প্রায় ৩১ হাজার মানুষ বসবাস করে। এর মধ্যে মণিপুরি, খাসি, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, মুন্ডা, উল্লেখযোগ্য। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এসব মানুষ সাধারণত পাহাড় ও টিলার পাদদেশ, বন কিংবা সমতল ভূমিতে বসবাস করে আসছে।

এ ছাড়া চা-শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অনেকেই। শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে তারা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিতে থাকলেও কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের মাতৃভাষা। রাষ্ট্রভাষা বাংলাকে আয়ত্তে নিয়ে মাতৃভাষা রপ্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে শিশুদের। তাই শিক্ষার্থীদের দাবি, বাংলার পাশাপাশি তাদের নিজস্ব ভাষাশিক্ষাকেও যেন রাষ্ট্র সমান গুরুত্ব দেয়। ২০১০ সালে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়।

তারপর প্রাক- প্রাথমিক পর্যায়ে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও সাদরি ভাষার পাঠ্যপুস্তক তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শুধু ত্রিপুরা ভাষার বই বিতরণ করা হয়। এই ১০ বছরে অন্য ভাষাগুলোর বই তেমন আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ সিলেট অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দেববর্মা বলেন, ‘ত্রিপুরা ভাষার বই আমাদের শিক্ষার্থীরা পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু এই ভাষা পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। শিক্ষকের অভাবে আমাদের ভাষার বইগুলো পড়ানো হয় না।

লাউয়াছড়া খাসিয়াপুঞ্জির মান্ত্রী (গ্রামপ্রধান) ফিলা পতমী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় আমাদের নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের বাংলা ভাষায় পড়ানো হচ্ছে। ফলে ছোটবেলা থেকেই তারা বাংলা ভাষা রপ্ত করছে। এ কারণে অনেকেই নিজেদের ভাষায় কথা বলতে পারলেও লিখতে পারে না। বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি জিডিশন প্রধান সুছিয়াং বলেন, শ্রীমঙ্গলে সরকারিভাবে শুধু ত্রিপুরাদের ভাষার বই পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছে। অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণ ও বইপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ না করার ফলে তা শুধু পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

জিডিশন প্রধান বলেন, খাসিয়াদের মাতৃভাষার বই না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁরা মেঘালয় থেকে বই এনে খাসিয়া শিক্ষার্থীদের দিচ্ছেন। যদি সরকার এই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার বইগুলো প্রকাশ করত, তাহলে সবকিছু সহজ হতো। মেঘালয় থেকে বই এনে বিতরণ করা খুবই কষ্টকর। এজন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, শ্রীমঙ্গলের সব ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে একটি বৃহৎ আকারে প্রতিষ্ঠান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের ভাষার বই ও অন্য সবকিছু থাকবে। এ জন্য এরই মধ্যে একটি জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, একটি ভাষাকে আমরা কখনো হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। এ ব্যাপারে আমরা আন্তরিক। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব যে ভাষা, সেটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই প্রতিষ্ঠান হলে ভাষাগুলো সংরক্ষিত হবে বলে মনে করি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল