ভুবন জয়ের হাসি হেসে কাঁদিয়ে গেলেন সবাইকে ..রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল

প্রকাশিত: ৮:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২১

ভুবন জয়ের হাসি হেসে কাঁদিয়ে গেলেন সবাইকে ..রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল

রুহুল আলম চৌধুরী উজ্জ্বল:
সুদর্শন, সুঠাম দেহী, সুশৃঙ্খল, সুবক্তা এই বিশেষন গুলোকে একান্ত নিজের করে নেয়া একজন সুশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব, একজন সফল উদ্যোক্তা, দক্ষ সংগঠক ও আদর্শ রাজনীতিবিদ শ্রদ্বেয় মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ লিখতে হবে তাও এত তাড়াতাড়ি ভাবতে পারছি না। মন এবং কলম কোনটাই যেন সায় দিচ্ছেনা। সেই হাসিমাখা মুখ,অসাধারণ বাচনভঙ্গি কিংবা পিঠ চাপড়ে উৎসাহিত করবে টা কে আমাদের? অসীম সাহস নিয়ে মহান সংসদে রাজাকার আলবদরও তাদের দোসর দের বিরুদ্ধে সিংহের ন্যায় গর্জে উঠা কয়েছ ভাইয়ের সাহস আর সততার সাক্ষী আছেন অনেকেই। আমিও তার বাইরে নই। আর তাই তার এই আকস্মিক চলে যাওয়ায় বাকরুদ্ধ হয়ছেন বন্ধু,সহকর্মী, সহযাত্রী, কর্মী,সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী, পরিচিত, অপরিচিত কিংবা চরম প্রতিপক্ষ। কয়েছ ভাইয়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রদ্বেয় সরওয়ার হুসেনের আর্তনাদ যেন থামতে চাইছে না। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী লিখেছেন ” ‘যেই ঘুম ভাঙে নাকো কোনদিন ঘুমাতে ঘুমাতে’।

শ্বাশত সত্যের, চিরশান্তির সেই অমোঘ ঘুমে বড় অবেলায় ঘুমিয়ে পড়লেন কয়েস ভাই! কয়েছ ভাইয়ের ধ্যান, জ্ঞান আর শ্রমের অংশীদারত্বের সংগঠন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ এডভোকেট লুৎফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পালন করছে ৩ দিনের শোক কর্মসূচি। অভিভাবক হারানোর বেদনায় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগ নিয়েছে সপ্তাহব্যাপী শোক কর্মসূচি। জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কয়েছ ভাইয়ের স্নেহধন্য মস্তাক আহমদ পলাশ লিখেছেন “সেই কবে, কখন, কিভাবে উনার সাথে আত্মার এক মেলবন্ধন হয়েছিল আমার তা বলা মুশকিল। একজন অনুজ হিসেবে ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক, সামাজিক যেকারণেই তার দারস্থ হয়েছি কখনোই ফিরিয়ে দেন নি। পিতার শাসন আর ভাইয়ের স্নেহ দিয়ে আমাদের আগলে রাখতেন কয়েছ ভাই। ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিকলীগের সভাপতি এম শাহরিয়ার কবির সেলিম আপ্লুত হয়ে লিখেছেন “ এত অল্প সময়ে এতো মায়ার একজন মানুষ চলে যাবেন ভাবতে পারছিনা। কয়েছ ভাইয়ের ভাব শিষ্য পিতৃস্নেহের ভাগ্য পাওয়া সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট সুয়েব আহমদ কাব্যশ্রু জড়িয়ে লিখেছেন “শুনেছি, সুর্য নিভে গেলে হয় সৌরলোকের লয়; সিলেটের সুর্য নিভে গেল আজ, আর কাহারও নয়। সিলেটী ছাড়া কি হারালো কেহ বুঝিবেনা আর, সিলেট ছাড়া এ পৃথিবীতে এত উঠিবে না হাহাকার।

অমিত বাবুর অনুরোধে লিখছি আর ভাবছি এই ক্রন্দন রোল থামবে কি? এইতো সেদিনই সুয়েব ভাইর মারফতে কয়েছ ভাইয়ের তলবে গিয়েছিলাম মতিঝিলের বাসায়। হাসি মাখা মুখ নিয়ে কাছে বসিয়ে শোনালেন কবিতা, গান। বললেন তার জীবনের চরম চড়াই-উতরাইয়ের গল্প। ৬৮ সনের ছাত্রলীগের রাজনীতি, বিলাতের উচ্চশিক্ষা, ক্রীড়াবিদ হওয়ার গল্প , ব্যাবসা, রাজনীতি, জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্নেহসহ বাদ যায়নি ২৮ ডিসেম্বরের কোর্ট পয়েন্টর বীরত্ব গাঁথা। জানা অজানা অনেক তথ্য জানিয়ে স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বললেন “ Mr Chowdhury my brother,  remember you still have a long way to walk. Its just the beginning and i know that,  you have the patience and ability. My good wishes are always with you.সেদিন বিদায়বেলায় কদমবুসি করেছিলাম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়। এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছিলেন যা আপনজন আর অভিভাবক ছাড়া কারো কাছে প্রত্যাশা করা অসম্ভব। আর কিছু কথা থাকুক অব্যক্ত। যা আমার একান্ত নিজের। অন্য অনেকের মত আমার হৃদয়ে নিজস্ব একটা যায়গা করে নেয়া কয়েছ ভাইদের মৃত্যু নেই। আপন কর্মে চিরস্মরণীয় কয়েছ ভাই তাইতো বিদায় বেলায় হাসেন ভুবন জয়ের হাসি।

লেখক : ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক সিলেটের দিনকাল।