ভুল পথে হাঁটছে বাংলাদেশ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভুল পথে হাঁটছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মে ৬, ২০২০

ভুল পথে হাঁটছে বাংলাদেশ

মতিউর রহমান চৌধুরী

সরকারি রিপোর্টে আশঙ্কা করা হয়েছে করোনা মহামারিতে এক লাখ মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। জাতিসংঘের আশঙ্কা ঢের বেশি। এ নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কেউ কেউ হয়তো একমত হবেন। অনেকে উড়িয়ে দেবেন। যদিও শাসক দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার ফেসবুক পেজে নানা ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন। সবশেষ তিনি বলেছেন, জনগণ সচেতন না হলে বিধ্বংসী হতে পারে এই পরিস্থিতি। জনগণের ওপর সব দোষ চাপিয়ে দিলে তো হবে না।

আপনারাই তো একদিকে ছুটি বাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে সবকিছু খুলে দিচ্ছেন। এই স্ববিরোধিতার মধ্যে জনগণ যাবে কোথায়? এটা নতুন কি!
শুরু থেকেই আমরা সমন্বয়হীনতা দেখে চলেছি। যেদিন বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়ালো সেদিন আমরা সবাইকে অবাক করে দিয়ে শর্ত সাপেক্ষে দোকানপাট খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানালাম। অথচ মসজিদে নিষেধাজ্ঞা জারি রাখলাম। হাটবাজার শর্ত দিয়ে হয়! এটা অবশ্য নতুন এক পরীক্ষা। যে দেশের মানুষজন সহজে আইন মানতে চায় না সে দেশে শর্ত মানবে? তাছাড়া শর্ত দিয়ে তো কাউকে দায়িত্বশীল করা যায় না। এটা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে, নিরাপদ দূরত্বে বসে শুধু চিন্তা করা যায়। বাস্তব কিন্তু অন্য। ১০ই মে এখনো আসেনি। এর আগেই বদলে গেছে ঢাকা। গণপরিবহন ছাড়া অন্য সব যানবাহন রাস্তায়। ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব নেয়ার সময় এসে গেছে। ছুটি শিথিল করার খবর প্রচারের পর গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখে অনেকেই হতবাক হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। আগের লেখায় বলেছিলাম, আমরা টাইম বোমার ওপর বসে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। কিন্তু একবারও ভাবিনি ঈদের কথা বলে এভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নতুন এক পরীক্ষার মধ্যে আমাদের পড়তে হবে। বেঁচে থাকলে অনেক ঈদ আসবে। আমরা সবাই জানি একজন আক্রান্ত হলে গোটা পরিবারের ওপর নেমে আসে অন্ধকার। কেউ কেউ বলছেন এই ভাইরাস দীর্ঘদিনের অতিথি। সরকার যাবে কোথায়? দীর্ঘ ছুটি দিয়ে মানুষজনকে ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হতে চলেছে। ত্রাণের দাবিতে জেলায় জেলায় মিছিল হচ্ছে। পোশাক খাতে অশনি সংকেত। রেমিটেন্সে বড় ধরনের ধস। চারদিকে অস্থিরতা। সরকার এখানে করবে কী! এই যুক্তি একবাক্যে উড়িয়ে দেয়ার নয়। কিন্তু সরকারকে তো আরো অনেক কিছু ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আজকের নয়, দূর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। এই অদৃশ্য ভাইরাসের তো কোনো রঙ নেই। লাখ লাখ মানুষ যদি এতে আক্রান্ত হয়ে যায়? ইতিমধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তখন কী হবে? নাকি দেখা যাক কি হয় এই নীতি বেছে নেয়া হয়েছে। যে বাঁচে, বাঁচবে এই নীতি নিশ্চয় নয়! সমালোচকরা অবশ্য বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে মানুষজন রাস্তায় নেমে পড়বে এমন আশঙ্কা থেকেই এ পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। যে পথ বাংলাদেশের জন্য নয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশে বিপদ আসতে পারে অঙ্কের হিসাব ভুল প্রমাণিত করে। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের একটি ছবি এঁকেছেন। এতে চারটি রূপকল্পের কথা বলা হয়েছে। তার মতে, ক্রমান্বয়ে বাংলাদেশ একটি নিবর্তনমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে প্রচলিত ক্ষমতাবান ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠানের প্রাধান্য একচ্ছত্র হবে। আমরা সদাশয় কর্তৃত্ববাদী সরকার দেখতে পারি। বিকাশমান আর্থ-সামাজিক শক্তির রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে। বাস্তব এক চিত্র ফুটে উঠেছে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের চার রূপকল্পে। দেখা যাক এ নিয়ে নানা মত আসতে পারে। আমরা তো খোলা মত, পথই চাই। যদিও এই করোনার মধ্যেও মত প্রকাশে পুরনো কৌশলই দেখতে পাচ্ছি। আরেক অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এই সংকটকালে সঠিক তথ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যমের তাগিদ অনুভব করেছেন। যেটা আমরা সাংবাদিকরা এখনো করিনি। যাই হোক শেষ করতে চাই চার্লি চ্যাপলিনের একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে- এই পৃথিবীতে কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। সবারই একদিন বিনাশ হবে। করোনাও একদিন বিদায় নেবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •