ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম ও ফেনীতে হেলে পড়েছে ১০টি ভবন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম ও ফেনীতে হেলে পড়েছে ১০টি ভবন

প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৬

ভূমিকম্পে চট্টগ্রাম ও ফেনীতে হেলে পড়েছে ১০টি ভবন

305a337f6beec2c5e5786cdcf488aecd-Chittagong-04চট্টগ্রামে ও ফেনীতে ভূমিকম্পে অন্তত ১০টি ভবন হেলে পড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে নয়টি ও ফেনীতে একটি। বুধবার রাত সাতটা ৫৫ মিনিটে প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও, হালিশহর আবাসিক এলাকা এবং লাভলেইন ঝাউতলা, জুবিলি রোড, জিইসি মোড়, সাগরিকা, রহমতগঞ্জ এলাকায় ভবনগুলো হেলে পড়ে। ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়িতে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ২১ জন চিকিৎসাধীন আছেন।
ভূমিকম্পে কোতোয়ালি থানাধীন আমতল এলাকায় সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্স ভবনটি হেলে পড়েছে। ছবিটি বুধবার রাতে তোলা। ছবি: জুয়েল শীল।বুধবার রাতে দুদফায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কম্পনের ধাক্কায় ঘরবাড়িগুলো থরথর করে কাঁপছিল। বিভিন্ন ভবন থেকে দৌঁড়ে লোকজন নিচে নেমে আসতে থাকেন। চট্টগ্রাম নগরের মিমি সুপার, আফমি প্লাজা, কল্লোল সুপার, নিউ মার্কেট, সানমার ওশানসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানের লোকজন প্রধান সড়কে অবস্থান নেয়। এ সময় নগরের সড়কগুলোয় যান চলাচল কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বি-ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের ৫৩৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের ছয়তলা ভবনটি পশ্চিমে প্রায় এক ফুট হেলে গেছে। ভবন থেকে লোকজনকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আবু মো. শাহজাহান কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘৫৩৮ নম্বর বাড়িতে ১০টি পরিবার বসবাস করে। বাড়ির নিচতলা গাড়ি রাখার গ্যারেজ। ভূমিকম্পে বাড়িটি প্রায় এক ফুট পশ্চিম দিকে কাৎ হয়ে গেছে। আমরা হেলে পড়া বাড়ি থেকে সবাইকে বের করে দিচ্ছি।’
এদিকে কোতোয়ালি থানাধীন আমতল এলাকায় সিদ্দিক শপিং কমপ্লেক্সের সাততলা ভবনের ছাদ পার্শ্ববর্তী বি এম মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেটের আটতলা ভবনের ছাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। এর অদূরে ১৭৫ জুবিলি রোডের এবি ব্যাংকের পাঁচতলা ভবনটি পাশের তিনতলা ভবনের ছাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। আতঙ্কিত লোকজন ওই চারটি ভবন দেখার জন্য গতকাল রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত সেখানে ভিড় করছিলেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, জুবিলি রোডের দুটি ভবন আগে থেকে যুক্ত ছিল বলে স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছেন। এ ছাড়া আমতল এলাকার দুটি বিপণিবিতানের ছাদ যুক্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বৃহষ্পতিবার সিডিএ প্রকৌশলীদের ডেকে হেলে পড়া ভবনগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাব।’
নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় বিবেকাননন্দ নামের একটি কিন্ডারগার্টের স্কুল হেলে পাশের ভবনে যুক্ত হয়ে গেছে। রহমতগঞ্জের এক বাসিন্দা জানান, স্কুলটি চারতলা ভবনের। প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে ভবনটি পার্শ্ববর্তী আরেকটি ভবনের ছাদের কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে আবাসিক ভবনটির বাসিন্দারা ভয়ে আছেন।ভূমিকম্পে কোতোয়ালি থানার ১৭৫ জুবিলি রোডের এবি ব্যাংকের পাঁচতলা ভবনটি হেলে পড়েছে। ছবিটি বুধবার রাতে তোলা। ছবি: জুয়েল শীল।
নগরের মোমিন রোডের ঝাউতলা এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন হেলে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনটি পাশের আরেকটি ভবনের ওপর লেগে গেছে।
নগরের জিইসি মোড়ে পাঁচতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ পাশের ছয়তলা ভবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। হেলে পড়া ভবনে লোটো ও এপেক্স নামে জুতা কোম্পানির শো রুম রয়েছে।
আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক এম এ মালেক জানান, নগরের হালিশহর বি-ব্লক আবাসিক এলাকায় পাঁচতলা এবং সাগরিকা শিল্প এলাকায় পাঁচতলা বিশিষ্ট একটি পোশাক তৈরি কারখানার ভবন হেলে গেছে। ঘটনাস্থলে ফায়ারব্রিগেডের সদস্যরা গেছেন।
এদিকে ভূমিকম্পের সময় হুড়োহুড়িতে ইপিজেড এলাকার বিভিন্ন কারখানায় কমপক্ষে ৩০জন শ্রমিক আহত হন বলে জানিয়েছেন ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম। আহত শ্রমিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বায়েজিদের আরেকটি পোশাক তৈরির কারখানায় হুড়োহুড়ি করার সময় কমপক্ষে আটজন আহত হন। তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসা দিতে আনা হয় বলে হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। বায়েজিদের আটজন মোট ২১ জন চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন।
ফেনী: প্রথম আলোর ফেনী অফিস জানায়, ফেনীতে ভূমিকম্পের কারণে পৌর এলাকার সুলতানপুর গ্রামে একটি চারতলা ভবন অপর একটি পাঁচতলা ভবনের ওপর হেলে পড়েছে।
ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ ভবনটি হেলে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হেলে পড়া ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভবনে থাকা আটটি পরিবারকে তাৎক্ষণিক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।