ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছাড়তে মাইকিং – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছাড়তে মাইকিং

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৬

ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ছাড়তে মাইকিং

city‘নিরাপত্তার জন্য জানানো যাচ্ছে যে এই বাসা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বসবাস করা মোটেই নিরাপদ নয়। যাঁরা বসবাস করছেন, জানমাল রক্ষার স্বার্থে সত্ত্বর বসবাস গুটান…।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এভাবেই হ্যান্ডমাইকে প্রচারণা চালিয়ে একটি বাড়ির ফটকে নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। তাতে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে আজ বুধবারের মধ্যে ভবনের বাসিন্দাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। নইলে কাল বৃহস্পতিবার বাড়িটি ভাঙার উদ্যোগ নেবে কর্তৃপক্ষ।

তিনতলা এ বাড়িটি হচ্ছে নগরের তাঁতীপাড়ায়, বাড়ির নম্বর ৯। এর নিচতলায় রয়েছে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় থাকেন ভাড়াটিয়ারা। সেখানে ছয়টি পরিবারের বসবাস। সিটি করপোরেশন নোটিশ দেওয়ার পর বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

শুধু তাঁতীপাড়ার এই বাড়ি নয়, ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা নগরের এ রকম ৩২টি ভবন চিহ্নিত করেছে সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি বিপণিবিতান ও একটি বাড়িতে মাইকযোগে প্রচারণা চালানো হয়।

৩২টি ভবনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তাঁতীপাড়ার তিনতলা এই বাড়িটি। গতকাল দুপুরে সিটি করপোরেশনের একটি দল ওই বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে ও মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে প্রথম দফা ভূমিকম্পের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে নগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করা হয়। এতে ৩২টি ভবনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে বিপণিবিতানও রয়েছে। ভবনগুলো ভেঙে দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়ার পর বেশির ভাগ ভবনের মালিকই সিটি করপোরেশনের কাছে সময় চেয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ১৩ এপ্রিলের ভূমিকম্পের পর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে তৎপর হয়। রোববার থেকে সোমবার দুই দিন ফের চিঠি দিয়ে গতকাল মাইকযোগে প্রচারণা চালানো হয়। তাঁতীপাড়ার বাড়িটি ছাড়াও সিটি সুপার মার্কেট ও মধুবন সুপার মার্কেট কর্তৃপক্ষকে ভবন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলেন, ‘আমরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোকে নোটিশ করেছি। তাদের সময়ও বেঁধে দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে তারা নিজেরা ভবনগুলো না ভাঙলে আমরাই অভিযান চালিয়ে ভেঙে ফেলব। এর মধ্যে তাঁতীপাড়ার বাসাটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হওয়ায় কাল বৃহস্পতিবার ভেঙে ফেলা হবে বলে দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে।’

তাঁতীপাড়ার ৯ নম্বর বাড়িটির মালিক রিপন আহমদ। গতকাল সিটি করপোরেশন প্রচারণা চালানাঁর পর ওই বাড়িতে গিয়ে মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকজন ভাড়াটে বলেন, তাঁরা সেখান থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক ভাড়াটে বলেন, মাস তিনেক আগে সিটি করপোরেশন থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরপরই মালিক বাড়ির জায়গা বিক্রির জন্য সাইনবোর্ড সাঁটিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল