ভূমিখেকোদের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানব বন্ধনে এলাকাবাসীর ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভূমিখেকোদের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানব বন্ধনে এলাকাবাসীর ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৬

ভূমিখেকোদের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে মানব বন্ধনে এলাকাবাসীর ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

DSC_0092 copy৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, রোববার : সিলেট সদর উপজেলার ৪ নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের বিআইডিসি বাজারে স্থানীয় এলাকাবাসী আয়োজিত ভূমিদস্যু চক্রের প্রধান খন্দকার আনোয়ার হোসেন ওরফে মামা খন্দকার ও সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো.মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে (৪ সেপ্টেম্বর) রবিবার মানব বন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বী মনজুরুল ইসলাম মজনু’র সভাপতিত্বে ও আইনুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্যে রাখেন ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এডভোকেট আফসর উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্যে রাখেন বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ আনোয়ার হোসেন, সুহেল আহমদ, মুজিবুর রহমান, লিটন আহমদ। আরো বক্তব্যে রাখেন শাহপরাণ থানা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির মিয়া, শামীম আহমদ হারুনুর রশিদ, ফারুক মিয়া, সুহেল আহমদ, আলম মিয়া, রফিক মিয়া, খলিলুর রহমান, নজরুল ইসলাম,সুমন চক্রবর্তী, আলাউদ্দিন, প্রাণ কৃষ্ণ রায়, রেহেনা বেগম, রোকসানা বেগম, রোহেলা বেগম, সুচিত্র চক্রবর্তী, সিজান চন্দ্র ভূমিক, রোজি আক্তার, রেবেন্দ্র কর, গোপাল রায়, সাজন আহমদ, কালাম আহমদ, নাজমা বেগম প্রমুখ।
DSC_0070মানব বন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন সিলেট সদর উপজেলার শাহপরাণ (র.) থানাধীন বহর পশ্চিম এলাকার নিরীহ ভারত নির্বাসিত মোহাজির ও ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা ১১০টি পরিবারের লোক। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর আমাদেরকে বর্তমান ভারত থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে ১৯৬৪ সালে জাতিসংঘের ত্রান কমিশন (ইউএনএইচসিআর)-এর আর্থিক সহায়তায় দেশের ত্রান ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং সিলেট জেলা প্রশাসন আমাদেরকে ঐ এলাকায় পুনর্বাসন করে। তখন থেকেই আমরা বংশানুক্রমে সিলেট সদর উপজেলার বহর পশ্চিম মৌজায় সরকারী ১নং খাস খতিয়ানের ১৪২ দাগের ভূমিতে বসবাস করে আসছি। পাশপাশি আমরা নিজ উদ্যোগে ঐ এলাকায় স্কুল-মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্টা করে তা পরিচালনা করছি এবং গাছপালা লাগিয়ে এলাকায় বনায়ন ও উন্নয়ন করি। কিন্তু স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলাসহ নানাভাবে আমাদেরকে এলাকাচ্যুত করে সরকারী খাস খতিয়ানের ভূমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। ঐ ভূমিদস্যু চক্রের প্রধান খন্দোকার আনোয়ার হোসেন ওরফে মামা খন্দোকার এবং তার প্রধান সহযোগী হচ্ছেন সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো.মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী। মামা খন্দোকার ও মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী নানা জাল-জালিয়াতি ও প্রতারনা এবং হামলা-মামলার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ঐ এলাকায় বহু ভূমি গ্রাস করে বসেছেন। পরবর্তীতে তাদের শ্যান দৃষ্টি পড়ে আমাদের ভোগদখলীয় সরকারী খাস খতিয়ানের ভূমির উপর। তারা অসহায় মুহাজির ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে বহর পশ্চিম মৌজার সরকারী ভূমি দখল করে নিতে মারয়া হয়ে উঠেছেন। এর আগেও তারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরেনের মিথ্যে ফৌজদারী মামলা দিয়ে আমাদেরকে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করতে ব্যর্থ হন। এবার আমাদের মত অসহায় মুহাজির ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর বিরুদ্ধে সূত্রেবর্নিত আরেকটি সাজানো ডাকাতি মামলা দিয়েছেন। প্রকৃত পক্ষে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মুজাহিদ চৌধুরীর বাসায় কোন ডাকাতিই সংঘটিত হয়নি। মো.মুজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী ও তার সহযোগীরা আমাদের পরিবারের পুরুষদের গ্রেফতার ও জেলে পাঠিয়ে বাসাবড়ি থেকে নারী-শিশুদের জোরপূর্র্বক তাড়িয়ে সরকারী খাস খতিয়ানের ঐ ভূমি দখলে নেয়ার হীন মানসেই এ মামলা সাজিয়েছেন। ঘটনাটি আদৌ কোন ডাকাতি নয় এবং প্র্থামিক তদন্তে পুলিশ ডাকাতির কোন আলামত বা প্রমানই পায়নি। বেশী থেকে বেশী চুরির ঘটনাই পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু মামলার বাদী সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে সাজানো এ ঘটনায় নিরীহ মানুষদের বিরুদ্ধে ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় ডাকাতি মামলা নিতে থানা পুলিশকে বাধ্য করেছেন। মূলত মামলার বাদী মোজাহিদ উদ্দিন চৌধুরী বাসায় একাকী থাকার সুযোগে জানালার গ্যীল কাটিয়ে নিজে থেকেই অজ্ঞান হয়েই এ মিথ্যে মামলা সাজিয়েছেন। ডাকাতরা বাসায় থাকা একা একজন লোককে ¯েপ্র মেরে অজ্ঞান করে ডাকাতি করা হাস্যকর বৈ কিছু নয়। ডাকাতির যে সব আলামত ও উপাদান রয়েছে এর কোনটাই এ ঘটনায় ও মামলার এজাহারে নেই। তদুপরি থানা পুলিশ প্রভাবিত হয়ে সকল প্রকার নীতি ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে এ মামলা রুজু করেছে। মামলার বাদী সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদতালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ায় আদালত থেকেও আমাদের পুরুষদের জামিন পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হওয়ায় থানা পুলিশের মত আদালতকেও প্রভাবিত করতে পারেন। এ অবস্থায় আমরা মুহাজির ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো চরম অসহায় হয়ে আপনার শরনাপন্ন হয়েছি।সাজানো ষড়যন্ত্র মিথ্যা মামলা যদি আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হয় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল