ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য শহীদ তালেবের স্মৃতিস্তম্ভ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য শহীদ তালেবের স্মৃতিস্তম্ভ

প্রকাশিত: ৫:০৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২০

ভেঙে পড়ার আশঙ্কা সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য শহীদ তালেবের স্মৃতিস্তম্ভ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: বিজয় নিশান হাতে নিয়ে দৌঁড়ে আসছেন যোদ্ধা। সুনামগঞ্জের স্টিলের তৈরি দৃষ্টিনন্দন এই স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তালেব উদ্দিনের স্মৃতিতে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ঐতিহাসিক আহসান মারা ব্রিজসংলগ্ন এ স্মৃতিস্তম্ভটিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিলেও মেরামতের কোনো পদক্ষেপ নেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে স্মৃতিস্তম্ভটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, শহীদ তালেবের এ স্মৃতিস্তম্ভ ২০১৫ সালে বাস্তবায়ন করেছিল সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বতর্মান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবীর ইমন। জেলায় আগত অনেক পর্যটক এই স্মৃতিস্তম্ভটিতে এসে ছবি তুলেন এবং সময় পার করেন। এছাড়াও জেলায় বাস, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাওয়া ও আসার সময় মানুষজন দেখে মুগ্ধ হন। কিন্তু বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় দৃষ্টিননন্দন এ স্মৃতিস্তম্ভ দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৭ নভেম্বর পাকসেনাদের আক্রমণে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে পাশের গোধীগাঁও, নৈদেরখামার ও মীরেরচর এলাকায় এসে অবস্থান নিয়ে পাকসেনাদের সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তালেব উদ্দিন সেখানে আটকা পড়েন। পরে পাকবাহিনী সুনামগঞ্জ ছেড়ে যাবার সময় (৬ ডিসেম্বর ১৯৭১) সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের আহসানমারা এলাকায় তালেব উদ্দিন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কৃপেন্দ্র দাস ও একজন বাগান শ্রমিককে এক রশি দিয়ে বেঁধে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে নদীতে ফেলে যায়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল