ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন বিদিশা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন বিদিশা

প্রকাশিত: ১:৫০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৭

ভোটে দাঁড়াতে চাইছেন বিদিশা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা। তবে কোন দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন সেটি এখনই খোলাসা করতে চান না তিনি।

শুক্রবার মুঠোফোন সাক্ষাৎকারে ঢাকাটাইমসকে এসব কথা জানান বিদিশা। সন্ধ্যায় কথা বলার সময় তিনি ছিলেন ঢাকার বাইরে নিজের শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে। ময়মনসিংহ মেডিকেলে ৩৫ বছর পর তার বন্ধুদের কাছে পেয়ে মাতিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিদিশা। ফিরে গিয়েছিলেন সেই উচ্ছল দিনগুলোতে।

বিদিশা বললেন, ‘আমি হারিয়ে গেছি সেই ৩৫ বছর আগের জীবনে। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ আর উচ্ছ্লতায় মেতে উঠেছি। এখন কি আর সাক্ষাৎকার দেয়া যায়?’

তবে পরে বিদিশা কথা বলেন তার বর্তমান কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচনের ভাবনা নিয়ে। জানান, নিজের নামে গড়া ফাউন্ডেশন আর ব্যবসা বাণিজ্য নিয়েই এখন তার জগৎ।

ছেলে এরিকের সঙ্গে দেখা হয় কি না এমন প্রশ্ন করতেই বললেন, ‘মায়ের সঙ্গে ছেলের দেখা হবে না! এটা কী হয়! অবশ্যই দেখা হয়। নিয়মিতই দেখা হয়।’

-এরশাদ কি এতে বাধা দেন?

-‘কেন দেবেন বাধা। বাবা এবং মা উভয়ের কাছেই থাকে ছেলে এরিক। সবারই অধিকার আছে ছেলেকে দেখার এবং পাওয়ার। সে ক্ষেত্রে কেন বাধার প্রশ্ন আসবে। আমার ছেলের সঙ্গে সারাক্ষণই আমার যোগাযোগ হয়, দেখা হয়।’

-আপনি তো রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন।

‘হ্যাঁ, আমি রাজনীতিতে সক্রিয় হব। আর রাজনীতি করলে তো নির্বাচনে অংশ নেবই। তবে কোনো দল থেকে আমি নির্বাচন করব সেটি এখনই বলব না। সময়ই বলে দেবে সব।’

-এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?

-এখন আমি আমার নিজের ব্যবসা এবং ফাউন্ডেশন নিয়েই ব্যস্ত আছি। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডও করছি। আমি ডিজাইনিংয়ের কাজও করছি। সব মিলিয়ে আমার সময় এখন বেশ ব্যস্ত যাচ্ছে।

বিদিশা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে ইংরেজ স্বামীকে তালাক দিয়ে বিয়ে করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। পরে জাতীয় পার্টির মিডিয়া সেন্টার স্থাপন এবং প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে দেশব্যাপী ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা চালান তিনি।

তবে হঠাৎ এরশাদের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় বিদিশার। এরপর ‘বিদিশা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলে ‘নারী মুক্তি দেশের শক্তি’ স্লোগান নিয়ে কাজ করছেন। ফেসবুকে তার অসংখ্য ফলোয়ার।

গত বছর হঠাৎ বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইফতার পার্টিতে বিদিশার উপস্থিতি আবার আলোচনা তৈরি করে। কানাঘুষা শুরু হয় তিনি আবার রাজনীতিতে নামছেন কি না।

২০০৫ সালে সংসার ভেঙে গেলেও ছেলে এরিকের সূত্র ধরে বিদিশা ও এরশাদের মধ্যে এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই বারিধারার এক প্রবীণ আইনজীবীর বাসায় এরিককে দেখতে যান বিদিশা। বিদিশার সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলেও এইচ এম এরশাদ স্ত্রী রওশনকে প্রেসিডেন্ট পার্কের ফ্লাটে তোলেননি। তখন থেকে রওশন ও এরশাদ পৃথক বাসায় বসবাস করছেন।

১৯৯৮ সালে এরশাদের সঙ্গে গোপনে বিয়ে হয় বিদিশার। পরে ছেলে এরিকের প্রথম জন্মদিনে এরশাদ বিদিশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তোলেন। এরপর জাতীয় পার্টি পুনর্গঠনে কাজ করেন বিদিশা। সে সময় কেন্দ্র থেকে শুরু করে শেকড় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক।

পরে এরশাদের সম্পত্তি নিয়ে এইচ এম গোলাম রেজার সঙ্গে বিরোধের কারণে এরশাদের সংসারে কোণঠাসা হয়ে পড়েন বিদিশা। তার পরিণতি ২০০৫ সালে নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে দাম্পত্য জীবনের অবসান। এরপর বিদিশা গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী। মুক্তির পর ছেলে এরিক এরশাদকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ তৈরি হয়। পরে দুজন সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় বিদিশা ছেলে এরিককে এরশাদের হাতে তুলে দেন। কিন্তু বিদিশা যে শর্তে এরিককে এরশাদের হাতে তুলে দেন এরশাদ সে শর্ত ভঙ্গ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এরিককে নিয়ে আদালত পর্যন্ত যেতে হয় তাদের। আদালতের নির্দেশমতো এরিক সেই থেকে এখনো এরশাদ ও বিদিশার কাছে ভাগাভাগি করে থেকেই বড় হচ্ছে।