ভোট উৎসবে মেতেছে সিলেটের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভোট উৎসবে মেতেছে সিলেটের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ৬:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০১৮

ভোট উৎসবে মেতেছে সিলেটের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করে লিফলেট, পোস্টার, ক্যাম্পেইন সবই হয়েছে। স্কুলে-ঘরে জাতীয় নির্বাচনের আদলে বসানো হয়েছে গোপন বুথ। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে প্রার্থীদের নামে নামে। শুধু তাই নয়, রঙ বেরংয়ের কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো বিদ্যায়ল অঙ্গণ। দেয়ালে সাঁটানো নানা বাক্য সম্বলিত পোস্টারও।

নির্ধারিত সময়ে খুলে দেওয়া হয় ভোট কক্ষ। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় সুশৃঙ্খল ভোটাররাও। বাঁশি আর লাঠি হাতে নিয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে ক্ষুদে স্বেচ্ছাসেবকরাও।

এভাবেই ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে যারা ভোট দিতে দাঁড়িয়েছে তারা বিদ্যালয়েরই তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রী।

শনিবার সিলেটের সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন। এতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবে সাতজন কাউন্সিলর। এ সাত কাউন্সিলরের নেতৃত্বেই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পরবর্তীকালে তাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সকালে জৈন্তাপুর উপজেলার নয়াখেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষুদে ভোটারদের ভোটগ্রহণের জন্য ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। এজন্য আগে থেকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার সবই। নিরাপত্তার দায়িত্বেও নিয়োজিত রয়েছেন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়া একদল স্বেচ্ছাসেবি। শিশুদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

নগরীর জিন্দাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা ছাত্রছাত্রীরা জানায়, বড়দের মতো তারাও নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। এ প্রতিনিধিরাই স্কুলে তাদের সুবিধা অসুবিধার দেখভাল করবে। জীবনের প্রথম ভোট দিতে পেরে তারা খুবই খুশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা সৃষ্টি হবে। তাদের মাঝে নেতৃত্বের বিকাশ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা তৈরি হবে। এতে শিশুর মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।