ভয়াবহ জ্বালানি তেল সংকটে সিলেট – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

ভয়াবহ জ্বালানি তেল সংকটে সিলেট

প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২১

ভয়াবহ জ্বালানি তেল সংকটে সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক : আমাদের আর যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। জেলা প্রশাসনসহ সবার সাথে একাধিকবার বৈঠক করে সহায়তায় চেয়েছি। কিন্তু আমরা সহায়তা পাইনি। পাম্প খোলে রাখে কাস্টমারদের মার খাওয়ার চেয়ে পাম্প বন্ধ রাখাই ভালো। আমরা যৌক্তিত দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি কিন্তু কোন সহযোগীতা পাচ্ছি না। চট্টগ্রাম থেকে তেল আসায় ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চাহিদার তুলায় একেবারে কম তেল দেয়া হচ্ছে সিলেটে। জেলা প্রশাসনের অনুরোধ আমরা রেখেছি বলেই পূর্বে আন্দোলন স্থগিত করে রেখেছি এবার আর তা হবে। রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে তেলের সমস্যা সমাধান করার পাশাপাশি সিলেটের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন শুরু না করলে আমরা আন্দোলনে নামবো। আক্ষেপের সাথে কথাগুলো বলে গেলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী। জানা যায়, বেড়েই চলছে জ্বালানি তেলের সংকট। চট্টগ্রাম থেকে নিয়মিত ওয়াগন না আসায় সিলেটে তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায় সংকট নিরসনে প্রশাসনকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন সিলেটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। এই সময়ের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আগামী রবিবার থেকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্পে লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ৫ লাখ লিটার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের চাহিদা রয়েছে। আগে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে উত্তোলিত কনডেনসেট (উপজাত) এখানকার সরকারি শোধনাগারে পরিশোধন করে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু গেল প্রায় ৫ মাস ধরে বিএসটিআইর নির্ধারিত মানসম্পন্ন জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এই অজুহাতে সিলেটের সব রাষ্ট্রীয় শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর সিলেট থেকে কনডেনসেট পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শোধনাগারে। তাই এখন জ্বালানি তেলের জন্য সিলেটের ব্যবসায়ীদের চট্টগ্রাম নির্ভর হয়ে থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, মানসম্পন্ন জ্বালানি তেল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এমন অজুহাতে সিলেটের রাষ্ট্রীয় সব শোধনাগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও তারা আমাদের কথা রাখেননি। এমনকি তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। আমাদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় সময় নিয়েছিলেন সমস্যা সমাধান করার। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। সমস্যা রয়ে গেছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে আমাদের বক্তব্য জানিয়ে দিয়েছি যে, আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে সিলেট বিভাগের তেলের যে সংকট রয়েছে তা সমাধান না হলে এবং সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন শুরু না করলে লাগাতার ধর্মঘট চলবে। তিনি আরও বলেন, সিলেটে ডিজেল সরবরাহ ওয়াগননির্ভর হওয়ায় প্রায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। এছাড়া সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকায় সংকট কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। সিলেটে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্বে সাপ্তাহে ৩ রেক তেল আসলেও এখন আসে ১ রেক তেল। যা সিলেটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সিলেটের চাহিদা সাড়ে ৫লাখ লিটার তেল সিলেট বিভাগে। এরমধ্যে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে বিতরণ করা হয় প্রায় ১লাখ লিটার তেল। সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে একটি চক্র। তেল বিক্রি না করায় এই গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার তেল নষ্ট হচ্ছে। অথচ বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তার মান আরও নিম্নমানের। জুবায়ের আহমদ জানান, জ্বালানি তেলের সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল গতকাল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেছে। সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন না হলে আগামী রবিবার থেকে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্পে লাগাতার ধর্মঘট শুরু হবে। জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন ডিজেল, পেট্রোল, অকেটন ও কেরোসিনের চাহিদা রয়েছে প্রায় ৫ লাখ লিটার।