মওদুদ হত্যা : সিলেটের রাজপথে ব্যাংকাররা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মওদুদ হত্যা : সিলেটের রাজপথে ব্যাংকাররা

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

মওদুদ হত্যা : সিলেটের রাজপথে ব্যাংকাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক ::ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমদকে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেছেন সিলেটের ব্যাংকাররা। এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আন্দোলনে রাস্তায় নেমে এসেছেন তারা। মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এই দাবিতে মানববন্ধন করেন ব্যাংকাররা। এতে বিভিন্ন ব্যংকের দুইশতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন।

সিলেটের সর্বস্তরের ব্যাংক কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ, ব্যাংক কর্মচারী ফেডারেশন, অগ্রণী ব্যাংক কর্মচারী সংসদ, সোনালী ব্যাংক, তরুণ পেশাজীবি সমিতি ও অগ্রণী ব্যাংক অফিসার্স সমিতি সিলেট এরকম কয়েকটি সংগঠন এই মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব, নাট্য সংগঠক শামসুল বাসিত শেরো, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম এই মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে ব্যাংক কর্মকর্তাকে হত্যার বিচার দাবি করেন।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, মওদুদ হত্যার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে একজন কর্মকর্তা পিটিয়ে হত্যা এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে না পারা পুলিশের উদাসীনতাই প্রকাশ পায়।

বক্তারা বলেন, মওদুদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত ও এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। একইসঙ্গে ব্যাংকারদের নিরাপত্তারও দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের নৈরাজ্য চলছে। এই নৈরাজ্য ও দৌরাত্ম বন্ধ করতে হবে। নতুবা আরও অনেককে এভাবে প্রাণ দিতে হবে।

এরআগে সোমবারও একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন ব্যাংকাররা। এরপর আসামি গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে পুলিশ কমিশনার, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

অগ্রণী ব্যাংক অফিসার্স সমিতি সিলেটের সভাপতি ওলিউর রহমান জানান, পিটিয়ে হত্যা করা মওদুদ আহমেদ আমার সহকর্মী। তিনি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংক, হরিপুর গ্যাস ফিল্ড শাখার অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নগরীর রাজারগলির একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। মুল বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার টেংগুরিপাড়া গ্রামে। তার পিতার নাম মো. আব্দুল ওয়াহেদ। সোমবার জানাজা শেষে তার লাশ দাফন হয়েছে।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আড়াল করার অপচেষ্টা ছিল ঘাতকদের। হত্যার বিষয়টি ফাঁস হলেও জানাজানি হতে সময় লেগে যায়।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা না গেলেও তাদের অনেক তথ্য এখন পুলিশের হাতে। আসামিরাও যে কোনো মুহূর্তে ধরা পড়বে, অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকালে জৈন্তাপুরের হরিপুর থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় নগরীর বন্দরবাজারে আসেন ব্যাংক কর্মকর্তা মওদুদ আহমেদ (৩৫)। একপর্যায়ে চালক নোমান হাছনুরের (২৮) সাথে ভাড়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয় মওদুদের। তখন হাছনুরসহ সিএনজি অটোরিকশা চালকরা মওদুদ আহমেদকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর পর হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রচার চালায় পরিবহন শ্রমিকরা।

নিহত মওদুদের বড়ভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের টুকেরগাঁও পশ্চিমপাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে সিএনজি অটোরিকশাচালক নোমান হাছনুর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।