মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন ৪ জন – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন ৪ জন

প্রকাশিত: ৭:৪৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০১৮

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন ৪ জন

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, মোস্তফা জব্বার, কাজী কেরামত আলী ও শাহজাহান কামাল। তাঁদেরমধ্যে নতুন করে যোগ হলেন অন্তত তিনজন। আর একজন প্রতিমন্ত্রী পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হচ্ছেন।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন।

সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব টেলিফোন করে তাদের প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।এর মধ্যে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীহতে পারেন লক্ষ্মীপুর-৩ এর এমপি একেএম শাহজাহান কামাল।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে। এছাড়া আইসিটি মন্ত্রী হতে পারেন প্রযুক্তিবিদ ও বেসিসের সভাপতি মোস্তাফা জব্বার।

জানা গেছে, সরকারের মেয়াদের চার বছরের মাথায় মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ দেয়ার পাশাপাশি কিছু রদবদল হতে পার বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র যুগান্তরকে জানায়, নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথের জন্য পাঁচটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই চারজনের শপথ ছাড়াও মন্ত্রিসভায় আরও কিছু রদবদল আসতে পারে বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সোমবার দুপুর ১২টার একটু পরে তাকে ফোন করেছিলেন। সেই ফোনে তাকে আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ যেহেতু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন তাকে বঙ্গভবনে শপথের জন্য ডাকার অর্থ তিনি পদোন্নতি পাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ৭২ বছর বয়সী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে নারায়ণ চন্দ্রকে দেয়া হয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হন সায়েদুল হক। কিন্তু তিনি ১৬ ডিসেম্বর মারা গেলে এই পদ খালি হয়।

রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি কাজী কেরামত আলীও সোমবার যুগান্তরের কাছে ফোন পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ সচিব দুপুরে ফোন করেছিলেন আমাকে। কাল (আজ) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে থাকতে বলেছেন।’ এই সংসদ সদস্য রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান কামাল যুগান্তরকে বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টায় শপথ হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি ফোন পাওয়ার সময় লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি গঠিত বর্তমান সরকারের মন্ত্র্রিসভায় ইতিমধ্যে তিনবার রদবদল হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আরেক দফা রদবদল হতে যাচ্ছে। প্রথমবার রদবদল হয়েছিল শপথ গ্রহণের মাস দেড়েক পর ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি।

ওইদিন আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে (এমএইচ মাহমুদ আলী) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হন নতুন পাঁচজন। তাদের মধ্যে ওইদিন আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

একইদিন মন্ত্রী হিসেবে আরও শপথ নেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। সেদিন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (সমাজ কল্যাণ)।

মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদল হয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই। ওই রদবদলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।

একইদিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।