মহল্লার শালিসে ২জনের উঠবস-সানী ইমামের বিদায় কানাইঘাটে ষড়যন্ত্রের শিকার মসজিদের ইমাম – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মহল্লার শালিসে ২জনের উঠবস-সানী ইমামের বিদায় কানাইঘাটে ষড়যন্ত্রের শিকার মসজিদের ইমাম

প্রকাশিত: ১১:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২০

মহল্লার শালিসে ২জনের উঠবস-সানী ইমামের বিদায় কানাইঘাটে ষড়যন্ত্রের শিকার মসজিদের ইমাম

কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ
সিলেটের কানাইঘাটে যৌন নিপিড়নের দায়ে গ্রেফতারকৃত মসজিদের ইমামকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবী করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। মসজিদের ইমাম যৌন নিপিড়নের ঘটনায় জড়িত নয় উল্লেখ করে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রায় শতাধিক লোকজন স্বাক্ষরিত একটি পত্র ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করা হচ্ছে। গতকাল শনিবার সরেজমিনে জানা যায় উপজেলার বাউরভাগ প্রথম খন্ড গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর পুত্র মাওলানা রিয়াজ উদ্দিন দীর্ঘ ৩ বছর থেকে পাশর্^বর্তী সোনাতনপুঞ্জি (মনোয়ারটুক) জামে মসজিদে ইমামতি করছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি এ মসজিদে সুনামের সহিত ইমামতি করলেও গত কয়েক মাস পূর্ব হতে তাকে মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য তার পাঞ্জাবীতে পায়খানা করা সহ গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করে একটি চক্র। সর্ব শেষ গত ৪ অক্টোবর জুতা দিয়ে মালা তৈরী করে মসজিদের ইমামের থাকার ঘরের দরজায় রেখে দেয় ঐ চক্রটি। এমনকি ইমামের সম্মানহানীর জন্য হাতে লিখা একটি চিঠিও তার দরজায় রেখে দেওয়া হয়। এক পর্যায় তারা কৌশলী ফাঁদে ফেলেন ইমাম রিয়াজ উদ্দিনকে। অভিযোগ তুলেন যৌন নিপিড়নের। যে অভিযোগে গত ৮ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মসজিদের ইমামের গ্রেফতারের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে টনক নড়ে মহল্লাবাসীর। এতে তাদের সামনে চলে আসে ইমামের বিরুদ্ধে পূর্বের ঘটে যাওয়া কাহিনীগুলো। যার কারনে তারা মনে করেন এটি মসজিদের ইমামকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সেজন্য তারা কঠোর হন। এবং কারা ইমামের পাঞ্জাবীতে পায়খানা করে, দরজায় জুতার মালা বেধে ইমামকে চিটি পাঠায় এমনটাই খুজতে শুরু করেন। অবশেষে সেই চক্রটি তারা খুজে পেয়েছেন। এসব ঘটনার সাথে মসজিদের সানি ইমাম মাওলানা আব্দুল গফুর, মাদ্রাসা ছাত্র একই গ্রামের আকমল হোসেন ও জসিম উদ্দিনের নাম বেরিয়ে এসেছে। যার কারনে গত শুক্রবার পবিত্র জুম্মার নামাজের পর মহল্লার সকলের উপস্থিতিতে শালিস বিচার বসে। ঐ শালিসে ৩ জন তাদের অন্যায়ের কথা স্বীকার করেছেন। এতে শাস্তি স্বরূপ আকমল ও জসিমকে ১০বার কানে ধরে উঠবস করানো হয় এবং সানী ইমাম আব্দুল গফুরকে মসজিদ থেকে বিদায় নেওয়ার আহবান করা হয়। এ সময় এলাকার মুরব্বী আব্দুর রহিম জানান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মসজিদের ইমাম মাওলানা রিয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ৩ নং স্বাক্ষী নাজমা বেগমও এসব ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত। আর ইমামকে ফাসানোর মুল হোতা হলেন সানি ইমাম আব্দুল গফুর। তিনি এর পুর্বেও বেশ কয়েকজন ইমামের বিরুদ্ধে নানা অপবাদ দিয়েছেন। যে অপবাদে পরবর্তী ইমামগণ বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন ইমামের সাথে নাজমা বেগমের যে অডিও ফোন আলাপ ফাস হয়েছে সেটির মুল পরিকল্পনাকারী আব্দুল গফুর। কারন নাজমা বেগমের ঘরে সানি ইমাম লজিং থাকেন। আর সেই সুযোগে নাজমাকে দিয়ে মসজিদের ইমামকে মোবাইল ফোনের ফাঁদে ফেলা হয়। ঐদিন ইমামকে ভুল বুঝিয়ে সানী ইমাম আব্দুল গফুর নাজমার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে পূর্বের পরিকল্পনা মতে নাজমাকে দিয়ে ইমাম রিয়াজ উদ্দিনের মোবাইলে ফোনে কল দেন যা ভিকটিম মেয়েটির পরিবারের কেউও জানে না। এক পর্যায়ে সেই অডিও রেকর্ডটি তারা ভিকটিমের পরিবারকে শুনায়। যার কারনে প্রথমে ইমামের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ভিকটিমের পরিবার পুলিশের কাছে সবকিছু জানিয়ে দেয়। যার কারনে ভিকটিম ঐদিনই বলেছিল তার সাথে ইমামের কিছু হয়নি এমনটাই দাবী করে আব্দুর রহিম সহ প্রায় শতাধিক মুসল্লিরা জানান যা পরবর্তী সানি ইমাম মহল্লাবাসীর চাপে পড়ে তার অন্যায়ের কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় শতাধিক লোকজন ইমাম রিয়াজ উদ্দিনকে নির্দোষ দাবী করে বলেন তিনি দুষ্টদের পাল্লায় পড়ে ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছেন। পরিশেষে মসজিদের বারান্দায় দাড়িয়ে তারা সবাই ইমাম রিয়াজ উদ্দিনের মুক্তির দাবী জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল