মাছিমপুরে গরুর ট্রাক নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ক্ষমতাসীন ও প্রশাসনের কাছে অসহায় সিসিক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মাছিমপুরে গরুর ট্রাক নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ক্ষমতাসীন ও প্রশাসনের কাছে অসহায় সিসিক

প্রকাশিত: ১:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৬

fgttt-copyসিলেট নগরীর মাছিমপুর কয়েদির মাঠ সংলগ্ন এলাকায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পশুর হাটে অবৈধভাবে বাজার স্থাপন করেছে প্রভাবশালী মহল। কর্তৃপক্ষ ২৭ লক্ষ টাকা মূল্যে এই হাটটি ইজারা দিলেও বাজার সমজিয়ে দিতে পারেন নি। বাজার সমজিয়ে দেওয়ার আগেই সরকার দলীয় অনুসারীরা সিসিক’র পশুর হাটের কয়েকটি অংশ দখল করে নেয়। ফলে বিপাকে পড়েছে সিসিক। ৩দিন তারা হাট সমজিয়ে দেওয়ার জন্য গেলেও বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি গরু ভর্তি ট্রাক নিজেদের বাজারে ঢুকানো নিয়ে বৈধ ও অবৈধ পশুর হাটের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র ব্যবহার করা হয়। শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এসময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দু’পক্ষের মারামারির সময় বাজারে আসা একজন ক্রেতা আহত হন। তাছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গরুবাহি একটি ট্রাক থামানো নিয়ে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষকালে দু’পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরষ্পরের উপর হামলা চালায়। পরে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হাটের ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম শামীম অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ফাঁড়ি পুলিশের সহযোগীতায় সরকারদলীয় অনুসারী একটি চক্র এই হামলা চালায়। তিনি জানান, সিসিক কর্তৃপক্ষ আমাদের সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২৭ লক্ষ টাকা নিয়ে কয়েদির মাঠ সংলগ্ন পশুর হাট আমাদের ইজারা দিলেও হাটটি পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝিয়ে ব্যর্থ হয় তারা। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবের কাছে বারবার হার মানছেন তারা। তিনি বলেন, যদি সিসিক কর্তৃপক্ষ বাজার সমজিয়ে না দিতে পারেন তবে সিসিক’র বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জানা যায়, সিটি করপোরেশেনর ইজারা দেওয়া এই হাট নিয়ে কয়েকদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিলো। প্রায় সাড়ে ২৬ লাখ টাকায় কয়েদির মাঠের হাট ইজারা নেন সিরাজুল ইসলাম শামীম। তবে ইজারা নেওয়ার আগেই স্থানীয় কাউন্সিলর ও সরকারদলীয় নেতাদের একটি অংশ এই হাটটি দখল করে রাখে।
ইজারাদার শামীমের অভিযোগ, স্থানীয় কাউন্সিলর মুসতাক আহমদ, মামা খন্দকার, যুবলীগ নেতা শামীম ইকবাল, বাবলুসহ বেশ কয়েকজন এই দখলদারদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
হাটের দখল বুঝে না পাওয়ায় বুধবার ক্ষতিপুরণ চেয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে আবেদন করে সিরাজুল ইসলাম শামীম। এরপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের সহেযাগীতায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে কয়েদির মাঠে অভিযান চালিয়ে দখলদারদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্ঠা চালায়।
ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম শামীমের অভিযোগ, সিটি করপোরেশেনের অভিযানে ক্ষুব্ত হয়েই দখলদাররা রাতে হামলা চালায়।
রাতের সংঘর্ষের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১১ টার দিকে শাহজালাল সেতু হয়ে একটি গরু বাহি ট্রাক নগরীতে প্রবেশ করে। এসময় অবৈধ দখলদাররা ট্রাকটি গার্ডেন টাওয়ারের সামনে আটকিয়ে জোরপূর্বক গরু নামানোর চেষ্ঠা করেন। এতে ইজারাদার শামীমের লোকজন বাঁধা দিলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে কমপক্ষে ৫ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।স্থানীয় সোবহানী ঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কিবরিয়া জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এসময় রায়টকারও ঘটনাস্থলে পৌছে।
ইজারাদারদের হটিয়ে হাট দখল করে নেওয়া প্রসঙ্গে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলেন, কয়েদির হাট নিয়ে কিছু ঝামেলা চলছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল