মাঠ কাঁপাতে সিলেট সহ সারাদেশে আসছে ছাত্রদলের নতুন চমক – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মাঠ কাঁপাতে সিলেট সহ সারাদেশে আসছে ছাত্রদলের নতুন চমক

প্রকাশিত: ১:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৬

মাঠ কাঁপাতে সিলেট সহ সারাদেশে আসছে ছাত্রদলের নতুন চমক

amaderrrrrrrrrrrrrrrrrrrr২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শুক্রবার: স্বৈরাচার এরশাদের আমলে আতঙ্কের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের মতো বিএনপির এই অঙ্গ সংগঠনটিও রাজপথের লড়াকু সংগঠন হিসেবে খ্যাতি পায় সে সময়। তবে আলোচনা-সমালোচনা আর পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে দু’দফায় কমিটি গঠন হলেও বর্তমান সরকারের টনক নড়াতে পারেনি ছাত্রদল।
এদিকে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৪ অক্টোবর। তাই নতুন কমিটি গঠনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সে হিসেবে কমিটিতে পদ পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে ঢেলে সাজানো হবে ছাত্রদলেরকমিটি গুলোকে। এজন্য বর্তমান কমিটির সিনিয়র সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইখতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জাম আসাদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া রাসেল, বায়েজিদ আরেফিন, মিজানুর রহমান সোহাগ, আবদুর রহিম হাওলাদার সেতু ও সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে বিএনপির এই দুঃসময়ে ছাত্রদলের দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।
এছাড়াও শীর্ষ পদগুলোতে আলোচনায় রয়েছেন সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল করিম সরকার, নুরুল হুদা বাবু, ফয়েজ উল্লাহ প্রমুখ।
এদিকে টানা ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির শক্তিশালী এ সংগঠনটির কমিটি ঘোষণার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে চায়। প্রতিপক্ষের কাছে যারা নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের ক্ষমতা রাখেন, তাদেরকেই সংগঠনটির শীর্ষ পদে রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন পরামর্শকরা।
রাজনীতির মাঠে কে বেশি থেকেছেন আর কে আত্মগোপনে ছিলেন এমন হিসাব এখন আর না মিলিয়ে যোগ্যদের দিয়ে যুগোপযোগী কমিটি দেখতে চান দলের নেতারা। কে বিয়ে করেছেন আর কে ব্যবসা করছেন এসব বিষয়কে অনেকে আপেক্ষিক দাবি করলেও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের অভিমত, অবিবাহিত ও অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন নেতাদের হাতে ছাত্রদলের দায়িত্ব দেয়া উচিত। কেননা তারা সর্বোচ্চ উজাড় করে কাজ করতে পারবে। তখন এক চোখে সংসার-ব্যবসা আর অন্য চোখে সংগঠনকে না দেখে ২৪ ঘণ্টাই বর্তমান কমিটির মতো সাংগঠনিক কাজ করতে পারবে।
ছাত্রদলের গত সাতটি কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বিগত তিন কমিটিতে যারা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাদের পরের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে আর রাখা হয়নি। তবে এর আগের চারটি কমিটিতে অসাধারণ দক্ষতা দেখানোয় চার সাধারণ সম্পাদককে পরবর্তীতে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে।
শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী যখন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি তখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।পরের কমিটিতে সোহেলকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে সোহেল-পিন্টু কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর পর প্রয়াত নাসির উদ্দিন পিন্টুর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন তাকে পরের কমিটির সভাপতি করে পিন্টু-লাল্টু কমিটি করেন।  শাহাবুদ্দিন লাল্টুর সাংগঠনিক অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে পরের কমিটিতে তাকে সভাপতি করে লাল্টু-হেলাল কমিটি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ আজিজুল বারী হেলালকে পরের কমিটির সভাপতি করে হেলাল-বাবু কমিটি করা হয়।
তবে গত তিন কমিটির (হেলাল-বাবু, টুকু-আলীম, জুয়েল-হাবিব) পর বর্তমান কমিটি  প্রায় এক যুগ পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও হল কমিটি দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের কমিটি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনেও সরব থাকার চেষ্টা করেছে বর্তমান কমিটি। তাই এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকেও অনেকে নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে দেখতে চান বলে জানা গেছে।
বর্তমান কমিটি (২০১৪ সালে গঠিত) যে পর্যায়ের নেতাদের দিয়ে করা হয়েছে অনেকেই এবারও এমন কমিটি দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। কারণ বিএনপির অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের চেয়ে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা সন্তুষ্ট দলের শীর্ষ নেতারা।
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এ সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী একাধিক হলেও ইতোমধ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। তবে সেই তালিকা চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাড়া অন্য কেউ জানে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে লন্ডনের একটি সূত্র জানিয়েছে।
একদিকে জাতীয় নির্বাচন অন্যদিকে নানা কারণে কোণঠাসা বিএনপি- এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখেই গ্রহণযোগ্য একটি কমিটি গঠনের চিন্তা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে নানা ফন্দি-ফিকির করে বর্তমান কমিটিতে পদ পাওয়ার পরও যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন, সীমাবদ্ধ থেকেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচারণায় তাদের নতুন কমিটিতে অবনতি করা হতে পারে।
নতুন কমিটির বিষয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আলোচিত ছাত্রনেতা আকরামুল হাসানকে বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সুবিধাজনক সময়ে কমিটি ঘোষণা করবেন। ছাত্রদলের নতুন কমিটি কখন হবে তা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ভালো জানেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাতেই স্বাগত জানাবো। তবে জানুয়ারীতে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বাষির্কীতে বিশাল একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে সেখানে প্রধান অতিথি বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই আলোচনা থেকে সারা বাংলাদেশ ছাত্রদলের জন্য সু-বার্তা অাসতে পারে।
ছাত্রদলের আরেক কান্ডারি সংগঠনটির সভাপতি রাজিব আহসান কে বলেন, নতুন কমিটি কবে হবে ঠিক বলতে পারছি না। এটা কেবলমাত্র চেয়ারপারসন বলতে পারবেন।তবে আগামী ১ জানুয়ারী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কিছূ চমক আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল