মাদক চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য সিলেট সদরের জালালাবাদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মাদক চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য সিলেট সদরের জালালাবাদ

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৭

মাদক চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য সিলেট সদরের জালালাবাদ

হাত বাড়ালেই মিলে বিয়ার ফেন্সিডিল ও অফিসার চয়েস, সিলেট সদরের এই এলাকার নাম জালালাবাদ। জালালাবাদ মানে এসএমপি’র জালালাবাদ থানা। গত আড়াই বছর ধরে এ থানা এলাকা ভারতীয় মাদক চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। থানার উমাউরগাঁও দখড়ি, পাগইল, নন্দিরগাঁও,দিঘলবাক নোয়াগাঁও, কুরিরগাঁও, মোগলগাঁও,পুরান কালারুকা প্রভৃতি গ্রামে গ্রামে মাদক চোরাচালানী সিন্ডিকেট। থানার শিবেরবাজার, ইসলামগঞ্জবাজার ও পিটারগঞ্জ বাজার হয়ে নৌকায় সিঙ্গেরখাল নদী পার হয় মাদকের চালান। সেখান থেকে থানার বলাউড়া হয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা সদরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌছে মাদকের চালান। জালালাবাদ থানা হয়ে আসা মাদকে এখন সিলেট নগরীও সয়লাব। গত ক’দিন আগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নগরীর ড্রেন পরিষ্কার করলে দেখা যায় শুধু ফেনসিডিল আর মদের বোতলের স্তুপ। এর আগে সালুটিকর ঘাট হয়ে মাদকের চালান সিলেট নগরীতে পৌছাতো। কিন্তু বিমানবন্দর এবং নিরাপত্তাজনিত কারনে সিলেট কোম্পানীগঞ্জ সড়কের বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট থাকায় মাদকের চালান এখন জালালাবাদ থানার হাটখোলা ও জালালাবাদ ইউনিয়ন হয়েই অন্যত্র পৌছায়।
সূত্রে প্রকাশ, থানার শিবেরবাজার ফাঁড়ির আইসি জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেনকে বখরা ও মাসোহারা প্রদানের মাধ্যমেই চোরাচালানীরা প্রকাম্য দিবালোকে মাদকের চালান পার করে থাকে। সূত্রমতে শুধুমাত্র মাদক চোরাচালান থেকেই ওসি আখতার ও শিবেরবাজারের আইসির মাসিক আয় ১০লাখ টাকা। এর আগে প্রায়ই হাটখোলা ইউনিয়নের পিঠারগঞ্জ, শিবেরবাজার ও উমাইরগাঁও এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান হতো। কিন্তু গত আড়াই বছর ধরে মাদকবিরোধী একটি অভিযানও হয়নি এ থানা এলাকায়। ফলে মাদক চোরাচালানীরা আরো বে-পরোয়া হয়ে অন্যান্য পন্যের মত মাদক পাচার ও বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও শিবের বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হয় ভারতীয় নাসির উদ্দিন বিড়ি। গ্রামীণ লোকজন সস্থায় বিড়ি পান করে বিধায় ওই এলাকা দিয়ে ভারতীয় নাসিরবিড়ির চালানও আসে হর-হামেশা। প্রত্যহ বিকেলে সিলেট নগরী ও এর আশপাশ এলাকা থেকে প্রাইভেট কার,সিএনজি ফোরস্টোক ও মোটর বাইকযোগে মাদকসেবীরা জালালাবাদ থানাধীন বাদাঘাট, উমাইরগাঁ ঘাট ও পিটারগঞ্জ নৌকাঘাটে গিয়ে সারিবদ্ধ বাবে মাদক কিনতে ও সেবন করতে দেখা যায়। একসময় বাদাঘাটে ব্রীজ না থাকায় সদর উত্তর ও কোম্পানীগঞ্জের বিস্তীর্ন এলাকা ছিল অপরাধী ও চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্য। বাদাঘাট ও সালুটিকরে ব্রীজ হয়ে গেলে অপরাধ প্রবনতা অনেকটা দূর হলেও মাদক চোরাচালান হ্রাস পায়নি। মাদক চালানে থানা পুলিশের ঘুষবানিজ্য রমরমা হওয়ায় এটাকে জিইয়ে রেখেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। সরেজমিনে এলাকার সাধারন মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, হাখোলা-জালালাবাদ এখন মাদক চোরাচালানীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। পুলিশকে টু-পাইস দিয়ে চোরাচালানী ও ব্যবসায়ীরা দেদারছে ভারতীয় মাদক ও নাসির বিড়ির ব্যবসা করছে। ফলে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীসহ যুবসমাজ ক্রমশঃ মাদকাসক্ত হয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এলাকার শান্তিকামী মানুষ জালালাবাদ থানা এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে অবিলম্বে ওসি আখতারের প্রত্যাহারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

খলিলুর রহমান (নিউজক্লাব রিপোর্ট)

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল