মাধবপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎ শিল্প – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মাধবপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎ শিল্প

প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

মাধবপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎ শিল্প

মাধবপুর প্রতিনিধি
আধুনিক শিল্পের ছোঁয়ায় হবিগঞ্জের মাধবপুরে মৃৎ শিল্প বিলুপ্তির পথে। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ধীরে ধীরে স্মৃতির খাতায় নাম লেখতে শুরু করেছে। বর্তমান বাজারে প্লাস্টিক, স্টীল, মেলামাইন, এ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদির জিনিস বাজারে ছেয়ে গেছে। প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে মাটির টেকসই, সামাজিকতা সব মিলিয়ে গ্রাহকরা ব্যবহারে মৃৎ শিল্পে অনুৎসাহিত হচ্ছে। মৃৎ শিল্পীরা যে পাড়ায় বাস করে তার নাম কুমোর পাড়া।

উপজেলার হরিশ্যামা, বেঙ্গাডোবা, হরষপুর সহ আরো অনেক গ্রামে শত শত পরিবার এ পেশার উপর নির্ভরশীল। নদী পাড়ে গ্রাম ও পাল বংশের লোকেরা এ পেশার সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে এ ব্যবসার বিরুপ প্রভাবে কুমোররা বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় ঝুঁকছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎ শিল্পের ঐতিহ্য। শুকনো মৌসুমে ওই সব এলাকার কুমোররা এটেল মাটি ও খড় লাকড়ি সংগ্রহ করে সারা বছরের জন্য। পরিবারের নারী পুরুষ সকল সদস্য এ পেশার সাথে জড়িত।

প্রথম ধাপে মাটি কেটে কাঁদা বানানোর পর তারা পাকা হাতের ছোঁয়ায় সুনিপুঁনভাবে নরম মাটির দলা চাকার উপর রেখে চাক ঘুরিয়ে যাবতীয় মৃৎ শিল্প তৈরী করে। এরপর তা রোদে শুকিয়ে এবং রং মাখিয়ে নেওয়া হয় জ্বলন্ত চুল্লিতে পুড়ানোর জন্য। কুমোরদের প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। বাপ-দাদার কাছ থেকেই হাতে খড়ি। তবুও খুব সুন্দর করে নিখুত ভাবে তৈরি করে শাঙ্কি, হাড়ি, পাতিল, কলসি, পুতুল, ব্যাংক, পিঠা তৈরির সাচ, সড়া হাতি, ঘোড়া, নৌকা, ফুলের টব, ফুলদানি, দইয়ের পাতিল, সহ নানা প্রকার জিনিস পত্র। হরিশ্যামা গ্রামের পরান পাল ও দিলীপ পালের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটেল মাটি ও লাকড়ির দাম বর্তমানে তাদের তৈরির জিনিস পত্রের দাম ও চাহিদা সবমিলিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

তারা আক্ষেপ করে বলেন, পূর্বে এ শিল্পের জন্য এটেল মাটি বিনে পয়সায় পাওয়া যেত। আর বর্তমানে মাটি পাওয়া গেলেও অনেক দামে তা কিনতে হচ্ছে। বর্তমান বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে মৃৎ শিল্পের দাম তেমন ভাবে বাড়ছে না। তাছাড়া আধুনিক প্লাস্টিক মেলামাইন, স্টিল, এ্যালুমিনিয়ামের তৈরি সামগ্রী পছন্দ সই ও টেকসই। তার এর প্রসারও দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে ফুলের টব ও দইয়ের পাতিল বাজারজাত হয়। আর এ চলাতে তাদের প্রতিনিয়ত লোকসানের কারণে তাদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এজন্য এ পেশা থেকে অনেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •