মানবিক সহায়তা কার্ডে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবককে পেটালেন ইউপি সদস্য, অভিযোগ দায়ের – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মানবিক সহায়তা কার্ডে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবককে পেটালেন ইউপি সদস্য, অভিযোগ দায়ের

প্রকাশিত: ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০

মানবিক সহায়তা কার্ডে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবককে পেটালেন ইউপি সদস্য, অভিযোগ দায়ের
মাহফুজ সিদ্দিকী, কানাইঘাট
কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের মানবিক সহায়তা কার্ড প্রস্তুত করণে স্বজনপ্রীতি আত্মীয়করণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদ করায় যুবককে পেটালেন ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য রফিক আহমদ। জানা যায়, করোনার সংকটকালীন সময়ে সরকারী খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও মানবিক সহায়তা কার্ড প্রস্তুত করণে ৪নং ওয়ার্ডের সুবিধাভোগীদের নামের তালিকায় স্বজনপ্রীতি, আত্মীয় করণ একই পরিবারে একাধিক নাম ও ইউপি সদস্য রফিক আহমদের একই বাড়ির ২২/২৩টি নাম সহ তালিকা প্রকাশ পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন থেকে দায়িত্ব পাওয়া তদন্তকারী স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল ইসলামের কাছে মানবিক সহায়তা কার্ডের সরকারী নিতিমাল অনুযায়ী তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন সকালে রাজাগঞ্জ ইউনিয় পরিষদে মাওঃ হারুন রশিদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় ইউপি সদস্য রফিক আহমদ ও তার বাহিনী। এ সময় সুর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে হারুন রশিদকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ঐ দিন ১২মে মঙ্গলবার বেলা ২ ঘটিকায় রাজাগঞ্জ ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মইনা গ্রামের আব্দুর রবের পুত্র মাওঃ হারুন রশিদ বাদী হয়ে ইউপি সদস্য রফিক আহমদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খানের বরাবরে এ অভিযোগ দায়ের করেন। মাওঃ হারুন রশিদ তার অভিযোগে উল্লেখ করেন মানবিক সহায়তা কার্ড ও সারা দেশের ন্যায় কানাইঘাটে কয়েক দফা খাদ্য সামগ্রী বরাদ্দ দিয়েছেন। সম্প্রতি সময়ে উপজেলার প্রায় ১০হাজার পরিবারকে মানবিক সহায়তা কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী যারা হতদরিদ্র ত্রাণ পাওয়ার উপযোগী তাদের নাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করার নির্দেশনা থাকলেও তালিকায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করন করা হচ্ছে। প্রকৃত অসহায়, দিনমজুর, বেকার শ্রমিক সহ অনেককে তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করা হচ্ছে না। কিছু জনপ্রতিনিধি ওয়ার্ড পর্যায়ে তাদের আত্মীয় স্বজন এবং যারা তাদেরকে ভোট দিয়েছেন তাদের নাম তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করছে ও ত্রাণ দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের ত্রাণ কমিটি থাকলেও কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ইউনিয়নে তালিকা করছেন জনপ্রতিনিধিরা। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত সাপেক্ষে যারা সরকারী সুযোগসুবিধা পাওয়ার উপযোগী তাদেরকে ত্রাণ সহ মানবিক সহায়তা কার্ডের তালিকায় অর্ন্তভুক্তি করার জন্য প্রশাসনিক মনিটরিং জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য রফিক আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী মাও. হারুন রশিদ তার আত্মীয় স্বজনের একটি তালিকা নিয়ে এসেছিল মানবিক সহায়তা কার্ড প্রদানের তালিকায় অর্ন্তভুক্তি করার জন্য। আমি বলেছি তদন্ত করে তারা যদি মানবিক সহায়তা কার্ডের নীতিমালায় পড়েন তাহলে বিবেচনা করব। যেহেতু তাদের কার্ডের তদন্ত করা হয় শিক্ষক প্রতিনিধির মাধ্যমে। হারুন রশিদের তালিকা না নেওয়ার কারনে সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কুৎসা রটনা করছে। আমি তাকে মারধর করিনি।
এ ব্যাপারে রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন মাও. হারুন রশিদ আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল