মামলার অগ্রগতি জানতে সিআইডি দপ্তরে তনুর বাবা-মা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মামলার অগ্রগতি জানতে সিআইডি দপ্তরে তনুর বাবা-মা

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ৭, ২০১৬

মামলার অগ্রগতি জানতে সিআইডি দপ্তরে তনুর বাবা-মা

tony jahanকলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কুমিল্লা দপ্তরে যান তাঁর বাবা ইয়ার হোসেন ও মা আনোয়ারা বেগম। আজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত তাঁরা সিআইডি দপ্তরে অবস্থান করেন।

এ সময় তদন্ত কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সিআইডির কোনো সদস্যের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি। পরে তাঁরা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদের দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন।
জানতে চাইলে মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। এত দিন হলো মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও দেওয়া হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের ৪৮ দিন পেরিয়ে গেল। এখনো কিছু হয়নি। আর কত দিন অপেক্ষা করব?’
অন্যদিকে, তনুর মা আনোয়ারা বেগমের প্রশ্ন, ‘মেয়েটা ভালো গান গাইত। কোনো এক অনুষ্ঠানে গান গাইতে না যাওয়ার অপরাধে কি মেয়েকে হারিয়ে ফেললাম? আমরা কি বিচার পাব না?’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে মামলার গতি শ্লথ হয়ে যাওয়ায় পুরো পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে। মামলার অগ্রগতি জানার জন্য তারা সিআইডিতে আসে। সেখানে সিআইডির এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ও তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান আবদুল কাহার আকন্দ শিগগিরই কুমিল্লায় আসবেন। তাঁরা এও আশ্বাস দিয়েছেন, তদন্ত চলছে।
উল্লেখ, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার একটি ঝোপে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন পরদিন কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। প্রথমে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার তদন্ত করেন। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনজুর আলমকে। ১ এপ্রিল তদন্ত দেওয়া হয় সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমকে। এ ছাড়া তনুর লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয় ২১ মার্চ। পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয় ৩০ মার্চ। ৪ এপ্রিল প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেওয়া হয়। এতে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুরো দেশ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল