মার্কিন নাগরিকের মামলার স্বাক্ষীর বাড়িঘরে হামলা, হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মার্কিন নাগরিকের মামলার স্বাক্ষীর বাড়িঘরে হামলা, হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৬

মার্কিন নাগরিকের মামলার স্বাক্ষীর বাড়িঘরে হামলা, হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ

dsc0000002222২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লামাচন্দরপুর গ্রামে আসামীদের পক্ষ নিয়ে ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা প্রবাসী বাদীপক্ষের লোকজনদের হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোলাপগঞ্জ থানার ওসি শিবলী, এস আই জাফর, মশিউর ও আতিকের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় লামা চন্দর পুরের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফলিক উদ্দিন খানের সাথে একটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ফলিক দেশে এসে বিভিন্ন জনহিতকর কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। নিজ উদ্যোগে রাস্তাঘাট নির্মাণসহ মসজিদ, মাদরাসাও প্রতিষ্ঠাতা স্থাপন করেছেন। এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীদের সহযোগিতাসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। এসব জনকল্যাণ মুলক কাজ দেখে ঈর্ষান্বীত হয়ে উঠে একটি মহল। তারা ফলিক খানকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ইস্যু বা ঘটনা সাজিয়ে মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করছে। ২০০০ সালে ফলিকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি সাজানো মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত করেন সিআইডি পুলিশ। তদন্তে উক্ত মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে মুক্তিপান প্রবাসী ফলিক উদ্দিন খান। অভিযোগ রয়েছে ফলিক খানের দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করছেনা।
সূত্র জানায়, ফলিকের প্রতিপক্ষের লোকদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে প্রভাবিত হয়ে পড়েছেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে ফলিক উদ্দিন ও তার বোনের কাছ থেকে নানা অজুহাতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। গোলাপগঞ্জ থানার ওসিসহ অন্যান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশী বংশদ্ভোত যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকের দায়ের করা একটি মামলার প্রধান স্বাক্ষী ইসলাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছেন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ তাদের অন্যান্য সহযোগীরা। চন্দরপুর গ্রামের মৃত মখলিছ আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন মার্কিন নাগরিকের স্বাক্ষী হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। প্রশাসন দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে তারা এখন ইসলাম উদ্দিনকে নানাভাবে হয়রানী করছেন। যে কারনে ইসলাম উদ্দিনের পরিবারবর্গ মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। এ ঘটনায় বাধ্য হয়ে ইসলাম উদ্দিন ২০ সেপ্টেম্বর সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে একটি দরখাস্ত মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং- ১৯৮/১৬) এতে তিনি অভিযোগ করেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি ফজলুল হক শিবলী, এস আই জাফর, এসআই আতিক এবং সেলিম উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, লিয়াকত আলী, জিলাল উদ্দিন, জুনেদ আহমদ, রেজা, আজাদ উদ্দিন ১০ সেপ্টেম্বর উপরোক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা ইসলাম উদ্দিনের রাত সাড়ে ১১টায় ইসলাম উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা জানালা ভেঙ্গে ইসলাম উদ্দিনকে খোজেন। এসময় তিনি প্রাণের নিরাপত্তার জন্য আত্ম গোপন করেন। এসময় ইসলাম উদ্দিনকে না পেয়ে তার বড় ছেলে আব্দুস সামাদকে মারধর করেন তারা। তাছাড়া রুমানা বেগমকে চুলে ধরে ঘুষি ও চর মারেন। কিল, ঘুষি ও লাথির আঘাতে রুমানা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় পরিবারের সদস্যদের অশালিন ভাষায় শাসিয়ে দিয়ে বলা হয় যে, ইসলাম উদ্দিনকে বলবে সে যেন ফলিক উদ্দিনের সাথে কোন সম্পর্ক না রাখে। আবার যদি তোদের বাসায় আসি তাহলে সবাইকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে শিক্ষা দেওয়া হবে। পুলিশ কর্মকর্তারা দম্ভের সাথে বলেন ফলিককে যদি শহরের কোথায় পাই তবে হাড়গোড় গুড়া করে দিব। অস্ত্র বা মাদক দিয়ে কোর্টে চালান করে দিব। এসময় ওসি ও পুলিশের উপস্থিতিতে অন্যান্য সন্ত্রাসীরা ভাংচুর সহ মহিলা সদস্যদের শ¬ীলতাহানী ঘটায়। এ অবস্থায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। তিনি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সিলেটের উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।