মাসব্যাপী সইতে হবে ‘উন্নয়নের দুর্ভোগ’! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মাসব্যাপী সইতে হবে ‘উন্নয়নের দুর্ভোগ’!

প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০২০

মাসব্যাপী সইতে হবে ‘উন্নয়নের দুর্ভোগ’!

নিজস্ব প্রতিবেদক::
কালভার্ট নির্মাণের জন্য নগরীর বারুতখানা পয়েন্ট থেকে জিন্দাবাজার পয়েন্ট সড়ক এবং নাইওয়রপুল থেকে ধোপাদিঘীরপাড় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শনিবার রাতে এই দুটি সড়কের মাঝামাঝি অবস্থিত দুটি কালভার্ট নির্মাণের জন্য ভেঙে দেয়া হয়।

রাস্তা কেটে ফেলায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি পথচারী চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পথচারী লোকজন কালভার্টের উপর বাঁশের চাটাই ফেলে চলাচল করছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন ব্যস্ততম এই এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

এদিকে হঠাৎ করেই কোন নির্দেশনা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় নগরবাসীকে ব্যবহার করতে হচ্ছে বিকল্প সড়ক। ফলে এই সড়কের সাথে সংযুক্ত সওদাগর টুলা, জেলরেোড, হাওয়া পাড়া, তাঁতী পাড়া ও বারুতখানা থেকে লালবাজার যাওয়ার সরু রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

ভাঙা কালভার্টের স্থানে লোকজন পারাপারের জন্য বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে এগুলো দিয়ে পারাপারের সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এতে যানবাহন চলাচলে যেমন অসুবিধা হচ্ছে তেমনি ওই এলাকার ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে হঠাৎ করেই মেয়র সিটি কর্পোরেশনের গাড়ি নিয়ে এসে কালভার্টটি ভেঙে দেন। তখন ব্যবসায়ীরা কবে নাগাদ রাস্তা ঠিক হবে এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেও তিনি কোন সদুত্তর দেননি। এ রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন তাদের ব্যবসায় লোকসান হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমারপারা বাসিন্দা রিয়াদ বলেন, ‘এ কেমন বিড়ম্বনা! উন্নয়ন করবেন ভালো কথা, কিন্তু জনসাধারণের সীমাহীন ভোগান্তি ঘটিয়ে কেন?’ সিসিক কর্র্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে নগরবাসীকে না জানিয়ে এমন কাজ যেন না করা হয়।’

একইভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নগরীর শিবগঞ্জ থেকে জিন্দাবাজারের উদ্দেশ্যে আসা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী লিমা বেগম। তিনি কেনাকাটা করতে রিকশা যোগে যাচ্ছিলেন জিন্দাবাজারে। বারুতখানা পয়েন্টে এসে দেখেন এ রাস্তা বন্ধ। তিনি বলেন, ‘কথা নেই, বার্তা নেই, ধুম করে রাস্তা বন্ধ! এখনতো জিন্দাবাজার যেতে হবে অনেক ঘুরপথে। রিকশাওয়ালাকে দিতে হবে বাড়তি টাকা।’

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে পূর্ব কোনো বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়নি। তবে এসএমপি কমিশনার বরাবরে চিঠি দেয়া হয়েছিল।’

পুরো কালভার্টই ভেঙে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কালভার্টগুলোর অবস্থা এমন যে, অর্ধেক ভেঙে কাজ শুরু করলে বাকি অর্ধেক টিকবে না। তাই ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শে পুরোটাই ভেঙে কাজ ধরা হয়েছে।’

কতদিন সময় লাগবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘ঠিকমতো বলা যাচ্ছে না। তবে মাসখানেক তো লাগবেই।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল