মা মেয়ের সাথে জনপ্রিনিধিকে জড়িয়ে অপত্তিকর পোস্ট,গৃহবন্দি পরিবার – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মা মেয়ের সাথে জনপ্রিনিধিকে জড়িয়ে অপত্তিকর পোস্ট,গৃহবন্দি পরিবার

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

মা মেয়ের সাথে জনপ্রিনিধিকে জড়িয়ে অপত্তিকর পোস্ট,গৃহবন্দি পরিবার

শিপন আহমদ,ওসমানীনগর:
ছবি এডিট করে অশ্লিল ছবি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ছড়ানো হচ্ছে বিভ্রান্তি। বাদ যাচ্ছেন না জনপ্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তিরা। বিগত দেড় দেড় বছর ধরে এলাকার একটি নিরিহ পরিবারের মেয়েদের ছবি সংযুক্ত করে একের পর এক বিব্রতকর ছবি ও মন্তব্য করছে একাধি ভূয়া আইডির মাধ্যমে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে মেয়েটির ছবি জড়িয়ে ফেসবুকে আপলোড করার পর চেয়ারম্যানের দায়ের কৃত মামালায় জেলে পর্যন্ত যেতে হয়েছে মেয়েটিসহ তাদের বাসার এক ভাড়াটিয়ার মেয়েকে। ফলে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতি পন্নের শিকার হয়ে পরিবারটি বর্তমানে রয়েছে গৃবন্দির। বিষয়গুলো প্রতিকার চেয়ে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরী করা হলেও এখনও অধরা রয়েছে দূবৃত্তরা। থানা পলিশকে বার বার অবগত করে কোনো সূরাহ না হওয়ায় সোমবার বিকালে এ বিষয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।সিলেটর বালাগঞ্জের ইছাপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্তমানে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার গদিয়ারচর এলাকার জুনেদ ভিলায় বসবাসকারী কোয়েত প্রবাসী আনছার মিয়ার পরিবার এমন হয়রানির শিকার। তার দুই মেয়েসহ স্ত্রী সাহানারা এর ছবি জড়িয়ে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীর ছবি সাথে সংযুক্ত করে ভূয়াঁ ফেসবুক আইডির মাধ্যমে প্রচার করার কর্মকান্ড থেকে বাদ উপজেলার হেভিওয়েট রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও।
সম্মেলনে নাইমা বগেম অভিযোগ করে বলেন,২০১৯ সালের আগস্টে নাইমা বেগম ও মাহিয়া বেগম, নুসরাত জাহান আয়শা নামীয় ভূয়া ফেইসবুক আইডি থেকে কে বা কারা আমার ছবির সাথে গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিকের ছবি জড়িয়ে অশালিন পোস্ট করে। এ ঘটনায় পুলিশ আমিসহ তামান্না নামীয় তাদের বাসার এক ভাড়াটিয়াকে আটক করে। আটকের পর সাইবার আইনে চেয়ারম্যানের দায়েরকৃত মামলায় বেশ কদিন জেল হাজতে থাকতে হয় তাদের।
পরবর্তীতে থানা পুলিশের মাধ্যমে তার অভিবাবকরা জানতে পারেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী ছাতক থানার বুড়াইগাঁওয়ের আওয়াজ মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়া একাধিক ফেইসবুক আইডি খুলে এসব আপত্তিকর পোস্ট আপলোড করে যাচ্ছে। তার পিতা দেশে এসে এবং নাইমা জেল বেরিয়ে অ এব্যাপারে থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরী করে গেলেও দূস্কুাতিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পুলিশ। বর্তমানে প্রায় প্রতিদিনই তার নামীয় ভূয়াঁ আইডিসহ একাধিক আইডির মাধ্যমে নাইমাসহ তার মা বোনদের ছবির সাথে গোয়ালাবাজার ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক,উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিলদার আলীসহ স্থানীয় সামাজিক-রাজনৈতিক স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের নামে অশালিন মন্তব্য করে যাচ্ছে। এছাড়া তার পিতার কোনো অসুখ না থাকা সত্বেও গত ৩০ মার্চ সড়যড়হধ ষঁঃভধ নামক ফেইসবুক আইডি থেকে নাইমার পিতা (আনছার আলী)কে করোনা আক্রান্ত বলে ফেইসবুকে পোস্ট দেয়। এভাবে প্রতিনিয়ত এসব আইডি থেকে পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের নাম ও ছবি জরিয়ে অপত্তিকর পোস্ট প্রচারের বিষয়ে তার অভিবাবকরা বার বার থানা পুলিশের শরণাপন্ন হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সমম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের উর্ধ্ধতন মহলের সু দৃষ্টি কামনা করছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নাইমা বেগমের বাবা আনছার মিয়া, মা শাহানারা বেগম, গোয়াবাজার বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, সমাজসবী কমরু মিয়া, আতিকুল আলম প্রমুখ।
এ ব্যপারে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন,ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাশেদ মোবারক।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল