‘মুক্তিযুদ্ধের সময় এমপি কয়েসের পিতা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

‘মুক্তিযুদ্ধের সময় এমপি কয়েসের পিতা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল’

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৭

‘মুক্তিযুদ্ধের সময় এমপি কয়েসের পিতা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল’

ফেঞ্চুগঞ্জে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে দেয়া কয়েকজন বক্তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। তারা সংবর্ধনা আয়োজনকারী সংগঠনকে ভুঁইফোড় বলেও দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার আলফাত্তাহ নেট নামক সাইবার ক্যাফের ইমেইল থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শওকত আলীর নামে পাঠানো এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

এক যুক্ত বিবৃতিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে সভাপতি মো. শওকত আলী ও উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন  আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বলেন, গত ১৩ মার্চ ফেঞ্চুগঞ্জে একটি ভূঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে কথিত যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, তার সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি একটি ঐহিত্যবাহী পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তার পিতা, স্বনামখ্যাত সমাজসেবী মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ছিলেন মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের আশ্রয়স্থল। মহান মুক্তিযুদ্ধে মরহুম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর ভূমিকা ফেঞ্চুগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ পুরোপুরি অবহিত।

অথচ,মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে বিতর্কিত করার গর্হিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তার মরহুম পিতা সম্পর্কেও ভিত্তিহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন কথিত ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতারা, যা উপজেলা সর্বস্তরের আওয়ামী লীগ নেতকর্মীকে ব্যথিত, মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ করে তুলেছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন- যারা ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থে প্রতিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছে, দলের শৃঙ্খলা বিরোধী কাজের কারণে দল থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে, তাদেরই কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম ব্যবহার করে একটি ভূঁইফোড় সংগঠন করে এই সংবর্ধনার আয়োজন করে। ঐ সংবর্ধনায় স্থানীয় এমপি সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু বক্তব্য দেয়া হয়েছে, যা উপজেলা সর্বস্তরের মানুষকে মর্মাহত করেছে।

ঐ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন কথাও বলা হয়েছে যে, ‘ফেঞ্চুগঞ্জকে আফ্রিকা বানিয়ে রাখা হয়েছে’, যা অত্যন্ত আপত্তিকর ও বর্তমান সরকারের গতিশীল উন্নয়ন কর্মকান্ডকে উপহাস করার শামিল। দেশের মানুষ অবগত আছেন যে, সিলেট বিভাগের মধ্যে সরকারের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানা এবং একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ফেঞ্চুগঞ্জে স্থাপিত হয়েছে। উপজেলার প্রায় সকল সড়ক সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারী উদ্যোগে ভবন নির্মিত হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতাসহ দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে সরকারের বরাদ্দকৃত সকল প্রকল্পের সুফল ভোগ করছেন উপজেলার দরিদ্র মানুষ।

বর্তমান সরকারের আমলে শুধুমাত্র ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং আরো একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন আছে। যারা সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিরোধী ও যারা সাধারণ মানুষের কল্যাণ চায়না, শুধুমাত্র তারাই এ ধরনের বাস্তব সত্যকে অস্বীকার করতে পারে।

যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈষান্বিত হয়ে বিএনপি জামাতের এজেন্টরা এই আসনে আওয়ামী লীগের সুসংহত অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে কথিত মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দিয়ে অনাবশ্যকভাবে জলঘোলা করতে, মাঠে নেমেছে।

সিলেট-৩ আসনের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ছাড়া এই আসনে অন্য কোন অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টকারীকে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ একাংশের সর্বস্তরের জনতাকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করবে।

বিবৃতিদাতারা হলেন- ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলী, ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ঋষিকেশ দেব রন্টু, সাধারণ সম্পাদক লোকমান আহমদ, ঘিলাছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কমর উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মিছবাহ হোসেন চৌধুরী, মাইজগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঈন উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালিক শাইস্তা, উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম পংকী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তোতা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল