মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত জুয়েলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত জুয়েলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৬

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত জুয়েলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

muktijodaমুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের নজরদারি থাকাবস্থায় এবার ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠেছে  সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের ওপর। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কাযালয়ের দক্ষিণাংশের ১ নম্বর দোকান কোঠার ভাড়াটিয়া শামসুজ্জামান চৌধুরী সিলেট কোতোয়ালি থানায় এ লিখিত অভিযোগ করেছেন। শামসুজ্জামান চৌধুরী নগরীর বারুতখানার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।
থানার এজাহারে বলা হয়, প্রায় ১৬ বছর ধরে শামসুজ্জামান নগরীর জিন্দাবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলির দক্ষিণাংশের ১ নম্বও দোকানের ভাড়াটিয়া হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ২০১১ সালে তিনি তৎকালীন জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা শামসুদোদ্দাহার সঙ্গে ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা চুক্তিতে ৬ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় ব্যবসা শুরু করেন। চুক্তির সকল শর্তপূরণ সাপেক্ষে আজঅব্দি তিনি ব্যবসা করে আসছেন। চুক্তি অনুযায়ী, বর্তমানে ওই দোকানের এক তলা ছাদ ঢালাই করার কাজ শুরু করলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।  দাবিকৃত টাকা দিতে না চাইলে জুয়েল ওই দোকানের ব্যবসায়ীকে কাজে বাধা দেন। এমনকি তিনি কতিপয় লোককে দিয়ে ওই দোকানে তালা লাগিয়ে দেন।
এ বিষয়ে শামসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, চুক্তির শর্ত অনুসারেই আমি দোকনের কাজ শুরু করি। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত জুয়েল আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি থানায় অভিযোগ করেছি।
এ ব্যাপারে জানতে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক নেতা মুক্তিযোদ্ধা জামাল পাশা বলেন, সাবেক কমান্ডার শামসুদ্দোহার কাছ থেকে চুক্তি করে ব্যবসা করে আসছেন শামসুজ্জামান। এই চুক্তিতে আমি সাক্ষীও ছিলাম। অবৈধভাবেই ওই ব্যবসায়ী দোকানে কিছু কাজ করাতে চান। কিন্তু জুয়েল কেন বাধা দিচ্ছেন তা জানা নেই।
জানতে চাইলে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিম পাটোয়ারি বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সব কিছুই যেহেতু জেলা প্রশাসকের অধীনে। তিনি ব্যবসায়ীর কাগজপত্র দেখে ব্যবস্থা নিবেন। আমি প্রাথমিক অবস্থা অবগত করেছি।
উল্লেখ্য, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ প্রদানের অভিযোগে সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলকে খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সিলেট।