মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তথ্য ‘রাজাকার ছিলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত ও সাংসদ কয়েসের বাবা ’ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তথ্য ‘রাজাকার ছিলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত ও সাংসদ কয়েসের বাবা ’

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৬

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তথ্য ‘রাজাকার ছিলেন অর্থমন্ত্রী মুহিত ও সাংসদ কয়েসের বাবা ’

samad-photoচৌধুরী মুমতাজ আহমদ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬. শনিবার : তবে কি মতিভ্রম হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিটের। সংসদের সিলেট জেলা ইউনিট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক সে স্মারকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রীর হাত দিয়েই সে বিতর্কিত স্মারকটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েলের সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারকটিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বাবা সিলেটের বিশিষ্ট গুণীজন অ্যাডভোকেট আবদুল হাফিজের নাম সিলেট জেলা শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার একাংশ) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন পিরু মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এমন বিতর্কিত তথ্য সংবলিত স্মারকটি প্রকাশের পর এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেটের সুধী সমাজে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। প্রতিবাদের মুখে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট স্মারকটির বিতরণ সীমাবদ্ধ রেখেছে। তবে বিতর্কিত সে স্মারকটির একটি কপি এসে পৌঁছেছে রিয়েল টাইমস টুয়েন্টি ফোর ডট কম’র হাতে। স্মারকটির ৬৬ নম্বর পৃষ্ঠাতেই বিভ্রান্তিকর তথ্যের সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে। স্মারকটি ঘেঁটে এমন আরও অনেক বিভ্রান্তিকর তথ্যেরও সন্ধান পেয়েছে রিয়েল টাইমস টুয়েন্টি ফোর ডট কম।
গত ২০ আগস্ট সিলেটের নজরুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত এ স্মারকটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক প্রমুখ।
‘রণাঙ্গন-৭১’ এ প্রকাশিত তথ্যের প্রতিবাদ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা কমান্ডার আকরাম হোসেন দাবি করেন দেলোয়ার হোসেন পিরু মিয়া কখনওই শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন না। তিনি তথ্য দেন, দেলওয়ার হোসেন পিরু মিয়া ১৯৬৫ সাল থেকে তিনি মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন এমনকি বঙ্গবন্ধু সরকারের আমলে ১৯৭৪ সাল পর্যন্তও তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
মাইজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা আকরাম হোসেন দাবি করেন ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক স্মারকের সম্পাদক সুব্রত চক্রবর্ত্তী জুয়েল ১০০ ভাগ ভুয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তো ভুয়া তথ্যই সরবরাহ করবেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল