মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে বিয়ানীবাজারের প্রাক্তন ছাত্রলীগনেতাদের মিলনমেলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে বিয়ানীবাজারের প্রাক্তন ছাত্রলীগনেতাদের মিলনমেলা

প্রকাশিত: ১০:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে বিয়ানীবাজারের প্রাক্তন ছাত্রলীগনেতাদের মিলনমেলা

ছরওয়ার হোসেন, নিউ ইয়র্ক ::

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাক্তন ছাত্রলীগনেতাকর্মীদের উদ্যোগে বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলার স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে নিউ ইয়র্কের ওজনপার্কের স্কাই লাইন পার্টি হলে ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় সদ্যগঠিত বিয়ানীবাজার প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ষাটের দশকে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতাদের থেকে হাল আমলের প্রবাসী নেতাকর্মীদের ঢল নামে।

সভায় বিভিন্ন দশকের ত্যাগী ও খ্যাতিমান নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন পর একত্রিত হওয়ার পাশাপাশি পরষ্পরের সাথে পরিচিতির সুযোগ লাভ করেন। মতবিনিময় সভায় সাবেক ছাত্রনেতাদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা পূর্বাপর রাজনৈতিক চিত্র। নেতারা বলেন- শিক্ষা, সামাজিকতা, রাজনৈতিক জাগরণ ও সৃজনশীল সংস্কৃতি চর্চায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল বিয়ানীবাজারের ঐতিহ্য দেশে বিদেশে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন,ঊনষত্তোরের গণ অভ্যুত্থান, সত্তোরের নির্বাচন ও ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিয়ানীবাজারের আপামর জনগণ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন,
—- ৬৬’র ছয়দফা আন্দোলনকে বেগবান করতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদধুলিতে ধন্য বিয়ানীবাজারে ১৯৬৮সালে বিয়ানীবাজার কলেজ প্রতিষ্ঠালাভ করলে ১৯৬৮সালেই ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠালাভ করে। পরবর্তীতে ঊনষত্তরের গণ আন্দোলন, সত্তোরের নির্বাচন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করতে ছাত্রলীগের অবদান ছিলো অনস্বীকার্য।
৭৫’র ১৫ই আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর বিয়ানীবাজারের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরাও খুনি শাসকগোষ্টির নির্যাতনের যাতাকলে পিষ্ট হন। এসময় বিয়ানীবাজারের বঙ্গবন্ধুর আদর্শিত সৈনিকগণ দীর্ঘমেয়াদে কারাবরণের শিকার হন। কিন্তু, “মুজিব হত্যার বিচার চাই” শ্লোগান রোখা সম্ভব হয়নি। আশির দশকের শুরুতে বিয়ানীবাজার কলেজকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মুজিবাদর্শের ঝান্ডা হাতে গর্জে উঠে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছাত্রলীগ পুরো দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও নেতৃত্বদান করে। ৯০’র দশকে প্রগতিশীল রাজনীতির উত্তানের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও ৭১’র পাকবাহিনীর দালাল ঘাতক রাজাকার-আলবদরদের বিচারের দাবীতে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগ নব উদ্যমে গর্জে উঠে। ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারীর একদলীয় প্রহসনের নির্বাচন রুখতে বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজ ছাত্রলীগনেতা শহীদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী নাহিদের আত্নাহুতি দেশব্যাপী আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে । এসময় রাজনীতির নামে ধর্মীয় উন্মাদনার বিরুদ্ধে সাম্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রগতিশীল শিক্ষানীতি প্রণয়নের আন্দোলনে আত্ননিয়োগ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীগণ। যা আজো প্রবাহমান।
ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি গোটা বিয়ানীবাজার জনপদে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রগতিশীল রাজনীতিচর্চার উত্তানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অনন্য অবদান অনস্বীকার্য।

বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির শৌর্য্যের প্রতিক। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। বাংলার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তানের জন্ম শতবার্ষিকী পালন বাঙালির জাতীয় জীবনের এক পরম আনন্দময় অধ্যায়। প্রবাসের মাটিতে বিয়ানীবাজারের সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীগণের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে মুজিববর্ষ পালনের প্রস্তুতি সত্যিই ঐতিহাসিক উদ্যোগ বলে বিবেচিত হবে। নেতৃবৃন্দরা সকলকে এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে অংশ গ্রহনের উদাত্ত আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বিয়ানীবাজার প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফোরাম, যুক্তরাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগকে আনন্দের সঙ্গে ‘মহতি’ উদ্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন।
১৯৭০সালের বিয়ানীবাজার থানা ছাত্রলীগ নেতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ময়নুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ৮০’র দশকে বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের পুনরুজ্জীবন আন্দোলনের অন্যতম নেতা, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাসিবের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মোস্তফা আল্লামা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের অন্যতম উপদেষ্টা আং জলিল, সাবেক ছাত্রলীগনেতা জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বদরুল খান, এম সি কলেজ ছাত্রলীগনেতা মাহী উদ্দিন আহমদ, সাংবাদিক মিছবা আহমেদ, বিয়ানীবাজার সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগনেতা শামসুল আবেদীন, আশির দশকের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নুরুল এহিয়া, বিয়ানীবাজার কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক এজিএস সামাদ উদ্দিন, নজমুল হক, বাহারুল ইসলাম, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসির খান, নব্বই দশকের ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে বিয়ানীবাজার কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া ও আব্দুল হামিদ , সাবেক সাহিত্য সংস্কৃতি সম্পাদক খয়রুল হক , সাবেক সমাজকল্যান সম্পাদক আব্দুল আজিজ, সাবেক ছাত্রলীগনেতা হাফিজুর রহমান হিরা, জামিল উদ্দিন, হেলিম উদ্দিন, কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুম আহমদ, আব্দুর রউফ তুলন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কুদ্দুস টিটু, সাবেক এম সি কলেজ ছাত্রলীগনেতা আমিনুল হোসেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছফর উদ্দিন লোদী, কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক সমাজকল্যান সম্পাদক কমর উদ্দিন, সাবেক জিএস ফারুকুল হক, শহীদ নাহিদ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফজলে রাবিব সেবুল, ছাত্রলীগনেতা ইফজাল হোসেন, সাব্বির উদ্দিন, সাবেক এজিএস নুরুজজামান সোহেল, ছরওয়ার হোসেন, শামীম আহমদ, আমিন উদ্দিন, আজাহার হোসেন রিফাত, রেজাউল আলম অপু, জুনেদ আহমদ, ফয়সল আহমদ প্রমুখ। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগনেতা লোকমান আহমদ, আব্দুস সামাদ, জাকির হোসেন অপু, জুয়েল আহমদ, কবির হোসেন, মনোয়ার হোসেন লিটন, টিপু আহমদ, আদনান খান রবিপ্রমূখ।
সভার শুরুতে প্রয়াত সকল ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদগণ এবং ১৫ই আগষ্টের কালো রাতে হত্যাকান্ডের শিকার সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার মোস্তফা আল্লামা। রাতে ডিনার শেষে সভার উপস্থিতির সর্বসম্মতিতে ময়নুল ইসলামকে আহবায়ক, আং রউফ তুলন সদস্য সচিব এবং আমিনুল হোসেন ও ছরওয়ার হোসেনকে যুগ্ম সদস্য সচিব নির্বাচন করে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি পূর্ণাঙ্গের দায়িত্ব প্রধান করা হয়। উক্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটিই পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
পরিশেষে সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সাথে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল