মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক ডা. দুলাল : জনগণের ভালোবাসায় যাঁর পথচলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক ডা. দুলাল : জনগণের ভালোবাসায় যাঁর পথচলা

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২১

মুজিব আদর্শের লড়াকু সৈনিক ডা. দুলাল : জনগণের ভালোবাসায় যাঁর পথচলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সময়টা ১৯৭২।
লোকে লোকারণ্য পুণ্যভূমি সিলেটের হযরত শাহজলাল(রঃ) এর মাজার চত্বর। সবার চোখেমুখে অপরিমেয় আবেগের বাঁধভাঙা কৌতূহল- বাংলাদেশ নামক স্বাধীন জাতিরাষ্ট্রের জনক বঙ্গবন্ধু আসবেন বলে।
জনতার প্রচণ্ড ভীড় ঠেলে সদ্য তরুণ এক ছেলে গুটিকয়েক বন্ধুসমেত দাঁড়িয়ে পড়েছে হযরত শাহজালাল (রঃ) এর মাজারে ঢুকবার রাস্তার পাশেই।
বঙ্গবন্ধু আসলেন। কিন্তু, বঙ্গবন্ধুর কাছে যাওয়া প্রায় দুঃসাধ্য। ছেলেটি বায়না ধরে বড় ভাইয়ের কাছে। যে করেই হোক তার বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখা চাই। অবশেষে অনেক কসরত করে উপস্হিত জনতার আকাশ বিদারী কলরোলের মাঝেই তরুণ ছেলেটি তার অগ্রজের সহায়তায়
বঙ্গবন্ধুর একদম কাছে যেতে সমর্থ হল। কোনভাবে সালাম দিল। জনতার নয়নের মণি বঙ্গবন্ধু স্বভাবসুলভ অনায়াস ভঙ্গিতে তাঁর পিঠ চাপড়ে দিলেন। ছেলেটির আনন্দ যেন আকাশ ছুঁলো।

সদ্য কিশোর সেই ছেলেটি আজকের ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল। আর সেই অগ্রজ হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইনামুল হক চৌধুরী বীরপ্রতীক।

সিলেটের বালাগঞ্জের সুলতানপুর গ্রামে এক হাড়কাঁপানো শীতের সকালে স্নেহময়ী জননী সাবেরা খানম চৌধুরীর কোল আলো করে জন্ম নেন মোঃ ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল।
পিতা মরহুম বশিরুল হক চৌধুরী। ৬ ভাই ২ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ,ডানপিঠে, মেধাবী, আদরের দুলাল জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৮ সালের ২০ শে ডিসেম্বর।

রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য হিসেবে চৌধুরী দুলাল ছোটবেলা থেকেই রাজনীতিঘনিষ্ঠ ও রাজনীতি সচেতন। দেশের স্বাধিকার আদায়ের উত্তাল দিনগুলোতে বেড়ে ওঠা নিশ্চয়ই তাঁর মননে-মানসে প্রভাব ফেলেছিল।
তাই, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রাবস্হায়ই স্কুল পালিয়ে বন্ধুদের সাথে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্হানীয় মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। এভাবেই তাঁর অপ্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির হাতেখড়ি।সেদিন বাবার চোখরাঙানি আর বকুনিও হজম করতে হয়েছিল এ স্বাধীনচেতা, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সদ্য তরুণকে। বরাবরের মতই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তখন দিন রাত রাজনীতিকে নেশায় পরিণত করা অগ্রজ ইনামুল হক চৌধুরী।
‘৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন, ‘ ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এর সক্রিয় নেতা ইনামুল হক চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধে ৫ নং সেক্টরে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে। যুদ্ধ শেষে এসে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
তাই, আওয়ামীলীগের ঘোর দুঃসময়ে, বঙ্গবন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যুর পরেও ২য় জাতীয় সংসদে ( ১৯৭৯-৮২) সিলেট -৬ ( জাতীয় আসন -২২৮,বালাগঞ্জ- বিশ্বনাথ)আসনের সংসদ সদস্য এবং তৃতীয় জাতীয় সংসদে (১৯৮৬-৮৭) সিলেট- ২( জাতীয় আসন নং -২২৯, বালাগঞ্জ- বিশ্বনাথ) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের মাটি থেকে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের নাম মুছে দেওয়ার এ ভয়াল সময়ে ২য় ও ৩য় জাতীয় সংসদ
নির্বাচনে আওয়ামীলীগ যথাক্রমে ৩৯ টি ও ৭৬ টি আসনে জয়লাভ করে।

‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে পাকি হানাদার বাহিনীর লুণ্ঠন,নারী ও শিশু অত্যাচার এবং গণহত্যার মত ঘটনা শৈশবেই প্রত্যক্ষ করেছেন ডা. দুলাল।তাই, স্বাধীন বাংলাদেশে সিলেটের প্রখ্যাত এমসি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক জীবনেই আওয়ামীলীগের ছাত্রসংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। সরাসরি তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সিলেট মেডিকেল কলেজ ছাত্র জনাব ডা. ফয়জুল ইসলাম ( বর্তমানে লন্ডন প্রবাসী) এর সাহচর্যে আসেন। উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র থাকাকালীন নির্বাচিত হন এম সি কলেজ ছাত্র সংসদের ১৯৭৪ পরিষদের কার্যকরী সদস্য।১৫ আগস্টের কালো রাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে কলেজ ছাত্রলীগের প্রতিবাদ মিছিলে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে ( তৎকালীন সিলেট মেডিকেল কলেজ) অধ্যয়নকালে কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীর (বর্তমানে আওয়ামীলীগ, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য) তত্ত্বাবধানে রাজনীতি শুরু করেন।
একে তো সামরিক শাসনের ভয়াল সময়, তার উপর রাষ্ট্রীয় মদদে ১৯৭৯ সালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হলে অত্যাচার- নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে যায়।কলেজ প্রশাসনও বিবেকবর্জিত হয়ে ছাত্র নামধারী সরকারি ছাত্রদল গুন্ডাদের আবদার রাখতে কলেজে বিশৃঙ্খলার অজুহাতে ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালসহ মোট ৭ জনকে ১ বছরের জন্য বহিঃষ্কার করে।
পরবর্তীতে হাইকোর্টে আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনিসহ সবাই নির্দোষ বলে প্রতীয়মান হন এবং ছাত্রত্বের অধিকার ফিরে পান। ততদিনে,রাজনৈতিক জুলুমের ফলস্বরূপ ৬ মাসের শিক্ষাজীবন বিঘ্নিত হয়।
তারও কিছুদিন আগে ১৯৭৮ সালে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার থেকে বিরত রাখতে তিনিসহ কয়েকজন আদর্শিক ছাত্রলীগকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক, মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দায়ের করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ, সকল রাজনৈতিক এবং সুধীমহলের প্রবল সমালোচনা,নিন্দা ও চাপের মুখে ছাত্রদল মামলাটি প্রত্যাহারে বাধ্য হয়।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সিলেট মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক (সদস্য সচিব- শামীম আল মামুন) মনোনীত হন। দায়িত্ব গ্রহণ করে আদর্শবান, একনিষ্ঠ এবং ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেন।
শুধুমাত্র আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিতে যুক্ত থাকার কারণে রাজনৈতিক বৈরিতার শিকার হয়ে নির্ধারিত সময়ের বছরখানেক পর শিক্ষাজীবন শেষ করতে হয়।

১৭ই মে ১৯৮১।
অঝোর ধারার বৃষ্টি যেন আকাশের কান্না হয়ে ঝরছে। আরো অনেকের মত এই তরুণ চিকিৎসক ঢাকা এয়ারপোর্টে অপেক্ষারত। অবশেষে, নির্বাসিত জীবন শেষে অজানা শঙ্কা মাথায় নিয়ে এই দিনে বাংলার মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। শুরু হল ডা.দুলালের আরেক জীবন।পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু কন্যার একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তাঁর নির্দেশ মোতাবেক সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন ডা. দুলাল।
অনেক ঝড়-ঝাপটা শেষে ১৯৮৩ সালে,স্বৈরতন্ত্রের বৈরী সময়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। মজ্জাগত আওয়ামী আদর্শ এবং রাজনীতি সচেতন মানুষ হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদে বরাবরের মতই সাহসী ভূমিকা রাখেন। ফলশ্রুতিতে, স্বৈরশাসকের নির্দেশিত প্রশাসনযন্ত্র দ্বারা নিগ্রহের শিকার হন।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকায় ১৯৮৪ সালে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে তার রুম বেআইনীভাবে তালা মেরে সিলগালা করে দেয়ার চেষ্টা করা হয় এবং প্রতিবাদ করলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। তবু,দমে যাননি স্বাধীনচেতা এ মানুষটি। ‘৯০ এর দশকে সিলেটে সকল পেশাজীবীদের সমন্বয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলেন। এরশাদের গণবিরোধী স্বাস্হ্যনীতি বাতিলে চিকিৎসক সমাজের নেতা হিসেবে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৯১-১৯৯৬ সালে বিএনপি শাসনকালেও স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। কট্টর আওয়ামী সমর্থক হিসেবে ‘৯৬ সালের অবৈধ সরকার বাতিল,ভোট- ভাতের অধিকার আদায়সহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিলে বারবার নির্যাতন- নিপীড়নের শিকার হন।

১৯৯৭- ২০০১ সময়কাল মোটামুটি শান্তিতে কাটে। এসময়ে সিলেট মেডিকেলে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত থাকলেও ফুসরত পেলেই ছুটে যেতেনএলাকায়।মেডিকেল ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি,চক্ষুশিবিরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজনের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাদান করে নিজেকে জনকল্যাণে ব্যস্ত রাখেন। পরিবারের আদরের সেই দুলাল তখন ডা. দুলাল হিসেবে জনমানসে স্হান করে নেন।

২০০১ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতাবিরোধী চার দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় এলে শুরু থেকেই হয়রানির শিকার হতে থাকেন।
শুরুতেই অযাচিতভাবে বদলি করা হয় বরিশাল মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে। সেখানে যোগদান করতে না করতেই পটুয়াখালী,তারপর বান্দরবনে বদলী করা হয়। বারবার কর্মস্হল বদলের ঝক্কি- ঝামেলা পোহাতে পোহাতে অবশেষে ২০০২ সালের শেষদিকে নিজ এলাকায় পল্লী স্বাস্হ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক হিসেবে সেবাদানের সুযোগ পান। এরপর তাঁকে সিলেটের গোয়াইনঘাটে বদলি করা হয়।
পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্হ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে গোয়াইনঘাটে দায়িত্ব পালন শেষে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োজিত হন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান দেশসেরা হাসপাতালের মর্যাদা লাভ করে।
২০১৪ থেকে ২০১৭ সালে তিনি স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অর্থ),পরিচালক(প্রশাসন) এবং সবশেষে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০১৭ সালের ১৯ শে ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করেন।কর্মজীবনের একপর্যায়ে ২০০০-২০০১ সালে তিনি বিশ্ব স্বাস্হ্য সংস্হার অধীনে অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস থেকে ফেলো মনোনীত হন।
বিস্তৃত পরিসর এ কর্মজীবনের সমান্তরালে চিকিৎসক রাজনীতির অন্যতম পুরোধা পুরুষে পরিণত হন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন( বিএমএ) এর সিলেট শাখায় একাধিক বার কার্যকরী পরিষদ সদস্য,একবার সাংগঠনিক সম্পাদক, দুই বার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আওয়ামী ঘরানার চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ করতে ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ( স্বাচিপ), সিলেট শাখা প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৬-২০০১সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও কর্মকুশলতায়,সর্বসম্মতিক্রমে পরবর্তীতে তাঁর হাতেই সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বভার অর্পণ করা হয় এবং তিনি ২০০১-২০১৯ সাল পর্যন্ত সফলভাবে এ গুরুদায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বেই সিলেটে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি প্রথম উত্থাপিত হয় এবং এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান সর্বজনবিদিত।
বিএমএ কেন্দ্রীয় কমিটির(২০১১-১৬) সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে চিকিৎসক সমাজের অভিভাবক সংগঠন বিএমএ এর কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব (২০১৭থেকে চলমান) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।একইসাথে তিনি পেশাজীবী সংগঠন প্রকৌশলী-কৃষিবিদ-চিকিৎসক(প্রকৃচি) কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য সচিব এবং স্বাচিপ এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়োজিত আছেন।

পেশাগত বৃত্তের বাইরে জনকল্যাণমূলক সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট, হার্ট ফাউন্ডেশন, ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন এর সম্মানিত পরিষদ সদস্য হিসেবে জনসেবায় নিয়োজিত আছেন।
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, সিলেট এর সভাপতি হিসেবে পেশাজীবীদের নেতৃত্বদানের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক,অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের পরিচিত মুখ ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল।

কর্মজীবনের হাজারো ব্যস্ততা সত্ত্বেও শিকড়ের টান কখনো ভুলেল নি বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমার আদরের- ভালোবাসার, স্নেহের- শ্রদ্ধার,আস্হা-বিশ্বাসের প্রিয়মুখ ডা. দুলাল। তাই নিয়ম করেই শুক্র-শনিবার তথা ছুটির দিনগুলোর অধিকাংশ সময় কাটান গ্রামের বাড়িতে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বয়সের সীমারেখা ভুলে সবার সাথে গল্প করেন, আড্ডা দেন, শিশুর সারল্যে হো হো করে হেসে উঠেন।কারো দুঃখ- বেদনায় সমব্যথী হন; সমস্যার কথা শুনলে সমাধানের সাধ্যমত চেষ্টা করেন।
তাই, এলাকাবাসীর আপনজন ডা. দুলাল মুরুব্বীদের কাছে যেমন এক ভরসার নাম, তেমনি তরুণ-তরুণী,যুবক- যুবতীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম।

তাই, এলাকার হাট- বাজারের চায়ের আড্ডায় কান পাতলেই শোনা যায় তাঁর নাম। ছেলে- বুড়ো সবাই চান, তাঁদের স্নেহের – শ্রদ্ধার ডা. দুলাল যেন তাদের সেবা করার, এলাকার উন্নয়নের সুযোগ পান। ১৬ কোটি মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যেন তাদের ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলালকে সিলেট-৩ আসনে(বালাগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণ সুরমা) আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন। তাঁদের বিশ্বাস, ডা. দুলালের হাতে বঙ্গবন্ধুর নৌকার কোন অমর্যাদা হবে না।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বনির্ভর সোনার বাংলা, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ, ভিশন-২০৪১বাস্তবায়নে তিনিই বালাগঞ্জ-দক্ষিণসুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জের যোগ্যতম ব্যক্তি- এলাকাবাসীর অভিমত এমনই।উল্লেখ্য যে, আওয়ামীলীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্হা অর্জন করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের স্বাস্হ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক বর্তমান উপকমিটিতে স্হান করে নিয়েছেন।

ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল সিলেট-৩ আসনে ( বালাগঞ্জ- ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণসুরমা)নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন, বিজয়ী হবেন এবং জনগণের শাসক নয় বরং বন্ধু হয়ে,সেবক হয়ে জনগণের আপদে- বিপদে – উন্নয়নে পাশে দাঁড়াবেন- এই তাঁদের বিশ্বাস।