‘মুজিব’ এক সুপার হিরোর সচিত্র জীবনী – তন্ময় আহমেদ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

‘মুজিব’ এক সুপার হিরোর সচিত্র জীবনী – তন্ময় আহমেদ

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৬

‘মুজিব’ এক সুপার হিরোর সচিত্র জীবনী – তন্ময় আহমেদ
12565523_10203682283416041_5443234755726438863_n৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, শনিবার : আমাদের চেনা বেশিরভাগ অতিমানবই কল্পকাহিনীর এক জগতের বাসিন্দা। রঙিন কস্টিউমের আড়ালে থাকা সেই সব অতিমানবদের মুখোশের আড়ালের চেহারার সাথে বাস্তবতার মিল প্রায়শই পাওয়া যায় না। তারপর সময়ের সাথে সেই ‘অতিমানবিক শক্তি’র ভক্তদের ভুল ভাঙে, খসে পড়ে চোখে লাগানো ঠুলি।
খুব সামান্যই আছেন যাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। আর তেমন কারো উদাহরণ দিতে গেলে একজনের নামই বলতে হয়; তিনি বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান রূপকার। সাধারণের ঘরে জন্ম নেয়া এক বালক কিভাবে হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা এবং বাঙালি জাতির পিতা, কিভাবে কোনো মুখোশ বা চিত্রবিচিত্র পোশাক না পরেও কিংবা অতিমানবিক ক্ষমতার অধিকারী না হয়েও একজন মানুষ দুনিয়াজুড়ে স্বীকৃত হলেন অতিমানব হিসেবে, “মুজিব” শিরোনামের সচিত্র উপন্যাসে (গ্রাফিক নভেল) সেই অসাধারণ আত্মজৈবনিক ইতিহাসই শৈল্পিক আঁচড়ে চিত্রিত হয়েছে।
বাংলাদেশের চিত্রাঙ্কন বা গ্রাফিক জগতে এমন উদ্যোগ এই প্রথম। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে যাত্রা শুরু করা এই গ্রাফিক নভেলের দ্বিতীয় কিস্তিতে আমরা দৃঢ়চেতা ও অটল এক তরুণ মুজিবকে খুঁজে পাই; স্কুল ও কলেজ জীবনের সমসাময়িক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ঘূর্ণাবর্তের কেন্দ্রে তখন তিনি।
এক তরুণের প্রবল অধ্যবসায়, প্রচণ্ড স্থিতধী আর মানবতার জন্য আপোষহীন অবস্থানের সে এক অসাধারণ উজ্জ্বল ইতিহাস। তরুণ মুজিবের রাজনৈতিক পথ প্রদর্শক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে পরিচয়ের ঘটনাটির উদাহরণ দেয়া যেতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পরই বাংলায় শুরু হয় ভয়ংকর মন্বন্তর। দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে করুণ মৃত্যুর মহামারী। ক্ষুধিতের নাড়িছেঁড়া হাহাকার আর কান্নার রোল ওঠে ঘরে ঘরে। অনাহারে প্রতি মুহূর্তে মরতে থাকে অসংখ্য মানুষ। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা লাশের ওপরে চলে শকুনের ভুরিভোজ উৎসব। মৃত মায়েদের কোলে নবজাতকের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। অনাহারী মানুষ আর কুকুরের মধ্যে উচ্ছিষ্ট নিয়ে কাড়াকাড়ি চলে আস্তাকুঁড়ে।
সে সময় মুজিব কলকাতায় কলেজে ক্লাস শুরু করেছেন কেবল। তার মহৎ, বিশাল হৃদয়ে সেই মহা মন্বন্তরে মানবতার কান্না যেন শেলের মত বেঁধে, অসহ্য হয়ে ওঠে। অন্য বন্ধুদের চেয়ে আলাদা, সুদূরপ্রসারী দৃষ্টির এই তরুণ সেদিন এগিয়ে আসেন; জনগণের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তে বন্ধুদের অনুপ্রাণিত করে একতাবদ্ধ করেন এবং তৎকালীন পৌর সরবরাহ মন্ত্রী সোওরাওয়ার্দীর মুখোমুখি হয়ে জনগণের দুর্দশা কমাতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আবেদন জানান। তার অক্লান্ত চেষ্টায় রাতারাতি তৈরি হয় পৌর সরবরাহ বিভাগ।
জনগণের কল্যাণের জন্য নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কে তুচ্ছ করে মুজিব কাঁধে তুলে নেন এই গুরুভার দায়িত্ব। বিনা পয়সায় পেট ভরে খাওয়ানোর ব্যবস্থা চালু করা হয় এ বিভাগ থেকে। এ কর্মযজ্ঞ চালিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে অনেক জীবনকেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনে এই দক্ষ দলটি। ত্রাণ সংগ্রহের জন্য মুজিব গোপালগঞ্জে নিজের বাসায় ফিরে আসেন। মন্বন্তর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তার নিজ গ্রামেও।
দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও কর্মোদ্যোগী মুজিব এসে দাঁড়ান গ্রামের মানুষের পাশে এবং এখানেও ত্রাণ কার্যক্রমে পূর্ণ অংশগ্রহণ করেন। সচিত্র এই উপন্যাসে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মত কিছু ঘটনাও উঠে এসেছে। উল্লেখযোগ্য এমন একটিঃ ফুটবল খেলা খুব প্রিয় মুজিবের। বাবার সাথে খেলায় হারেন তিনি। পরে বলেন, “পিতার কাছে হারায় অগৌরবের কিছু নেই। বরং তাতে আমি অনুপ্রেরণাই পেয়েছি”। এমনি ছিলেন এই অতিমানবিক নেতা।
“এই উদ্যোগ না নিলে বঙ্গবন্ধু কখনো
ই এমন আকর্ষণীয় আর প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারতেন না। এখন বঙ্গবন্ধুই আমার সুপারহিরো” বইয়ের রঙিন পাতায় ডুবে থাকা দশ বছরের রাফিনের এমনই মন্তব্য। আমাদের এও ভুলে গেলে চলবে না যে, মুজিব উঠে এসেছিলেন কারো কোন সাহায্য ছাড়াই,ক্ষমতাবানদের সাথে যোগাযোগ অথবা অর্থ, এ দুটির কিছুই তার ছিল না।
শুধু প্রবল বিচক্ষণতা আর স্থির সংকল্পের শ
ক্তিতে তিনি পাকিস্তানি শত্রুর হাত থেকে এ দেশের মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন এবং এক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃজন করেন। এই সচিত্র উপন্যাসে সেই সাধারণ বালক থেকে একটি দেশের স্বাধীনতার রূপকার হয়ে ওঠার অসাধারণ কাহিনিই রয়েছে।
এ উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে এ উপন্যাসের অন্যতম প্রকাশক এবং বঙ্গবন্ধুর নাতি, রাদোয়ান মুজিব সিদ্দিক বলেন, “মুজিব গ্রাফিক নভেল সিরিজের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ জীবনালেখ্য আমরা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। কারাব
ন্দী থাকার সময়ে লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’বারোটি পর্বে এই সচিত্র উপন্যাসে প্রকাশিত হবে।
“আমাদের স্বাধীনতার রূপকারের ছাত্রজীবনে নির্ণায়ক, মোড় ঘুরিয়ে দেয়া ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে আজই আপনার কপিটি সংগ্রহ করুন। সত্যিকার অর্থে একজন বাংলাদেশী হওয়ার শিক্ষা আজো আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকেই পেতে পারি।
তার অসাধারণ জীবন যুগে যুগে ভেদাভেদ ভুলে, একতাবদ্ধ হয়ে দেশকে উন্নতি ও প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রেরণা হয়ে থাকবে ।