মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির রিভিউ খারিজের রায় প্রকাশ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির রিভিউ খারিজের রায় প্রকাশ

প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৭

মুফতি হান্নানসহ ৩ জঙ্গির রিভিউ খারিজের রায় প্রকাশ

সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের রিভিউ খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দু’জন হলেন- শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপন।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার সাব্বির ফয়েজ রায় প্রকাশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। রায় প্রকাশের পর নিয়ম অনুসারে এর কপি এখন কারগার এবং সিলেটের বিচারিক আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। ফলে হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকরে এখন আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।

তবে সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন জানাতে পারবেন তারা। এ আবেদন না জানালে বা তা প্রত্যাখ্যাত হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে ফাঁসি কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ।

রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন খারিজ করে ১৯ মার্চ এ রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৩ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এন কে সাহা।

শুনানিতে এন কে সাহা বলেন, ‘১০ বছর ধরে আসামি কনডেম সেলে আছেন। এ জন্য তার দণ্ড কমানো হোক।’ এ সময় আপিল বিভাগ বলেন, ‘ইটস নট এ লিগ্যাল গ্রাউন্ড। অন্য কিছু থাকলে বলেন।’ এরপর আইনজীবী আর কিছু না বলায় আদেশ দেওয়া শুরু করেন আদালত।

আদেশে আদালত বলেন, এটি একটি সেনশেসনাল মামলা। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট সঠিকভাবে রায় দিয়েছেন। এ জন্য রিভিউ আবেদন খারিজ (ডিসমিস) করা হলো।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৪ সদস্যের আপিল বেঞ্চ। রায়ে এ বিষয়ে আসামিদের আবেদন খারিজ ও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দাল আপিল না করায় তাদের দণ্ডও বহাল থাকে।

গত ১৮ জানুয়ারি ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিভিউ আবেদনটি দাখিল করেন মুফতি হান্নান ও বিপুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী। আবেদনে ফাঁসির রায় বাতিল করে খালাসের আর্জি জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়।

হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।

মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন।

এরপর গত ৩০ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।