মেয়রহীন ‘মেয়র হাউজে’ ছিল না ঈদের আমেজ – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মেয়রহীন ‘মেয়র হাউজে’ ছিল না ঈদের আমেজ

প্রকাশিত: ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৬

মেয়রহীন ‘মেয়র হাউজে’ ছিল না ঈদের আমেজ

arful-photo১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, বুধবার:  গ্রেনেড হামলায় নিহত শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের সাময়িক বহিষ্কৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর শিরোনামহীন বাসাটি ‘মেয়র হাউজ’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। কিন্তু টিনশেডে সুনশান বাসাটি প্রধান ফটকে আরিফকে আকড়ে ধরলেও দেড় বছরের বেশি সময় ধরে মেয়রহীন ‘মেয়র হাউজ’।

বেশক’টি ঈদে আরিফের পদধূলি পড়েনি ‘মেয়র হাউজ’-এ। এবার ঈদের আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তার স্থায়ী জামিন আদেশ বহাল রাখলে আশা জেগেছিল মুক্তির বিষয়ে। কিন্তু বিস্ফোরক মামলাটিতে জামিন না থাকায় তার জামিনে কারামুক্তি ঈদুল আযহায় হয়নি।

তাই গত কয়েকটি ঈদের দিনের মতো এবারকার ঈদুল আযহাতেও আরিফহীন ছিল ‘মেয়র হাউজ’।

নগরীর কুমারপাড়াতে একটি স্টিলের কালো বোর্ডে পিতলের ব্লকে বাসার ফটকে ‘মেয়র হাউজ/আরিফুল হক চৌধুরী/সিলেট সিটি কর্পোরেশন’ লিখা বাসাতে ঈদের দিনভর আনাগোনা ছিল নেতাকর্মীদের। তবে আরিফ না থাকায় বাসাটিতে যেনো একটা ঘোমট ভাব, কোলাহল নেই। কিছু মানুষ কোরবানির পশু কাটায় ব্যস্ত।

আরিফের ছোটবেলার বন্ধু রফিক আহমদ বলেন- ‘আরিফের বৃদ্ধা মা মরনাপন্ন, আরিফও খুব অসুস্থ।’ সার্বিক দিক থেকে তাকে জামিন দেওয়া উচিত বলে তার মন্তব্য।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য ও সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রকিব চৌধুরী বলেন, তারা অারিফ পত্মী শ্যামা চৌধুরীর সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। পাশাপাশি আরিফের অসুস্থ মায়ের খোঁজখবর নেন।

আরিফের তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এদের মধ্যে বড় মেয়ে ও ছেলে প্রবাসে আছেন। সবার ছোট মেয়ে আছেন মা’য়ের সাথে।

আরিফুল হক চৌধুরী স্বজনরা দ্রুত তার মুক্তি কামনা করেছেন। অসুস্থ ও বৃদ্ধা মায়ের জীবনের শেষ লগনে এক পুত্রকে পাশে থাকার সুযোগ করে দিতে আদালতের কাছে আহবান জানান।

গ্রেনেড হামলায় নিহত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় আরিফ চার্জশিটভুক্ত আসামী; দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারান্তরিন।

মামলাটি এখনও বিচারাধীন। চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। ৩২ আসামির মধ্যে ৮ জন জামিনে, ১৫ জন কারাগারে ও ৯ জন পলাতক আছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন তৎকালিন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। হামলায় নিহত হন কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মনজুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী।

এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ খান হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল