মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ : বাঁশি বাজিয়ে পর্যটকদের আনন্দ দেওয়া বাউল এখন রিক্সা চালক

প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ : বাঁশি বাজিয়ে পর্যটকদের আনন্দ দেওয়া বাউল এখন রিক্সা চালক

সালাহ্উদ্দিন শুভ,কমলগঞ্জ
ভ্রমণে আসা পর্যটক দর্শনার্থীদের গান ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দেওয়া বাউল মদিনা এখন রিক্সা চালক। করোনা সংক্রমণ ভাইরাসের কারনে সরকারি নির্দেশনায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত সাময়িক বন্ধ থাকার কারণে এসব পর্যটন স্থানগুলো এখন পর্যটকশূন্য,আসছেন না কোন দর্শনার্থী,বাজছে না তার হাতের বাঁশের বাঁশি। ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের গান ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দিয়ে যা পেতেন তা দিয়েই চলতো বাউল মদিনার অভাবের সংসার। কিন্তু তাকিয়ে আছেন কবে খুলবে এই পর্যটন স্থানগলো।
প্রায় সময় পর্যটকশূন্য স্থানগুলোতে গিয়ে অপেক্ষা করতেন বাউল মদিনা কখন আসবে পর্যটক গাইবেন গান, বাজবে বাঁশের বাঁশি। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও করোনা সংক্রমণ ভাইরাসের কারনে খোলা হয়নি এসব পর্যটন স্থানগুলো। আসছেন না ও কোন পর্যটক, হচ্ছে না আয়, চলছে না সংসার। অভাবের তাড়নায় সংসারের প্রয়োজনে নিরুপায় কর্মহীন বাউল মদিনা ৫০ বছর বয়সে ধরেছেন এখন রিক্সার হেন্ডেল। কুমরে গামছা পেছিয়ে পেটে তাগিটে ছুটছেন এক যায়গা থেকে অন্য যায়গায়। মাঝে মাঝে রিক্সা তামিয়ে চোখের ও মুখের পানি মুসছেন। আবার দেখা যায় নিরবে কান্নাও করছেন।
বাউল মদিনার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শখ করে গান ও বাঁশি বাজাতেন, ধীরে ধীরে গান ও বাঁশি বাজানোটা তার নেশায় পরিনত হয়। আর এই নেশাটা এখন পেশায় পরিনত হয়েছে। কি করবো অভাবের সংসার,আয়ের কোন উৎস নাই। রুজি করে যা পান তাই খান। পর্যটন স্থানগুলোতে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের গান ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ দিয়ে কিছু বকশিস পেতেন তা দিয়েই চলতো তার ছোট অভাবের সংসার। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে বন্ধ হয়ে যায় তার কর্মস্থল। সংসারের প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে বাঁশি রেখে ধরেন রিক্সার হেন্ডেল। সুখের সময়ে অনেকেই মনের আনন্দে বাউল মদিনার গান ও বাঁশি বাজানো শুনেছেন, কিন্তু দুঃখের সময়ে কেউ শোনে না বাউল মদিনার নিরব কান্না।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল