মৌলভীবাজারে ঈদ সামনে রেখে কামারদের ব্যস্ততা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মৌলভীবাজারে ঈদ সামনে রেখে কামারদের ব্যস্ততা

প্রকাশিত: ১১:৪৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

মৌলভীবাজারে ঈদ সামনে রেখে কামারদের ব্যস্ততা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মাত্র একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে কিছুটা জমে উঠছে দা-বঁটির বাজার। এ জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া,কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, রাজনগর,বড়লেখা, মৌলভীবাজার সদর, জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কামার কারিগররা। ঈদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দা, চাকুসহ লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। দিনের পাশাপাশি গভীর রাতেও কামাররা লোহার সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বছরের এ সময় চাহিদা বেশি থাকায় কামাররা ভালো উপার্জন করে থাকেন।

যেসব এলাকায় ব্যস্ততা বেশি সেগুলো হল কুলাউড়ার ব্রাম্মণবাজার, বরমচাল, রবিরবাজার, ঢুলিপাড়া, ভৈরবগঞ্জ বাজার, জুড়ীর ভবানীগঞ্জ বাজার, ভানুগাছ বাজার, শমশেরনগর, আদমপুর, মুন্সীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায়। কমলগঞ্জ উপজেলায় ৪০-৪৫টি দোকান রয়েছে বিভিন্ন বাজারের কামারপট্টিতে। দোকানদারদের কেউ ভাড়াটিয়া, নিজ বাড়িতে বংশানুক্রমে এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। লোকসান ভেবেও এ পেশা তারা ছাড়ছেন না। তবে কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা শুধু ঈদ সামনে রেখে এ ব্যবসা করে থাকেন। ঈদুল আজহার সময় কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় বিভিন্ন কামারপট্টিতে। ঈদ মৌসুমে কোরবানির জন্য কামারপট্টির কারিগরদের প্রচুর পরিমাণ দা, চাকু, বঁটি ও চাপাতি জোগান দিতে হয়।

শমশেরনগর বাজারের কামারপট্টির সজল চন্দ্র দাস ও সুখেশ দাস বলেন, বাব-দাদার আমল থেকে এ ব্যবসার সঙ্গে রয়েছি। কিন্তু আমরা অনেক কষ্ট করে সংসার চালাই। আমাদের দুঃখের কোনো সীমা নেই। তবে ঈদ মৌসুমে আমাদের মূল টার্গেট বছরের কয়েকটা দিন ভালো টাকা, ভালো উপার্জন করা।

জেলার অধিকাংশ কামাররা বলেন, গত ঈদে কয়েক হাজার টাকা উপার্জন হলেও কারিগরদের বেতন দিয়ে খুব একটা থাকেনি। কোরবানিকে কেন্দ্র করে বেশি অর্ডার আসছে চাপাতি, দা, বঁটি, চুরি ও কুড়ালের। তারা বলেন, কাজের চাপ বেশি থাকলেও যন্ত্র তৈরি জ্বালানির দাম অনেক বেশি। তারা সারাদিন আগুনের সামনে বসে থেকে মাত্র দিন শেষে ৪/৫ শত টাকা পাওয়া যায়। এ টাকা দিয়ে তাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। সরকার যদি তাদের সহযোগিতা না করে তারা একদিন এ পেশা ছেড়ে দেবেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল