মৌলভীবাজারে ট্যাটু আঁকা অজ্ঞাত লাশের তদন্তে নেমেছে সিআইডি – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মৌলভীবাজারে ট্যাটু আঁকা অজ্ঞাত লাশের তদন্তে নেমেছে সিআইডি

প্রকাশিত: ৫:২২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২০

মৌলভীবাজারে ট্যাটু আঁকা অজ্ঞাত লাশের তদন্তে নেমেছে সিআইডি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে মৌলভী চা বাগানের গভীর খাদে গত ২২ ফেব্রুয়ারী পাওয়া পুরুষের লাশের সব রহস্য এখন এই লাশটির গাঁয়ে আঁকা রুমা ও আর+পি ইংরেজী অক্ষরে লিখাকে ঘিরে। সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের কাছে একটাই প্রশ্ন কে এই রুমা, আর ও পি শব্দের মিনিংটাই বা কি? কোথাও কোন ক্লো মিলছে না। হয়তো লুকিয়ে আছে তার ভিতর কোন চাঞ্চল্যকর রহস্য। মৌলভীবাজারের মৌলভী চা বাগানের গভীর খাদে গত ২২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় পাওয়া যায় এক পুরুষের লাশ। যার ডান হাতে ইংরেজীতে ট্যাটু ইংরেজী চার অক্ষরে লিখা রুমা আর বাম হাতের কনুইয়ে নিচে আর+পি লেখা। অজ্ঞাত এই লাশের গায়ে এমন ট্যাটু নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। এঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জ্ঞান উরাং। মামলা নং ১৮/৩৮। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় মৌলভী ও মাজদিহি চা বাগানের সংযোগস্থলে গভীর খাদের নিচে এক ব্যক্তির লাশ দেখতে পান চা শ্রমিকরা। খবর পেয়ে মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডি টিমের সহযোগীতায় রাত সাড়ে ৯টার সময় লাশটি খাদ থেকে তুলা হয়। তখন অজ্ঞাত এই মরদেহের পড়নে একটি স্টিকারযুক্ত হাফ হাতা লাল জার্সি, ছাই রঙের ফুল হাতা গেঞ্জি, খয়েরি সেন্ডো গেঞ্জি, অফহোয়াইট রঙের গ্যাবাডিং পেন্ট ও পায়ে কালো মুজা ছিল। ডান হাতে ইংরেজিতে ট্যাটু জাতীয় রুমা ও বাম হাতের কুনুইয়ের নিচে আর+পি লেখা ছিল। মৃত দেহটির গলায় ডান পাশে ফাঁস জাতীয় থেতলানু জখমসহ অন্যান্য অঙ্গগুলো রক্তাত্ব ছিল। তাক্ষণিকভাবে স্থানীয়ভাবে লোকজন লাশটি কার খোঁজ করেন। কিন্তু কোন সন্ধ্যান মেলে নি। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার একদুই আগে কে বা কারা অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য খাদে ফেলে দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাজদিহি চা বাগানের শ্রমিকরা খাদে একটি লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি বাগানের ম্যানেজারকে অবহিত করলে পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পুলিশ এসে অনেক প্রচেষ্টার পর লাশটি উদ্ধার করেছিল। দেখে লাশটি কয়েদিন আগের পুরনো মনে হচ্ছে। আর হাতের ট্যাটু দেখে মনে হচ্ছে প্রেম সংক্রান্ত কোন বিষয় এখানে রয়েছে। আর কেউ হত্যা করে লাশটিকে গুম করতেই এই খাদে ফেলে গেছে। জানা যায়, ঘটনার দুই দিন পর মৌলভীবাজার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ দীর্ঘ ৫ মাস মামলাটির তদন্ত করে কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। গত ২৪ জুলাই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এরপর অনেকটা আশার আলো পায় অন্ধকারে থাকা এই মামলাটি। সিআইডি লাশটির আলামত থেকে প্রথমে পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তিতে তদন্তের প্রেক্ষিতে হত্যায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে মনে করছে। এবিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মৌলভীবাজার সিআইডির এসআই আবু নওশের জানান, মামলাটি জটিল এখন পর্যন্ত এর পরিচয় পাওয়া যায় নি। হত্যা রহস্য উদঘাটনের আগে প্রয়োজন তার পরিচয় খোঁজে বের করা। আমরা প্রযুক্তির সাহায্যে চেষ্টা করছি পরিচয় জানার। উদ্ধার হওয়া যুবকের বয়স হবে আনুমানিক ৩৩ থেকে ৩৬। তার দুই হাতে দুটি ট্যাটু ছিলো। একটিতে লেখা ইংরেজীতে রুমা অন্যটিতে ইংরেজীতে আর + পি। ধারনা করা যাচ্ছে তার নামের প্রথম অক্ষর পি। এই রহস্যটি উদঘাটন হলে আশা করছি চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য উদঘাটন হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল