মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন বিভাগে চরম দূর্ভোগে রোগীরা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন বিভাগে চরম দূর্ভোগে রোগীরা

প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২০

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন বিভাগে চরম দূর্ভোগে রোগীরা

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীরা সময়মতো ওষুধ ও খাবারসহ সামান্যতম সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। হাসপাতালে মশার তীব্র উপদ্রব থাকার পরও মশারী কিংবা কয়েলের ব্যবস্থা নেই। সেখানে নিয়মিত যান না কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। আইসোলেশন ওয়ার্ডের দেখাশোনা করছেন হাসপাতালের নার্স ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১৩ জুন করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মর্জিনা আক্তার সোমবার ২২ জুন অভিযোগে জানান। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অপরাজিতা প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রিপট্রাস্টের মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়কারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
মর্জিনা বলেন, “প্রতিদিন সকালের নাস্তা দেয়া হয় ১১টায়, দুপুরের খাবার বিকেল ৪টায় আর রাতের খাবার দেওয়া হয় রাত ১০টায়। ভর্তি হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ এর নমুনা নিয়েছেন। ২২ জুন সোমবার পর্যন্ত রিপোর্ট আসেনি।”

চিকিৎসা সেবায় গাফিলতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কোনো ডাক্তারের দেখা পাইনি। সঠিক সময়ে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ দেয়া হচ্ছে না। প্রেসক্রিপশনে লেখা থাকে একটা, রোগীকে ওষুধ দেয়া হচ্ছে অন্যটা। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারি বা কয়েল চাওয়া হলে ঝাড়ুদাররা বলে বাসা থেকে নিয়ে আসতে।” হাসপাতালটির করোনা আইসোলেশনে থাকা অপর দুই রোগী সম্পা বৈদ্য (৩২) ও জগদীশ সরদারও (৪২) একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি এলাকায় রহমান মিয়া জানান, তার ভাই দুরুদ মিয়ার জ¦র, কাশি ও শ^াসকষ্ট দেখা দিলে গত ২১ জুন মৌলভীবাজারে সদর হাসপাতালে আইসোলশনে ভর্তি করেন। সকাল সাড়ে ১১ টায় হাসপাতালের আইসোলশনে ভর্তি করা হলে দূপুর ১ টায় মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কোন চিকিৎসক দেখতে আসেননি। মৃত্যুর পর তড়িঘড়ি করে উপস্থিত পিপিই পরা ২ ব্যক্তি টেনে হেঁচরে লাশ বাহিরে নিয়ে আসে। আমরা তাদের অনুরোধ করি কিছু সময় ভেতরে রাখার জন্য। একটা গাড়ি এনে নিয়ে যাব, সেই সময়টাও তারা দেয়নি।

এসব অভিযোগ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থ সারথী কাননগো বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি আর আমি আরএমওকে বলে দিচ্ছি ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দিতে।”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল