যত্রতত্র মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসের ছড়াছড়ি, গোলাপগঞ্জে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০

যত্রতত্র মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসের ছড়াছড়ি, গোলাপগঞ্জে বাড়ছে করোনা ঝুঁকি
ফাহিম আহমদ, গোলাপগঞ্জ
করোনা ভাইরাস থেকে সচেতন থাকতে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও ব্যাপক হারে বাড়ছে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসের ব্যবহার। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক লোক পর্যন্ত ব্যবহার করছেন এসব সুরক্ষা সামগ্রী। সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার ব্যাপক হারে বাড়লেও ব্যবহারের পর এসব যথাস্থানে ফেলার সচেতনতা বাড়ে নি।
ব্যবহারের পর এসব সুরক্ষা সামগ্রী যথাস্থানে না ফেলার কারণে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের চেয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে ব্যাপক হারে।
গোলাপগঞ্জে যত্রতত্র মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসের ছড়াছড়ির কারণে, বাড়ছে করোনা ঝুঁকি। ইতিমধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সিলেট বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
উপজেলায় করোনা রোগীর সংস্পর্শে থেকে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। গত ১ মাসে উপজেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এখন পর্যন্ত কাউন্সিলর, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মীসহ ৩৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়েছেন এবং ১ জন মৃত্যু বরণ করেছেন।
উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় অলিগলিতে মানুষের ব্যবহৃত এসব সুরক্ষা সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এতে মহামারী করোনা নিয়ে আরও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে উপজেলাবাসীর মধ্যে। মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভসসহ করোনা প্রতিরোধক সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের পর তা সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট স্হানে ফেলতে বলা হলেও তা মানছেন না অনেকেই।
যত্রতত্র ফেলার কারণে এসব ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁঁকি বাড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুধবার (২৭মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফার্মেসীর সামনে, দোকানের সামনে, যে সব রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল বেশি, বাজার-হাটে, ফুটপাতে, ড্রেনে পরে থাকতে দেখা গেছে এসব সুরক্ষা সামগ্রী।
সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহারের পর যথাস্থানে না ফেলার কারণে উপজেলাবাসী ভয়ংকর করোনা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
পথচারী রইছ মিয়ার সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে আমরা মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছি। অনেকে দেখি এটা ব্যবহারের পর যেখানে-সেখানে ফেলে দেন। এসব জায়গা দিয়ে আমরা সব সময় চলাফেরা করি। এতে আমাদের করোনার ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন,
করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করতে গিয়ে ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী যেখানে-সেখানে ফেললে মানুষ এর থেকে সংক্রমণ হতে পারে। যদি মাস্ক, গ্লাভস ফেলা দেওয়া ব্যক্তির মধ্যে করোনা থেকে থাকে তাতে অন্য জন এসবের সংস্পর্শে আসার কারণে আক্রান্ত হতে পারেন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের অনেক মানুষ জানে না যে কী ভাবে এসব ব্যবহার করতে হয়। ব্যবহার না জানার কারণে করোনা প্রতিরোধের চেয়ে করোনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবার উচিত মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহারের পর এটা যত্রতত্র না ফেলে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা। মাস্ক গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিলে এ থেকে কোন সংক্রমণ হয় না।
তিনি বলেন, একজন মানুষ মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস পরে বাড়ি থেকে বাহির হয়ে গিয়ে আবার যখন বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে থেকে বাড়িতে ফিরে উঠানে, বাড়ির আঙিনায় ব্যবহৃত জিনিস ফেলার কারণে পরিবারের কেও যে এসব থেকে আক্রান্ত হবে না এটার নিশ্চয়তা নেই।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল