যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদকের বাসায় পুলিশী তল্লাসীর নিন্দা জানিয়েছেন রিজভী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদকের বাসায় পুলিশী তল্লাসীর নিন্দা জানিয়েছেন রিজভী

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৭

যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদকের বাসায় পুলিশী তল্লাসীর নিন্দা জানিয়েছেন রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে চারদিকে বিদায়ের বাঁশি বাজতে শুরু করেছে। তাই এখন দ্বিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সরকার আরো বেশি উন্মত্ত হয়ে উঠেছে।’
বুধবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিএনপির পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের লোকজনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন রিজভী। এসময় তিনি সিলেটের সাবেক ছাত্রনেতা ও বর্তমান যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহেদ আহমদ তালুকদারের সিলেটের বাসা সহ সমগ্র দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসা বাড়িতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তল্লাসী ও হয়রানী নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিনা কারণে মিছিল থেকে পুলিশ দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে এমন দাবি করে বিএনপির এই শীর্ষনেতা বলেন, ‘পূর্বঘোষিত বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বেপরোয়া হামলা, গুলি ও লাঠিচার্জ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা।
গত দুই দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, গাইবান্ধা, বরিশাল, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিলে নির্বিচারে হামলা ও গুলিবর্ষণ করেছে। কোনো কোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হামলায় অংশ নেয় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরাও। তারা বিভিন্ন জেলায় বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় এমনকি নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ঘেরাও করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।’
এছাড়াও পুলিশ দেশব্যাপী বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে বলে দাবি করে রিজভী। বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন জেলায় নেতাকর্মীদের বিরামহীনভাবে গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
রিজভী বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাক্ষুধা সর্বগ্রাসীরূপ নিয়ে গোটা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে গিলে খেতে উদ্যত হয়েছে। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের ওপর ক্ষমতাসীনদের থাবা বিস্তার লাভ করেছে। সর্বোচ্চ আদালত আজ নজিরবিহীন সন্ত্রাসে ক্ষতবিক্ষত। সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতিও আজ অনিরাপদ। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনরা প্রধান বিচারপতিকে অসুস্থ গালিগালাজ ও হুমকি প্রদর্শন করেছে। তারা প্রধান বিচারপতিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তার বিরুদ্ধে অশোভন সমালোচনা ও মিডিয়া ট্রায়ালের এক সর্বনাশা খেলায় মেতেছে সরকার। এখন প্রধান বিচারপতির ওপর যা করা হচ্ছে তা সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত আক্রোশ। রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে যাওয়াতে প্রধান বিচারপতির ওপর চলছে এখন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের প্রবল ঝাপটা।’

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বিএনপির অঙ্গ সংগঠন প্রতিবাদ মিছিল করায় সাধুবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগ প্রতিহত করে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জোরালো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সরকারের যেকোনো হিংস্র আক্রমণ মোকাবেলা করতে জাতীয়তাবাদী শক্তি সদা প্রস্তুত। তিনি প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়ার মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল