যুগের পরিবর্তন : তালুকদার তুহিন

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০

যুগের পরিবর্তন : তালুকদার তুহিন
ছোটবেলা সিলেটের সকল বাসা বাড়িতে ক্যাবল লাইন বা স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখার সুযোগ হতো না।অনেকে টিভিতে টিউনিং করে বা নরমাল এন্টেনা লাগিয়ে যদিবা দুই একটা চ্যানেল দেখতে পেতো,তাহলে আনন্দে হাততালি দিতো।তখন ছিলো ভিসিআর এর যুগ।মানুষ এই ভিডিও প্লেয়ার বাসায় এনে বিভিন্ন সিনেমার ক্যাসেট দেখতো।আমাদের বাসাতেও যেদিন ভিসিআর আনা হতো আমরা ছোটরা আনন্দে সারা বাড়ি ছুটে বেড়াতাম।সারা রাত জেগে থাকার আনন্দ। বিটিভিতে ফুটবল অথবা ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলা দেখাতো কিন্তু মন খারাপ হয়ে যেতো,যখন খেলা চলাকালীন রাত ৮টা বা ১০ টার খবর চলে আসতো। তখন জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল ছিলো ‘এরাবিয়ান নাইটস’খ্যাত ‘আলিফ লায়লা’।প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারের অপেক্ষায় আমাদের যেন দিন কাটতোই না।মনে পড়ছে বিখ্যাত লেখক ‘হুমায়ুন আহমেদের’ রচিত ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের জনপ্রিয় চরিত্র ‘বাকের ভাইয়ের’কথা।শেষ পর্বে যখন বাকের ভাইয়ের ফাঁসির দৃশ্য দেখানো হবে,তখন মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলো মিছিল নিয়ে।”বাকের ভাইয়ের ফাসি মানি না মানব না।”অবাক হচ্ছেন?সামান্য নাটকের চরিত্র নিয়েই এতো কিছু!হুম,তখন মানুষের আবেগ শক্তিশালী ছিলো।বাংলাদেশ যখন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে দিলো,সম্ভবত পুরো বাংলাদেশের মানুষ আনন্দে রাস্তায় নেমে এসেছিলো।
তবে এখনকার যুগে এগুলো ইতিহাসই বটে,আমাদের সময় কাটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেই।ছোট যারা তারা হয়তো এখন নেটফ্লিক্স থেকে ওয়েব সিরিজ দেখে অভ্যস্ত।নাটক সিনেমাগুলোতেও ভারতীয় টিভি চ্যানেলের ছায়া পাওয়া যায়,যাতে মাটির গন্ধ নেই।সেলফোন নেই এমন মানুষ পাওয়াও দুস্কর।এখন স্যাটেলাইট টিভিতে শত শত চ্যানেল দেখা যায়।সবকিছুই আধুনিকতার ছুয়ায় পরিপূর্ণ।পাড়ায় মহল্লায় নেই খেলার মতো জায়গা।ছেলেমেয়েরা ইন্টারনেট গেইম খেলেই অভ্যস্ত।অনেকে হয়তো কোনদিন মাঠে খেলারও সুযোগ পায়নি।
তবে যুগের পরিবর্তন হলেও একটা জিনিসের পরিবর্তন হয়নি,সেটা হচ্ছে প্রকৃতির প্রতিশোধ।সৃষ্টিকর্তাই সবকিছুর মালিক এবং উনার ইশারায় হয় সবকিছু। একসময় কলেরায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যেতো। গ্রামের পর গ্রাম উজার হয়ে যেতো, যেটা শুনলে এখনকার মানুষ হয়তো অবাক হয়।কিন্তু অবাক হওয়ার কিচ্ছু নেই,কারণ ঐ একইরকম ভাবে এসেছে করোনা ভাইরাস।লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাচ্ছে।আসলে প্রকৃতি তার আপন নিয়মেই চলে এবং সবকিছুতেই ভারসাম্য রাখতে হয়।বছরের পর বছর বনজঙ্গল,পাহাড়-পর্বত সবকিছুই কেটে সাফ করে দিতে চায় মানুষ।প্রকৃতি ও তখন নিজ রুপে আবির্ভুত হয়,মানুষকে মনে করিয়ে দিতে,যুগের পরিবর্তন হলেও প্রকৃতির পরিবর্তন করতে নেই,তাহলেই বিপদ।
কলামিস্ট,প্রভাষক(ইংরেজি) এবং সভাপতি,সাকসেস হিউম্যান রাইট সোসাইটি,সিলেট জেলা।