যুবদল নেতার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৭, ২০১৭

যুবদল নেতার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় যুবদল নেতা, ব্যবসায়ী ময়নুল মোহাম্মদকে গ্রেফতারের নিন্দা ও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে উপজেলা বিএনপির সহযোগি সংগঠন যুবদল। গতকাল ০৬ আগস্ট রোববার দুপুরে বড়লেখা পৌরশহরে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত ১৯ জুন (২০১৭) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এসময় প্রতিবাদ করলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে নিহত হওয়া পথচারী হাফিজ উদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর বাদি হয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ১৫ জন নেতাকর্মীর নামোল্লেখ ও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি রেখে থানায় একটি মামলা করেছেন। এই মামলাটি উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। ইতিমধ্যে মামলায় আমাদের কয়েকজন নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যুবদল নেতা ও বাটা সু-স্টোরের সত্ত্বাধিকারী নিরপরাধ ময়নুল মোহাম্মদের উপরে হামলা ও তাঁর দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এই মামলায় পুলিশ গত ১৭ জুলাই রাতে তাকে নিজ বাড়িতে থেকে গ্রেফাতর করেছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। আমরা গ্রেফতার হওয়া যুবদল নেতা ও ব্যবসায়ী ময়নুল মোহাম্মদসহ বিএনপির সব নেতাকর্মীর ওপর দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তাদের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদে ১৯ জুন সোমবার পৌরশহরে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির ডাকা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে হাফিজ উদ্দিন (৩০) নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টায় হাফিজ মৃত্যুবরণ করেন। এদিন রাতেই নিহত হওয়া পথচারী হাফিজ উদ্দিনকে নিজেদের কর্মী দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর বাদি হয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ১৫ জন নেতাকর্মীর নামোল্লেখ ও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি রেখে থানায় একটি মামলা করেন।  মামলার পর রাতেই উপজেলা যুবদল সভাপতি ফখরুল ইসলাম ও ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল কাদির পলাশকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭ জুলাই (২০১৭) রাতে উপজেলা যুবদল নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ময়নুল মোহাম্মদ ও মামুনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল