যে কারণে মালদ্বীপে রাজনৈতিক সঙ্কট – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

যে কারণে মালদ্বীপে রাজনৈতিক সঙ্কট

প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮

যে কারণে মালদ্বীপে রাজনৈতিক সঙ্কট

ঠিন রাজনৈতিক সঙ্কটে দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া একটি রায়কে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বিস্ফোরণোন্মুখ। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ সহ বিরোধী দলের ৯ জন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তাদেরকে মুক্তি দেয়ার রুল জারি করে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বরখাস্ত করা ১২ জন এমপিকে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু আদালতের এই রায় কার্যকর করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন।কিন্তু কেন? এর উত্তর হলো এ বছরেই সেখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা রয়েছে। বর্তমানে বৃটেনে নির্বাসনে রয়েছেন দেশটিতে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ। যদি আদালতের ওই রায় কার্যকর করেন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন তাহলে মোহামেদ নাশিদ লন্ডন থেকে ফিরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া বিরোধী দলের যে ১২ সদস্যকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছে আদালত তাদেরকে পুনর্বহাল করা হলে ৮৫ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের দল প্রগ্রেসিভ পার্টি। সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে পড়বে বিরোধী দল। যদি তা-ই হয় তাহলে পার্লামেন্টের স্পিকারকে উৎখাত করার ক্ষমতা অর্জন করবে বিরোধীরা। তারা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে পুরো সরকারকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। এ কারণেই সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর নিয়ে এমন রাজনৈতিক বারুদের ওপর বসে আছে মালদ্বীপ। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট তার রায় ঘোষণা করে। এর অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ নাশিদ বৃটেন থেকে দেশে ফিরতে পারবেন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবেন। উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী অভিযোগ এনে নাশিদকে ১৩ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। পরে তিনি বৃটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়ে সেখানে ছুটে গিয়েছেন। বর্তমানে সেখানেই স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। ওদিকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বরখাস্তকৃত ১২ এমপি, আদালত যাদেরকে পুনর্বহাল করেছেন, তারা পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন রোববার। তবে তাদেরকে বাধা দিয়েছিল সেনাবাহিনী। তা সত্ত্বেও তারা ভিতরে প্রবেশ করেন।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল