যে কারনে খালেদ-লোকমানের উপর ব্যর্থতার দায় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

যে কারনে খালেদ-লোকমানের উপর ব্যর্থতার দায়

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৭

যে কারনে খালেদ-লোকমানের উপর ব্যর্থতার দায়

সাংগঠনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ ও আবু সালেহ লোকমানের নেতৃত্বাধীন সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কমিটি মঙ্গলবার বাতিল ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সংসদ। ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের এমন সিদ্ধান্তে তোলপাড় চলছে সিলেটের রাজনীতির অঙ্গনে।

২০১৪ সালে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠনের পর থেকেই বির্তক পিছু ছাড়ছিলনা তাদের। ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রচন্ড বিদ্রোহের মূখেও পড়তে হয় তাদের। জেলা ছাত্রদল সভাপতি এডভোকেট সাঈদ আহমদ ও মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ লোকমান শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত হন নেতাকর্মীদের হাতে।

তোপের মূখে পড়ে বেশ কিছু দিন তাদেরকে আত্নগোপনে থাকতে হয়। ব্যাপক কমিটি বাণিজ্য শিবির-ছাত্রলীগ ও ছাত্র সমাজ থেকে আগতদের পূনর্বাসনসহ নানা বির্তকের জন্ম দেন তারা। প্রকাশ্যে টাকা পয়সা লেনদেনের কারনে জেলা সভাপতি সাঈদ আহমদকে বিকাশ সাঈদ হিসেবে ডাকতে শুরু করেন দলের নেতাকর্মীরা। আর শিবির পূনর্বাসনের জন্যে মহানগর সাধারণ সম্পাদক লোকমান উপাদি পান শিবির লোকমান হিসেবে।

দুই কমিটি মিলিয়েই প্রায় হাজার খানিকের কমিটি বানিয়ে হাস্যরসের জন্মদেন তারা। কমিটিতে প্রবাসী, অছাত্র, আত্নীয় স্বজন ও পেশাদার অপরাধীদেরকেও জায়গা করে দেওয়া হয়। ফলে কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় কেন্দ্রীক মেধাবী ছাত্রদের একটি বড় অংশ বিমূখ হতে থাকে ছাত্রদলের প্রতি। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অনেকেই নিষ্কৃয় হয়ে পড়েন।

আন্দোলন সংগ্রামে মিছিল মিটিংয়ে এক হাজার সদস্যদের মধ্যে পঞ্চাশ জনের বেশি লোকের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি। ফলে কমিটি ভেঙ্গে তারুণ্য নির্ভর নতুন কমিটি গঠনের দাবী উঠে আসছিলো বেশ আগে থেকেই। মঙ্গলবার মহানগর ছাত্রদলের কমিটি হঠাৎ করে বাতিল ঘোষণা হওয়ায় তোলপাড় চলছে দলের অভ্যান্তরে।

কমিটি বাতিলের সংবাদে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও ফেসবুকে কেন্দ্র কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেও দেখা যায়। একই সাথে ব্যর্থ জেলা কমিটি বাতিল না করায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের নেপথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ দীর্ঘ দিন থেকে আরব আমিরাতের কাতারে এবং সিনিয়র সহ সভাপতি মাহফুজুল করিম জেহিন আমেরিকায় অবস্থান করছেন। সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ লোকমান দলের মিছিল মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকলেও প্রশাসনের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মূখে তোলে খাবার পরিবেশনের একটি অন্তরঙ্গ ছবি দলের হাইকমান্ডের কাছে হস্তগত হয়।

একই ভাবে ছাত্রদল নেতাদের প্রবাসে কাজ করার ছাবিও হস্তগত হয় হাইকমান্ডের হাতে। এতে চরম ক্ষুব্দ হন দলের হাইকমান্ড। (ছবিগুলো আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে) আর এতেই ভাগ্য বিপর্যয় ঘটে ব্যর্থতার দায় নিয়েই বিদায় নিতে হয় নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ ও আবু সালেহ লোকমানের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে সুরমার ডাককে জানান, কমিটি বাতিল হওয়া খালেদ-লোকমানের কর্মের ফল। তারা বলেন, ২০১৪ সালে একজন ব্যবসায়ীর যোগসাজোসে যোগ্য এবং পরীক্ষিত নেতাদেরকে বাদ দিয়ে সিলেট ছাত্রদলের বিভিন্ন বলয়ের অযোগ্যদের দিয়ে কমিটি গঠনে ভ’মিকা রাখেন খালেদ-লোকমান।

তাদের ষড়যন্ত্রের কারনে ঐ সময় ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসার দাবীদার ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাফেক মাহবুব, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মতিউল বারী খুর্শেদ, সমাজসেবা সম্পাদক রেজাউল করিম নাচন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মুর্শেদসহ অনেকেই বাদ পড়তে হয়েছিলো। ঐ সময় ক্ষুব্দ হয়ে এদের অনেকেই ছাত্রদলকে গুডবাই জানান তখনই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ঐ নেতারা বলেন খালেদ-লোকমানের মতো সাঈদ-মুন্নার নেতৃত্বাধীন কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সিলেট ছাত্রদলকে রাহুমুক্ত করা এখন সময়ের দাবী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল