যে কোন বাগান আমাদেরকে প্রকৃতি, স্থায়িত্ব, সম্প্রদায় এবং পাশাপাশি ভালোবাসা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখায় – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

যে কোন বাগান আমাদেরকে প্রকৃতি, স্থায়িত্ব, সম্প্রদায় এবং পাশাপাশি ভালোবাসা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখায়

প্রকাশিত: ৭:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২১

যে কোন বাগান আমাদেরকে প্রকৃতি, স্থায়িত্ব, সম্প্রদায় এবং পাশাপাশি ভালোবাসা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখায়

লেখক :মুকুল হক
যদি আপনি একজন আগ্রহী গার্ডেনারকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন বাগান করা পছন্দ করেন? উনি তখন অনেক ভাল লাগা কারণের কথা বলবেন। আসলে গার্ডেনারদের জীবনে বাগান এত সুখ এবং অনুপ্রেরণা নিয়ে আসে তা তাঁদের সাথে কথা বললেই বুঝা যায়।

তেমনি একজন গার্ডেনারের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, তিনি হলেন জনাব মমতাজ আলী।সিলেট শহরের অদূরেই রনিপদ গ্রাম। রনিপদ গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক। জনাব মমতাজ আলী এ সড়কের পাশেই এমন নজরকাড়া সূর্যমুখীর হলুদ বাগান করেছেন সূর্যমুখীর মায়াবি এই রূপ যে কারো মনকে নাড়া দিতে বাধ্য।

গাড়ি থেকে সূর্যমুখীর হলুদ বাগানের নয়ন জুড়ানো এ দৃশ্য দেখে অকুস্থলেই দ্রুত বেগে চলা গাড়িটি ব্রেক নিতে বাধ্য হল। গাড়ি থেকে সবাই নামলাম, নামার পর পরই মনে হয়েছিল এ এক অভাবনীয় মনজুড়ানো সৌন্দর্য, হাজারো সূর্যমুখীর সমারোহে আমরা মুগ্ধ।

আমাদেরকে বাগানে প্রবেশ করতে দেখে জনাব মমতাজ আলী নিজেই এগিয়ে এলেন। বললেন, “বাগানে প্রবেশ করতে আমি কোন হাদিয়া নেই না, বাগান দেখার পর আপনাদের যা ইচ্ছে তাই দিবেন”। উনার কথা গুলো মনের মাঝে বেশ নাড়া দিল।

যাই হোক, উনার অনুমতি নিয়ে বাগানে প্রবেশ করি, অসাধারণ লাগছিল সূর্যমুখী ফুল বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে। আমি একের পর এক ভিডিও, স্লো মো, সেলফি, ছবি তুলতে লাগলাম। তখন হৃদয় জুড়ে অন্যরকম এক ভালো লাগা কাজ করছিল।

পুরো সূর্যমুখী বাগান ঘুরে দেখার পর হাদিয়া পরিশোধ করে ইচ্ছে হল মমতাজ আলীর সঙ্গে কথা বলতে,
জিজ্ঞেস করি কেন আপনি বাগানে প্রবেশ করতে কোন প্রবেশ মূল্য নিচ্ছেন না?
কি কারণে সূর্যমুখী বাগান করতে আগ্রহী হয়ে উঠলেন??

প্রতু্যত্তরে বললেন, “এটি আমাকে আনন্দিত করে বিধায় আমি কোন প্রবেশ মূল্য নেই না। এটি আমার শান্তি, এটি আমার ভিত্তি, এটি আমাকে প্রকৃতির সাথে সংযুক্ত করে নেয় এবং এটি আমার প্রতিদিনকার ইতিবাচক শক্তির থেরাপি”।

পরিশেষে লিখছি, আসলে যে কোন বাগানই আমাদেরকে প্রকৃতি, স্থায়িত্ব, সম্প্রদায়, পাশাপাশি ভালোবাসা সম্পর্কে অনেক কিছু শিখায়। সেই সব কারণেই হয়তো আমরা সহজেই “বাগান করা” শখের প্রতি আকৃষ্ট হই।