যৌন লালসার শিকার দুই ছেলেশিশুর গল্প – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

যৌন লালসার শিকার দুই ছেলেশিশুর গল্প

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭

যৌন লালসার শিকার দুই ছেলেশিশুর গল্প

মো.নাঈমুল ইসলাম:- ছেলেশিশুটির বয়স ১১ বছর। রাজধানীর একজন শিক্ষক কয়েক মাসের মধ্যে শিশুটিকে পাঁচবার ধর্ষণ করেন। এ কথা যেন সে কাউকে না বলে—এ জন্য শিক্ষক তাকে হুঁশিয়ার করেন। শিক্ষকের দ্বারা এমন যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবাকে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তার বাবা যখন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে বিষয়টি জানান, তখন ঘটনাটি চেপে যেতে বলেন।
কিন্তু শিশুটির বাবা সেই শিক্ষকের (২১) বিচার চেয়ে মামলা করেন। সেই মামলায় শিক্ষক গ্রেপ্তার হন। পরে আদালতে ওই শিক্ষক ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এখন ওই শিক্ষক কারাগারে আছেন। মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিক্ষক বলেছেন, তিনি শিশুটিকে প্রতিষ্ঠানের চারতলায় ডেকে নেন। পরে তাকে ধর্ষণ করেন। শিশুটির বাবা বলছিলেন, তার ছেলে এখন আর আগের মতো নেই। সব সময় চুপচাপ থাকে। কিছু খেতে চায় না। ঘটনার পর থেকে সে তার লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না। কান্নাকাটি করে। ১৯ সেপ্টেম্বর শিশুটির বাবা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে রাজধানীর ডেমরা থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘আসামি ডেমরার একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। গত জুলাই মাস থেকে একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এ কথা না বলার জন্য শিশুটিকে হুমকিও দেন। ওই শিক্ষক আমাদের কাছে যেমন স্বীকার করেছেন ধর্ষণ করার কথা, তেমনি আদালতেও তিনি স্বীকার করেন। তিনি কেবলই বলছেন, এমন কাজ আর জীবনে করবেন না। শিগগিরই এই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’

আরেকটি ছেলেশিশুর বয়স ছয় বছর। কলাবাগান এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকে সে। গত মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটিকে ডেকে নেয় ২৫ বছর বয়সী এক যুবক। পরে ওই যুবক শিশুটিকে ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে তার মা-বাবার কাছে আছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এখন সে তার মা-বাবার কাছে আছে। দু-এক দিনের মধ্যে শিশুটিকে আদালতে পাঠিয়ে তার জবানবন্দি রেকর্ড করানোর ব্যবস্থা করা হবে।

শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার বলছেন, রাজধানীতে ইদানীং শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। মেয়েশিশুর পাশাপাশি ছেলে শিশুরাও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আগে বিষয়টি নজরে না এলেও এখন মামলা হচ্ছে। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার আদালতে বিচারাধীন অন্তত ২০টি ধর্ষণ মামলার ভিকটিম ছেলেশিশু। এ ধরনের ঘটনা আগে কম দেখেছি। ইদানীং বেড়ে গেছে।’

রিপোর্টার:- মো.নাঈমুল ইসলাম
ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক ও কলামিস্ট