যৌন হয়রানির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি সহ ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

যৌন হয়রানির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি সহ ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০১৭

যৌন হয়রানির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি সহ ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:: যৌন হয়রানির অভিযোগে শাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ সহ ছাত্রলীগের ৮ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক স্কুল ছাত্রীর মা।

বুধবার (১২ এপ্রিল) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উক্ত মামলাটি দায়ের করা হয়।

নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রীর মা মাহমুদা খানম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ, ছাত্রলীগ কর্মী মাহমুদুল হক রুদ্র,সাজ্জাদ রিয়াদের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহিতুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আব্দুল  মালেক সিলেটসংবাদকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়,শনিবার বিকেলে পাঠানটুলা দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষ দেয়া ওই তরুণী  (সানজিদা আফরোজ)  তার ফুফাতো ভাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়াতে গেলে শহীদমিনার এলাকায় আসামীরা তাকে ইভটিজিং করেন এবং শারিরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিকের উপর হামলার চালায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। হামলায় আহত শাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাবিউল আলম দিপু ও সাধারণ সম্পাদক সরদার আব্বাস সিলেট ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শনিবার (০৮ এপ্রিল) ফুফাতো ভাইকে নিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) বেড়াতে গিয়েছিলেন নগরীর পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক ছাত্রী। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে উত্যক্তের শিকার হন তিনি। উত্ত্যক্তকারীরা নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী বলে পরিচয় দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে হামলার শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক। পরে ঘটনা জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক সংবাদকর্মী এর সত্যতা জানতে চাইলে মারধরকারী শিক্ষার্থীরা নিজেদের ছাত্রলীগকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থের অনুসারী পরিচয় দেয়। এ সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় এবং ওই ছাত্রলীগকর্মীরা সাংবাদিকদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে নারী উত্ত্যক্তের অভিযোগ ওঠেছিল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মুনশী নাসের ইবনে আফজাল বলেন, সবগুলো অভিযোগই তদন্তাধীন আছে। এর আগে একজনকে শাস্তি দেওয়াও হয়েছিল। আমরা সবগুলো অভিযোগই খতিয়ে দেখছি।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল