রবীন্দ্র স্মরণ উৎসবে চাঁদাবাজির মহোৎসব – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রবীন্দ্র স্মরণ উৎসবে চাঁদাবাজির মহোৎসব

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯

রবীন্দ্র স্মরণ উৎসবে চাঁদাবাজির মহোৎসব

আহমেদ মারুফ
সিলেটে ‘রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব’ চাঁদাবাজির মহোৎসবে রূপ নিয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান’ এই শব্দকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজির এই মহোৎসব চলছে। সিলেটের ৫২টি ব্যাংকসহ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এমন চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে সিসিক মেয়র স্বাক্ষরতি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। অপারগতায় নানা খড়গ নেমে আসতে পারে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। মহান কবির স্মরণ উৎসব ঘিরে এমন হীন তৎপরতায় সিলেটের সংস্কৃতিকর্মী, সুশীল সমাজ নিন্দা জানিয়েছেন।
তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ বাঙালির চেতনার বাতিঘর। রবীন্দ্রনাথের কারণেই বিশ^দরবারে বাঙালি সমাৃদত। মহান কবির স্মরণ উৎসবের নামে চাঁদাবাজি একটি ঘৃণ্য অপকর্ম। তা কখনোই সুস্থ সংস্কৃতির লালন হতে পারে না।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নির্বাহী সদস্য দেবব্রত রায় দীপন বলেন, রবীন্দ্র নাথ কোনো দলের নয়। রবীন্দ্রনাথের পরিচয়ে আমরা বিশ^দরবারে সমাদৃত। মহান কবির স্মরণ উৎসবের নামে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তিনি বলেন, আমরা শুরুতেই বলে আসছি, বিতর্কিত ব্যক্তিদের সরিয়ে রবীন্দ্র গবেষক, রবীন্দ্রপ্রেমীদের স্মরণ উৎসবে যুক্ত করা হোক।
সাবেক প্রথম প্যানেল ও মেয়র রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, এরকম কোনো তথ্য প্রমাণ আমার কাছে নাই। তবে শোনেছি ব্যাঙ্কারদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। এখানে চাঁদা দাবির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে রবীন্দ্রনাথে সিলেট আগমণ ও স্মরন উৎসব উপলক্ষে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যদি এরকম কিছু ঘটে থাকে তা অবশ্যই অনভিপ্রেত প্রশ্ন থেকে যাবে।
কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, রবীন্দ্র উৎসবের নামে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যারা চাদা দাবি করছেন তা তিনি ঠিক করছেন না। আমার জানা মতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকবার সিলেট এসেছেন কিন্তু কোনো চাদা দাবি করা হয়নি।
সিসিকের সচিব বদরুল হক জানান, ‘ব্যাঙ্কারদের নিয়ে এরকম একটি বৈঠক হয়েছে বলে আমি শুনেছি। তবে আমি অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলাম না।’
প্রসঙ্গত, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১০০ বছর আগে সিলেট সফরে এসেছিলেন। তার আগমনের শতবর্ষ পূর্তিতে সিলেটে আয়োজন করা হবে ‘রবীন্দ্র শতবর্ষ স্মরণ উৎসব’। ৭ ও ৮ নভেম্বর দুদিনব্যাপী উৎসবের সমাপনী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন বলে জানান আয়োজকরা।
গত বৃস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘রবীন্দ্রনাথ শতবর্ষ স্মরণ উৎসব পর্ষদ’-এর উদ্যোগে প্রশাসনের সঙ্গে এক প্রস্তুতি সভায়ও এমন তথ্য জানানো হয়। সিলেট সার্কিট হাউজে পর্ষদের আহ্বায়ক, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ^কবির এই স্মরণ উৎসবের নামে এখন চলছে নিরব চাঁদাবাজি। সিসিক ঠিকাদারদের কাছ থেকে জোর পুর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা মেয়রের হুমকির কারণে বাধ্য হচ্ছেন চাঁদা দিতে। এক ব্যবসায়ী জানালেন, তার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন মেয়র আরিফ। টাকা না দিলে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন হবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন। সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে উৎসবকে সামনে রেখে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে। এ যেনো রবীন্দ্র স্মরণ উৎসব নয়, চাঁদাবাজির উৎসবে পরিণত হয়েছে।