রবীন্দ্র স্মরনোৎসবে আরিফের হয়ে কাজ করছেন লিটন…….! – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রবীন্দ্র স্মরনোৎসবে আরিফের হয়ে কাজ করছেন লিটন…….!

প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৯

প্রতিদিন প্রতিবেদক : সিলেটে রবীন্দ্র স্মরনোৎসব উদযাপন কমিটি নিয়ে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে সংস্কৃতিকর্মীদের। ইতোমধ্যে সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে পরিষদ থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সমাবেশ করেছে সিলেটের সংস্কুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজ। এই সব কর্মসূচি থেকে রবীন্দ্রনাথ এবং বাঙ্গালী সংস্কৃতি বিদ্বেষী, হত্যামামলার আসামী আরিফুল হক চৌধুরীরসহ জামাত-বিএনপির এজেন্টদের পরিষদ থেকে বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

এদিকে,সংস্কৃতি কর্মীদের আন্দোলনের মুখে কথিত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সাবেক জাসাস নেতা আমিনুল ইসলাম লিটন পদত্যাগ করলেও তিনি পরিষদের সকল কার্যক্রমে জড়িত রয়েছেন- এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি পরিষদ গৃহিত সকল কর্মসূচীর বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিষদে যুক্ত একজন সদস্য বলেন, ব্যস্থতার কারণে সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বেশি সময় দিতে না পারায় লিটন সেটি পুষিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়রের নির্দেশে চাঁদা আদায়ের কাজও করছেন লিটন। বিষয়টি সংস্কৃতি অঙ্গণে ছড়িয়ে পড়ায় ফুঁসে উঠছেন সংস্কৃতিকর্মীরা। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আজ থেকে দু’দিনব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে-আজ বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদমিনার প্রাঙ্গণে গণসাক্ষর এবং কাল বৃহস্পতিবার সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান।

জানাগেছে, রবীন্দ্র স্মরণোৎসবে এখনও আছে লিটন! যদিও কাগজে পদত্যাগ,তবে কর্মে বহাল । হিসেব নিকেষ আর অনুষ্ঠান সবই এখনও তার দখলে। সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ডান ধরে রেখেছেন ঠিকই। প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল তার গায়েই লাগছেনা-গর্ব ভরে এমন কথাও নাকি বলেন উঁচু গলায় । বহুল আলোচিত বিতর্ক “৮ নভেম্বর সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া”। সেই বিতর্কের জন্মদাতা আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন প্রতিবাদের মুখে পদ থেকে পদত্যাগ করলেও কাজ করছেন ঠিকই। রবীন্দ্র স্মরণোৎসব উদযাপন পর্ষদের একটি সুত্র বলছে, যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর লিটন যেসব কর্মে জড়িত ছিলেন, পদত্যাগের পর তিনি একই কর্ম করে যাচ্ছেন । আরিফুল এ বিষয়ে তাকে সহযোগীতা করছেন ।
উৎসবকে সামনে রেখে চলছে নীরব চাঁদাবাজি । সিসিক ঠিকাদারদের কাছ থেকে জোর পুর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে । বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা মেয়রের হুমকির কারনে বাধ্য হচ্ছেন চাঁদা দিতে । এক ব্যবসায়ী জানালেন, তার কাছে দশ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেছেন মেয়র আরিফ । টাকা না দিলে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন হবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন । সুত্র জানায়, ইতিমধ্যে উৎসবকে সামনে রেখে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়েছে । নগরীর আলোচিত এক ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ নিয়ে চাঁদা দিতে হয়েছে । “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান” এই শব্দকে ব্যবহার করে চাঁদাবাজির এই মহোৎসব চলছে । এ ব্যাপারে সিসিক মেয়র ও রবীন্দ্র স্মরণোৎসবের সদস্য সচিব আরিফুল হকের বক্তব্য জানতে তার সেলফোন নাম্বারে বারবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে নি । তাই তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয় নি।