রসুল (সা.) মহান চরিত্রের অধিকারী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রসুল (সা.) মহান চরিত্রের অধিকারী

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০২১

রসুল (সা.) মহান চরিত্রের অধিকারী

আল্লামা মাহমূদুল হাসান

বিশ্বরসুল (সা.)-এর সঙ্গে সাহাবিদের গভীর সম্পর্ক, স্বভাব-চরিত্রগত সাদৃশ্য ও মিলের কথা আল কোরআনেও বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল। তার সহচররা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদের রুকু ও সিজদায় দেখতে পাবেন। তাদের মুখমন্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে।’ সুরা ফাতাহ আয়াত ২৯।

এ আয়াতে বিশ্বরসুল (সা.)-এর সাতটি গুণের কথা বর্ণিত আছে, তার একটি ছাড়া অবশিষ্ট ছয়টিতে সাহাবিদের শামিল করা হয়েছে। অর্থাৎ অবশিষ্ট ছয়টি গুণ যেমনভাবে বিশ্বরসুলের মধ্যে বিদ্যমান ছিল তেমনি বিদ্যমান ছিল সাহাবিদের মধ্যেও। এর মধ্যে কোনো কোনো গুণে কোনো সাহাবির বিশেষত্বও ছিল।
যেসব গুণের সঙ্গে সাহাবিরা রসুলের সাদৃশ্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তার অন্যতম একটি হলো কুফর ও কাফিরের বিরুদ্ধে দৃঢ়তা। তাওহিদ ও ইমানের বিরুদ্ধে কাফিরদের বাদ-প্রতিবাদ, নারী, বাড়ি, অর্থ-সম্পদ, পদমর্যাদা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রলোভনসহ সব ধরনের কাফিরি প্রচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে ভ-ুল করে বিশ্বনবী কুফর ও কাফিরের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাচীর হয়ে থাকেন। প্রথম খলিফার বিরুদ্ধে মালিক ইবনে নুওয়াইরার নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রদ্রোহীদের মোকাবিলায় হজরত আবুবকর সিদ্দিক (রা) রসুল (সা.)-এর ভূমিকা পুরোপুরি পালন করেন। অবশ্য এ গুণে হজরত ওমর (রা.)-এর বৈশিষ্ট্য ছিল সর্বাধিক। স্বয়ং রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দীনের ব্যাপারে সবচেয়ে বজ্রকণ্ঠ হচ্ছে ওমর।’ আয়াতে উল্লিখিত একটি গুণ হচ্ছে দয়া-মায়া, ক্ষমা-উদারতা সহানুভূতি ও সহনশীলতা। রসুল (সা.)-এর এ গুণের কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। কেবল মুসলমানরাই নয়; বরং তাঁর এ গুণে মক্কার কাফির-মুশরিকরাও ছিল মুগ্ধ। তাঁর এ গুণের কথা আল কোরআনে এভাবে ব্যক্ত হয়েছে-

‘আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।’ মহানবী (সা.) ইরশাদ কলেছেন, ‘সচ্চরিত্রের পরিপূর্ণতার জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি।’

তাঁর এ গুণের চর্চা আজও ইতিহাসকে অলঙ্কৃত করে আছে। তাঁর এ গুণের প্রতিফলন সাহাবিদের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়। তবে এ ক্ষেত্রে হজরত আবু বকরের বিশেষত্বের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে কোমল ও দয়ার্দ্রচিত্ত হচ্ছে আবু বকর।’ আয়াতে রসুল (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের গুণ হিসেবে নামাজকে উল্লেখ করা হয়েছে। কেবল ফরজই নয়, নফল নামাজের প্রতি রসুল (সা.)-এর আকর্ষণ লক্ষ্য করার মতো। তিনি একদিন হজরত আয়েশাকে ‘হে আবু বকরের কন্যা!’ সম্বোধন করে তাঁর ঘরে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়ার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করেন। স্ত্রী হিসেবে হজরত আয়েশার অধিকার সর্বজনস্বীকৃত। কিন্তু বিশ্বরসুলের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা এ ব্যাপারে ছিল না। তিনি ভদ্রতার নিদর্শন সৃষ্টি করেন এবং স্বামীর চাহিদা ও স্ত্রীর অধিকারের ঊর্ধ্বে আবু বকরের অবদানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক হজরত আয়েশাকে অনুপ্রাণিত করে অনুমতি লাভের পর সমগ্র রাত নফল নামাজে কাটিয়ে দেন। এত দীর্ঘ সিজদায় নতশির থাকেন যে, হজরত আয়েশার মনে অনবরত বিভিন্ন আশঙ্কার উদ্রেক হয়। কিন্তু যখন সিজদা থেকে শির উত্তোলন করেন তখন তাঁর সব আশঙ্কার অবসান ঘটে। তবে তিনি দেখতে পান রসুলের চেহারা অশ্রুসিক্ত, চোখের পানিতে বুক ভিজে আছে। বিশ্বরসুলের নামাজের প্রতি কেমন আগ্রহ ছিল তা এ থেকে প্রতীয়মাণ হয় যে, নামাজ তরক দূরের কথা; তিনি কখনো জামাতও তরক করেননি। সর্বোপরি তিনিই ইমামতি করতেন।

লেখক : আমির, আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।
সুত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন