রাজনগরে সাত ইউপিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রাজনগরে সাত ইউপিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

প্রকাশিত: ৭:১২ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০১৬

রাজনগরে সাত ইউপিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

up nerbachonমৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে সাতটিতেই চাপে আছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কারণ এসব ইউপিতে দলটির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আগামী শনিবার এখানে নির্বাচন। জেলা আওয়ামী লীগ ওই সাত প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে।
ফতেহপুর ইউপিতে মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগের জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক নকুল চন্দ্র দাশ। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা মতিউর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। মতিউর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নের সব কেন্দ্রে আমার ভোট আছে। জনগণ যারে ভোট দিব। সেই পাস করবে।’
নকুল চন্দ্র দাশ বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।’
উত্তরভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের উপজেলা কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল আজিজ। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ শাহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘জীবনভর আওয়ামী লীগ করলাম। জোট সরকারের সময় হামলা-মামলার শিকার হলাম। তৃণমূলে ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জন সমর্থন দিল। তবু দলের মনোনয়ন পেলাম না। এখন জনতা ইলেকশনে থাকতে বলছে। তাই আছি।’
মুন্সিবাজারে মনোনয়ন পেয়েছেন যুবলীগ নেতা ছালেক মিয়া। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান ছাতির মিয়া। পাঁচগাঁওয়ে দলটি মনোনয়ন দিয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মিহির কান্তি দাসকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান শামছুন নূর আহমদ।
টেংরায় সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল কাদির মোত্তালিব মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান টিপু খান। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন বাদই দিয়েছিলাম। কিন্তু এলাকার মানুষের কান্না দেখে প্রার্থী হয়েছি। আমার মার্কা যাই হোক, লোকজন আমাকে আওয়ামী লীগ মনে করেই ভোট দেবেন।’
কামারচাকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান চেয়ারম্যান নজমুল হক মনোনয়ন পেয়েছেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। নজমুল হক বলেন, ‘ বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় আমার ক্ষতি হবে না।’ আতাউর রহমান বলেন, ‘মানুষ নৌকায় ভোট দিতে চায়। কিন্তু যাঁকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁকে দিতে চায় না বলে আমি প্রার্থী হয়েছি।’
মনসুরনগরে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মিলন বখতকে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সাদিকুর রহমান।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল