রাজনগর ৮নং মনসুরনগ ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়মের ১৭টি অভিযোগ দায়ের করেছেন সদস্যরা

প্রকাশিত: ১০:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০

রাজনগর ৮নং মনসুরনগ ইউপি চেয়ারম্যানের অনিয়মের ১৭টি অভিযোগ দায়ের করেছেন সদস্যরা

বিশেষ প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন বখত এর বিরুদ্ধে বিজিএফ কার্ড, করোনা মহামারি উপলক্ষে ২ হাজার ৫ শত টাকা বিতরণে অনিয়ম ও আত্নসাৎ, সরকারি গুদামের কৃষকদের ধান বিক্রির ব্যপারে কৃষি কার্ড নিয়ে বানিজ্য, হতদরিদ্র কর্মস্থান কর্মসূচি অনিয়ম, এলজিএসপির বাণিজ্য, আরএমপি প্রজেক্ট মহিলা নিয়োগ, সরকারি কৃষি প্রজেক্টের ভর্তুকি, জেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত করোনা মহামারিতে ত্রাণ বিতরণ, ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজের বিল ইউপি সদস্যদের নামে করে অর্থ আত্নসাৎ সহ গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ইউপি সদস্যরা। গত মঙ্গলবার (২ জুন) অভিযোগটি দায়ের করেন উক্ত ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা। লিখিত অভিযোগে জানাযায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইউপি সদস্য আবদুর রহিম রেনুর ০৬ নং ওয়ার্ডের হত দরিদ্রের ৫০ টি নামের তালিকা ছিল। চেয়ারম্যান সে চাল না দিয়ে মাস্টার রোল তৈরি করেন। এখন ইউপি সচিবের মাধ্যমে মাস্টার রোলে স্বাক্ষর করার জন্য ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম রেনুকে চাপ সৃষ্টি করছেন। ভূমিউন্নয়ন কর, ইজিবি, আরএমপি, এলজিএসপি, যুব উন্নয়ন কর্মসূচী, ভিজিএফ, কৃষি কার্ডের নাম লিস্ট করা, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ধান দেওয়া, বয়ষ্ক ভাতায় বয়ষ্ক বা বিধবা নয় এমন ব্যাক্তিদেরকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আরএমপি প্রজক্টের মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতি ভঙ্গ করে তার সিন্ডিকেট বাহিনীর প্রধান ও অন্যতম সদস্য পরকিসকে দিয়ে সবার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নগদ অর্থ ঘুষ নেন। অত্র ইউনিয়নে পরিষদের সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন ৩নং ওয়ার্ড, কার্তিক দেব ৫নং ওয়ার্ড, জাহাঙ্গির মিয়া ৭নং ওয়ার্ড, সবজ্জ্বুল খান ৪নং ওয়ার্ড, হাজেরা বেগম ১,২ ,৩ নং ওয়ার্ড, রোশনা আক্তার ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ড, ইউনিয়নের উদ্যোক্তা অমৃত দেব, চেয়ারমেনের পালিত পেটুক বাহিনী পরকিস মিয়া, অলিদ মিয়া,রতন দাশ,শামাউন আহমদ, নাইয়র মিয়া, লেচু মিয়া লোকদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদে আসা সরকারি ত্রাণ করোনা মহামারি মানবিক সহায়তা প্রকল্পে প্রধাণমন্ত্রীর দেওয়া ২ হাজার ৫ শত টাকা ও প্রত্যেক মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের টাকা, বিজিএফ এর চাল সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে সাধারণ জনগন কে না দিয়ে তার নিজের কিছু লোকদের দিয়ে বাকি সবটুকু আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা প্রকল্পের তালিকায় বয়ষ্ক ভাতা প্রাপ্ত শফা উদ্দিন ১ নং ওয়ার্ডের তার নাম দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পায় চেয়ারম্যানের মনোনিত সচ্ছল একজন ব্যাক্তি ওয়ার্ড মেম্বার এ বিষয়ে কিছু জানেন না। মহলাল গ্রামের একই পরিবারের লোকমান মিয়া, জামাল মিয়া, কাওছার মিয়া মানবিক সহায়তা প্রকল্পের টাকা পায়। করোনা মহামারি উপলক্ষে রেডক্রিসেন্টের দেওয়া ত্রাণ তার সিন্ডিকেটদের নিয়ে সম্পূর্ণ আত্মসাৎ করেন। চেয়ারম্যান তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃষকদের কার্ড কিনে নেন। রহস্য জনক ভাবে লটারিতে চেয়ারম্যান এবং তার সিন্ডিকেটের কেনা কার্ড গুলো বার বার উঠে আসে। ২০১১ সাল এ পর্যন্ত এসআর এর টাকা প্রাপ্তর ব্যাপারে তার সিন্ডিকেট ছাড়া বাকি ইউপি সদস্যদের সাথে কোন আলোচনা করেননি। এসআর এর টাকা তিনি নিজের খাতে ব্যয় করে থাকেন। চেয়ারম্যান নিজ ক্ষমতা খাটিয়ে সরকারি টাকার অপব্যবহার করে কুলাউড়া রোডে চাটুরা কেনেল নামক স্থান থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ডালাই একক টেন্ডারের মাধ্যমে নিজ সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণ করেন। ঐ রাস্তার সাইট ভরাটের কাজ হতদরিদ্র ৪০ দিনের কর্মর্সূচি মাধ্যমে সাইট ভরাট করান যা সরকারি অর্থ ব্যয়ে করা হয়। মৌলভীবাজার, রাজনগর-৩ আসনের এমপির দেওয়া ঈদ উপহার ১ টন চাল ও ১০ হাজার নগদ টাকা হতদরিদ্র একশত জনকে দেওয়ার কথা, কিন্তু চাল বিতরণে অনিয়ম করা হয় ও কেউ নগদ টাকা পাননি। প্রবাসীদের দেওয়া নগদ ৪ লক্ষ টাকা চেয়ারম্যান বিতরনের বিষয়টি তার সিন্ডিকেট ছাড়া ইউপি আনান্য সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামীলীগের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দকে অবগত করেননি। স্বাধীনতা যুদ্ধে চেয়ারম্যানের চাচা জাহিদ বখত ওরফে আবুল বখত পিস কমিটির সদস্য ছিলেন। চেয়ারম্যান এর আত্নীয় স্বজন অনেকেই জামায়াত এর সক্রিয় কর্মী। সালিশি টাকা আত্নসাৎ, আমেরিকা প্রবাসি জমি সংক্রান্ত ব্যাপারে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে। ইউনিয়নের দুর্নীতি করে তার বাড়িতে আলিশান ঘর নির্মাণ করেছেন। বড় অংকে ঘোষের বিনিময়ে উত্তারধীকারি সার্টিফিকেট দেন পঞ্চেশ্বর গ্রামের মৃত হরেন্দ্র বিশ্বাসের পূত্র ও বড়কাপন গ্রামের মৃত বষ্কিম চক্রবর্তির ছেলে সরোজ চক্রবর্তি ছেলেকে। তার সহযোগী ইউপি সদস্য মামুনুর রশিদ মামুন ৩০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণ করেছেন। একই বাড়িতে ২টি ডীপ টিউবওয়েল (গভির নলকূপ) স্থাপন করেন। এছাড়াও সরকারি কৃষি প্রজেক্টের ভর্তুকি ধানের মেশিন, সেচ পাম্প, ভুয়া কৃষকের নাম ব্যবহার করে নিজে আত্নসাৎ করেন। তাছাড়াও অনেক অভিযোগ রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান সহ তার সেন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ইউপি চেয়াম্যানের ক্ষমতার দাপটে জনগন অতিষ্ট। চেয়ারম্যানের ভয়ে এলাকাবাসি মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। এ ব্যাপারে অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল