রাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস করছে: মির্জা ফখরুল – দৈনিক সিলেটের দিনকাল

রাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস করছে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ১:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০১৬

রাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস করছে: মির্জা ফখরুল

mirza fokrulরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় সন্ত্রাস করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অভাবেই দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থান হচ্ছে। সবকিছুর মুলে রয়েছে দেশের গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি। গণতন্ত্র নেই বলে আজকে এই ধরনের কার্যকলাপ, হিং¯্রতা, উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সুতরাং আসুন সবাই একত্রিত হয়ে অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করি।’
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির ‘সাগর-রুনী’ মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেমোক্রিটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই আশঙ্কার কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে দেশের জন্য ‘ভয়াবহ অশনিসংকেত’ অভিহিত করে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিবর্তিত হতে পারে। শাসক দল তার চিরায়ত একদলীয় শাসন প্রবর্তনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছে। তখন ছিলো পার্লামেন্ট ১১ মিনিটের মধ্যে, আর এখন যুগ পাল্টেছে, সময় পাল্টেছে; তাই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার প্রয়োজন নেই, পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রনে নিয়েছে তারা।’
আজকে বাংলাদেশে যা চলছে, তা দেশের জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত। আমাদের এই দেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে, পাকিস্তানের মতোই মুহুর্মুহূ বোমার শব্দে হাজার হাজার মানুষ নিহত হবে অথবা সিরিয়ার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে চলে যাবে। এই বিষয়গুলো আমাদের গভীরভাবে ভাবা উচিত:, বলেন বিএনপি মহাসচিব।

দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রখ্যাত সাংবাদিক প্রাক্তন মন্ত্রী আনোয়ার জাহিদের ৮ম মৃতু্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি।

সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকতে জঙ্গিবাদকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এজন্য তারা একটি অত্যাচারের নিকৃষ্ট নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রথম দিকেই জঙ্গিবাদ দমনের নামে ১৬ হাজার মানুষ গ্রেফতার করা হলো। পরে তারাই বললো, ১৮৯ জন জঙ্গি ধরা পড়েছে। তাহলে বাকি ১৫ হাজার কোথায়? আবার যাদের ধরা হচ্ছে, তাদের কেউই আদালতের মুখ দেখছেনা বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হচ্ছে।’

একটি অবাধ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই সব সংকটের সমাধান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জাতীয় ঐক্যের ডাককে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান দলটির এই মহাসচিব।

“তিনি (খালেদা জিয়া) জাতীয় ঐক্যের যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা সম্পূর্নরূপে তার অন্তর থেকে আসা। জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে, জাতীয় নেতা হিসেবে তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। একবারও ভাবেননি, এখানে দলীয় কোনো ব্যাপার আছে কী না। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় কে যাবে, কে যাবেনা এটা বড় কথা নয়। জাতীকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে”, বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের ডাক নিয়ে কোনো ভ্রান্তির অবকাশ নেই। সুতরাং এই আহ্বানে যারা কথা বলতে চান, শামিল হতে চান তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এখানে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। তাই বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা না করে বিএনপি নেত্রীর যে আকাক্সক্ষা তার একমত হওয়া উচিত।’

জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া না দেওয়ায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কখনো জাতিকে রক্ষা করার আহ্বানে সাড়া দেয়নি। এজন্যই তারা এই আহ্বানকে উপেক্ষা করেছে। শুধু উপেক্ষাই করেনি, জাতিকে বিভক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে।’

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তিনি ছাড়া এই উগ্রবাদ সংকট, গণতান্ত্রিক সংকট-এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করার এই মুহূর্তে কোনো নেতা নেই। অতীতে প্রমান করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন।’

এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী বার্তা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, এসপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ,  ডিএল এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুউদ্দিন মনি, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

ফেসবুকে সিলেটের দিনকাল